অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের এক অবাক করা সাঁতারু মাইকেল ফেল্পস

  • রোকেয়া হায়দার

যুক্তরাষ্ট্রের এক অবাক করা সাঁতারু। ২০০০ সালে এথেন্সে ১৫ বছর বয়সে অলিম্পিক সাঁতার শুরু এবার যবেন রিওতে পঞ্চম অলিম্পিকে – যার তিনটি রেকর্ড হয়তো ছাড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে। অলিম্পিকে সবচাইতে বেশী পদক জিতেছেন ২২টি। সবচাইতে বেশী সোনার পদক পেয়েছেন ১৮টি আর একটি অলিম্পিকে সবচাইতে বেশী সোনা জয়, ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিকের ৮টি সোনার পদক জয়ী মাইকেল ফেল্পস।

২০১২ সালে লণ্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কোন পদক জয় তার কাছে সবাচইতে স্মরণীয় ছিল? তিনি বলেছিলেন, ২০০৪ সালে এথেন্সে ৪শো মিটার মেডলীতে সোনা জয় । তার কথা – ‘সেটা যে কি কঠিন ছিল। ২০০৪ সালে ৪ শো মিটার মেডলীতে আমার প্রথম সোনার পদক । মানে কি জানেন, সারা জীবন ধরে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া, লক্ষ্য একটিই - সোনা জয় করা, অবশেষে সোনার পদক জয়, মঞ্চে সবার উপরে দাঁড়ানো, জাতীয় সঙ্গীত কানে বাজছে, সে ছিল আমার জীবনের এক পরম সৌভাগ্য’।

আর লণ্ডন গেমসে ফেল্পসের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিক পদক জয়ের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি করা। গোড়াতে হতাশ হয়েছেন। ৪শো মিটার মেডলীতে চতুর্থ স্থানে ছিলেন। তারপর অবশ্য আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। ২শো মিটার মেডলীতে সোনা জিতে নতুন উদ্যমে জলে নামলেন। তখন ২৭ বছর বয়সে প্রতিযোগিতার পুল থেকে বিদায় নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিশোর তরুনদের সাঁতারে উত্সাহিত করা, পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার নিজস্ব ফাউন্ডেশনের কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন সে কথাই শোনা গিয়েছিল। সবচাইতে বড় কথা যেমন ইচ্ছা সেইভাবে জীবনটাকে উপভোগ করবেন। ফেল্পসের বক্তব্য – ‘আমার পরবর্তী জীবনটা কেমন হবে তা নিযে কোন ভয় ভাবনা নেই;। আমি মনে করি ভালই হবে। আমি ২০বছর ধরে সাঁতার কেটেছি। এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ সেদিকেই ছিল। যা কিছু পাওয়ার সবই পেয়েছি। এবং এখন আমার বিশ্বাস ইচ্ছে করলেই – মন দিয়ে চেষ্টা করলে যা চাইবো সবই করতে পারবো’।

২০১২ সালে লণ্ডন অলিম্পিকের সাফল্যের স্মৃতি চির উজ্জ্বল ….তবে বর্তমানকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে মাইকেল ফেল্পস। সামনে রিওর জলরাশি তাকে হাতছানি দেয়। আরও কিছুদিন যাক না কেন। অলিম্পিকের আর এক ইতিহাস গড়বে আমেরিকান সাঁতারু মাইকেল ফেল্পস। ৩১ বছর বয়সে তার সেই নতুন রেকর্ড আগামী দিনের সাঁতারুদের উৎসাহ যোগাবে সন্দেহ নেই।

XS
SM
MD
LG