অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মোদী সরকারের আমলে লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশ মিয়ানমারসহ ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ


নরেন্দ্রো মোদীর প্রশাসন কর্তৃত্ব ভারতের পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তনের কারনে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্বে বানিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারিত করতে পারছে। মোদী ওবামা সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে শিক্ষা-বানিজ্য সহ নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন কিছু চুক্তি হবে বলে মন্তব্য করেন, Center for Strategic and International Studies (CSIS) এর যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বক্তারা।

"US-India Economic Ties and the Final Modi-Obama Summit" শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা বলেন, মোদী প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতির সংস্কারের কারনে ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে বানিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারছেন; ভারতীয় পন্যের বাজার যেমন সম্প্রসারিত হচ্ছে গোটা বিশ্বে, তেমনি ভারতে নানা খাতে বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ আগ্রহীরা। আর এর এর ফলে, সবচেয়ে বেশী লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশ মিয়ানমারসহ ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী। যেমনটি বলছিলেন অনুষ্ঠানের বক্তা, Confederation of Indian Industries (CII) এর প্রেসিডেন্ট নাওশাদ ফোর্বস।

“একটি মহাসড়ক হচ্ছে মিয়ানমারের সিটওয়ে থেকে বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা গিয়ে শেষ হচ্ছে। এর ফলে নাটকীয় পরিবর্তন হবে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের। তবে এর বাস্তবায়ন হওয়াটা একটু কঠিন। কারন কাস্টম ও সীমান্ত সমস্যা সমাধান বেশ জটিল প্রক্রিয়া। গত ২ বছর যাবৎ এর সমাধানের চেষ্টা চলছে। বেশ উন্নতি হয়েছে- বাংলাদেশ ভারতের সড়ক যোগাযোগে, এখন বাংলাদেশ মিয়ানমারের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের কাজ চলছে”।

আলোচনায় এ্যাপোলো হসপিটালস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভইস চেয়ারপার্সন শোবানা কামিনেনি বলেন মোদী প্রশাসনের পরাষ্ট্রনীতির কারনে শুধুমাত্র নিকটতম প্রতিবেশীই নয়, অগ্রসরমান অর্থনীতির বড় শক্তি চীনও ভারতে বিনিয়োগ করছে বিপুলভাবে।

শোবানা কামিনেনি বলেন , “ভারত থেকে কাজাখস্তান হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত ৬ লেনের বিশাল মহাসড়ক হচ্ছে। চীন বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে সোলার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে”।

নাওশাদ ফোর্বস বলেন, মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয়দের মনে অনেক আশা জাগে যে দেশে বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আসবে। পরিবর্তন যে আসেনি তা নয়। অর্থনীতির ওপর জোর দিয়ে মোদী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নেন। আমাদের এখন বানিজ্য পরিবেশ অনেক ভালো হযেছে।

নাওশাদ ফোর্বস, “প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন সেকথা। ২ বছরে বিশ্বের শীর্ষ ৫০ বানিজ্য সফলের তালিকায় আসতে তিনি টার্গেট দিয়েছেন। তাতে সফল হয়েছি আমরা”।

তিনি বলেন এই সরকারের সবচেয় ইতিবাচক কাজ হচ্ছে কম্পিটিটিভ ফেডারালিজম। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে এখন কে কতো ভালো কাজ করতে পারে তার প্রতিযোগতা চলছে যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে তত্বরান্বিত করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভারত বানিজ্য সম্পর্ক বিষয়ে ফোর্বস বলেন, “দু দেশের বানিজ্য সম্পর্ক এ্যাতো ভালো যে ১০ হাজার কোটির দ্বিপাক্ষিক বানিজ্যকে ৫০ হাজার কোটিতে নিতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। এটা বড় এটা টার্গেট এবং তা করার লক্ষ্যে দুইপক্ষ ঠিকমত কাজ করলে তা সম্ভব”।

শোবানা বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রে বড় হয়েছি। আমার বাবা ভারতে ফিরে গিয়ে এ্যপোলো হাসপাতাল করেন যুক্তরাষ্ট্রে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র নানাভাবে সহায়তা করে এ্যপোলো গঠনে। এপোলোর সফলতা দেখেই বোঝা যায় ভারতের বানিজ্য বিষয়ক অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কতোটা ইতিবাচক”।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন Woodrow Wilson International Center for Scholars রেমন্ড ই ভিকারী। তিনি বলেন, “ভারতের ৫৪ শতাংশ জনসংখ্যা এখন ২৫ বছরের কম বয়সী। তাদের অনেকেই কম্পিউটারে দক্ষ। তারা এ্যাপল এ্যামাজন সিস্কো সহ বড় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্যে আকর্ষনীয় জনশক্তি। এটা বড় একটা বিষয় যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দুই পক্ষ বিবেচনায় রেখে দু দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক পাকাপোক্ত করবেন”।

রেমন্ড ই ভিকারী বলেন, “মোদি ও ওবামা দুজনই ভারতকে শুধু আঞ্চলিকত নেতা হিসাবে নয়, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গনতন্ত্র হিসাবে জানেন অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে; তাই এই সামিট দু দেশের সম্পর্কে আরো উন্নয়ন ঘটাবে এবং গুরুত্বপূর্ন কিছু চুক্তি হবে”।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রিচার্ড রুশো, মোদী প্রশাসনের কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে শক্তিশালী”।

২ বছরে নরেন্দ্রো মোদীর ৪র্থ এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সম্পর্কে নানা বিষয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা দূর হবে।

XS
SM
MD
LG