অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাচারকারীদের ছেড়ে যাওয়া এক নৌযানে শতশত অভিবাসীকে খাবার দাবার ও পানি দেওয়া হয়েছে


মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, এক নৌযানে শত শত অভিবাসীকে খাবার দাবার ও পানি দেওয়া হয়েছে। পাচারকারীরা তাদেরকে ছেড়ে চলে যায়। ওইসব মানুষজন বাংলাদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

গত শুক্রবার নৌযানটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার মধ্যে পানি ঢুকছিল। ধারণা করা হচ্ছে যে, তাদের বেশীরভাগই বার্মার রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা এবং তার সম্ভবতঃ মালয়েশিয়ায় যাওয়া চেষ্টা করছিল।

মঙ্গলবার ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাকান প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লেওয়া বলেন, থাই-মালয়েশিয়া সীমান্তে পাচারকারীদের পাচার কাজের জন্য অস্থায়ী শিবিরগুলোর সন্ধান পাওয়া এবং তা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এখন অন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে তারা যেখান থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানেই নামতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট্ট টিম বাংলাদেশে অবস্থিত, তারা জানতে পেরেছে যে মধ্যস্থতাকারীরা এখনও মায়ানমার বা বাংলাদেশে যাতে অবতরণ করতে পারে তার জন্য লোকজনের কাছ থেকে টাকাপয়সা নিচ্ছে। তার মানে সমুদ্রে এখনও মানুষ রয়েছে। আমরা মনে করি বঙ্গোপসাগরে নৌযান আছে। তবে আমরা নিশ্চিত নই’।

ক্রিসের তৃণমুল পর্যায়ের বেসরকারী সংগঠন যারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত মাসে কমপক্ষে ৫ হাজার ৬শো রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী পাঁচটি দেশের উপকুলে নেমেছে। তার মানে মায়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে যারা যাত্রা করেছে তাদের মধ্যে এখনও কয়েক হাজার মানুষের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বার্মায় বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, এবং দেশের ভিতরেই যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায় তাদের ঘরবাড়ী হারাচ্ছে তাদের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ তেমন দেখা যায়না।

সম্প্রতি পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। থাইল্যাণ্ড ও মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের গনকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং সাহায্য সংস্থাগুলো হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে সমুদ্রে পানি ও খাবারদাবার ছাড়া যারা নৌযানে ভাসছে কোন দেশেই তাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

ব্যাংকক সম্মেলনে ছিলেন হলিউডের চিত্র তারকা ম্যাট ডিলন। তিনি রোহিঙ্গাদের অবস্থাকে তার কথায় ‘দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন এ হচ্ছে মানুষের সৃষ্টি এক সমস্যা যার সমাধান সম্ভব। তার বক্তব্য –‘এই সব মানুষ কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে শিবিরে বসবাস করছে না। এ হচ্ছে এক মানবিক সংকট। মানুষই তাদের সহনশীলতার অভাব, ভয়ভীতি এবং অন্যের সঙ্গে এক জায়গায় বসবাস করতে চায় না বলেই এই সংকট দেখা দিয়েছে’।

ডিলন বলেন, তিনি একমাস আগে এক রোহিঙ্গা মতাদর্শ সংগ্রামীর পক্ষ থেকে আকুল আবেদনের ফলে শিবিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আরও বলেন যে, ‘তারা তো রাষ্ট্রহীন অবস্থায় থাকতে পারে না’।

এই দেশান্তরণের প্রকৃত কারণ খুঁজে বার করার জন্য আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আরও আলোচনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। Humanitarian Policy Groupর রিসার্চ ফেলো লিলিয়ান ফ্যান বলেন, মায়ানমার এখন মালয়েশিয়া ও আসিয়ানের অন্যান্য দেশের তরফ থেকে একটা চাপের মধ্যে রয়েছে। তার বক্তব্য – ‘আসিয়ান হচ্ছে সকল পক্ষের মতৈক্যভিত্তিক এক সংগঠন। তবে একইসঙ্গে ওই অঞ্চলের অনেক শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী প্রাক্তন রাষ্ট্র প্রধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী তারা বলছেন – ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোন ঘটনায় হস্তক্ষেপ না করার এই নীতি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না’।

এদিকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মায়ানমারের প্রতি রাষ্ট্র পরিচয়হীন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমুলক আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, মায়ানমারে সাফল্যের সঙ্গে গনতন্ত্রের উত্তরণের জন্য এ হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নীচের লিংকে এ বিষয়ক ভিডিও আছে:

https://www.facebook.com/voiceofamerica/videos/10152961298973074/?fref=nf

XS
SM
MD
LG