অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মানব পাচার ও জোরপূর্বক শ্রমের নিরিখে সারা বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ হিসাবে যে দেশগুলোকে বিবেচনা করা হয় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে মিয়ানমারের নাম এসেছে সেই তালিকায়। আর সেই কারনে মিয়ানমার সরকার, আইনপ্রনেতা এবং মানবাধিকার কর্মীরা মানব পআচার রোধে সোচ্চার হয়েছেন। এ নিয়ে পল ভ্রিয়েজের Paul Vrieze রিপোর্ট শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন ও শেগুফতা নাসরীন কুইন।

বাষয়টি মিয়ানমারের গনতান্ত্রিক সরকারের জন্যে বেশ বড় চ্যালেঞ্জের। দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির দায়িত্ব এখনো শক্তিশালি সেনা কতৃপক্ষের ওপর। আর ওই দেশে মানব পাচারের সঙ্গে; কথিত আছে শিশুদেরকে সেনা হিসাবে নিয়োগসহ বিশেষ কয়েক ধরনের মানবপাচারে; নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সংশ্রব রয়েছে।

মানব পাচার বিষয়ে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং এ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মার্কিং এ মিয়ানমারকে ৩য় ধাপে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সঠিক বলে আখ্যা দিলেও মিয়ানমার সরকার এর সঙ্গে একমত নন। যেমনটি বলছিলেন মিয়ানমারের National League for Democracy (NLD) সরকারের মুখপাত্র জ হিতে Zaw Htay.

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিৎ, পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। আমাদের দেশের নাম ২য় ধাপে থাকার সময় যা ছিল এখনো তা রয়েছে”।

তিনি অভিযোগ করেন মিয়ানমারকে নীচের ধাপে নেয়ার যৌক্তিক কোনো কারন নেই। সাধারনত ওয়াচ লিষ্টে একই ধাপে চার বছরের বেশী কোনো দেশের নাম রাখার নিয়ম নেই। তাই আমাদের দেশকে ৩য় ধাপে নামিয়ে একটা পরিবর্তন দেখানো হয়েছে।

জ বলেন, “আমাদের মানব পাচার বিরোধী প্রকল্পগুলো দক্ষ ও শক্তভাবে চলছে। আগামী বছরগুলো তা আরো সুচারুভাবে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের দেশের নাম অচিরেই ৩য় ধাপ থেকে সরিয়ে নেয়া হবে”।

তবে সরকার সেনাবিহিনীকে পাচার রোধে আরো সক্রিয় হতে বলবে কিনা সে প্রশ্নে তিনি কিছু বলেন নি।

মিয়ানমার পাচার রোধে যে নিম্নতম প্রয়াস নেয়ার কথা তা নিতে ব্যার্থ হওয়ার কারনে যুক্তরাস্ট্রের এ সংক্রান্ত ওয়াচ লিষ্টে তাদেরকে ৩য় ধাপে নামানো হয়েছে। আর এই কারনে মিয়ানমারে যুক্তরাস্ট্রের সাহায্য পাঠানোর পরিমানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

মিয়ানমারের গত বছরের অর্থাৎ সেনা সমর্থিত সরকারের কাজকর্মের ওপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এনএলডির সরকার দায়িত্ব নেয়ার একমাসের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত হয়।

রিপোর্টে বলা হয় মিয়নমারের যে সকল অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছিল সেসব স্থানে সেনাবিহিনী সাধারন নাগরিকদেরকে জোর করে শ্রমে নিয়োগ করে, শিশুদেরকে বলপূর্বক সেনা হিসাবে কাজ করানো হয়। পরে আবশ্য জাতিংঘের সহায়তায় তা কমতে শুরু করে।

নারী পুরুষ ও শিশু শ্রমের অভ্যন্তরীন পাচার এবং থাইল্যান্ড ও চীনে যৌনকর্মীসহ ও শিশু পাচার রোধে মিয়ানমার কতৃপক্ষ ব্যার্থ হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

রাখাইন রাজ্যে গৃহহীন, রাজ্যহীন রাখাইন মুসলমান জনগোষ্ঠির ওপর দেশের সরকারের আচরণ ছিল অমানবেতর। যার ফলে হাজার হাজার মানুষ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য চোরাচালানীদের কাছে নিজেদেরকে সপে দিয়ে নৌকায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে পিছপা হয়নি।

এনএলডি সরকারের মানবাধিকার বিষয়ক সচিব উইন মিন্ট অং স্বীকার করেন মিয়ানমারে পাচার ও চোরাচালান অব্যহত রয়েছে; তবে এর জন্যে তিনি দায়ীঁ করেন গত সরকারের আমল থেকে চলে আসা দারিদ্র, অস্থিতীশীল অবস্থা ও দুর্নীতিকে।

তিনি বলেন, “তবে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্ট যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের পরিস্থিতি অতোটা খারাপ নয়। আমরা ৩য় ধাপ থেকে উঠে আসার চেষ্টা করছি”।

এনএলডি’র আপার হাউজ এমপি খিন মং মিন্ট বললেন, উত্তর মিয়ানমারে সীমান্ত এলাকায় দরিদ্র পরিবারের নারীরা চীনা কৃষকদের বিয়ে করে পাচারের শিকার হচ্ছেন আমাদের পুলিশ শক্ত হাতে তা বন্ধের চেষ্টা করছেন।

“দেশের আইন শৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি আমাদের পুলিশ ও সেনারা পাচার রোধের চেষ্টা করছে। তা অতো সহজ কাজ নয়”।

এনএলডি সরকার এবং তার নেতা, ষ্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি, দেশের মানব পাচার ও চোরাচালান রোধে অগ্রগতি সাধন করতে না পাররায় ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

মানবাধিকার কর্মীরা নিশ্চিত নন ঠিক কি কারনে মিয়ানমারকে ৩য় ধাপে নামানো হয়। মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মী ডেভিড ম্যাথিসন মনে করেন, “এটি পরিস্কার নয় যুক্তরাষ্ট্র আসলে কি টার্গেট করে এটি করেছে”।

কেউ কেউ বলছেন এই ৩য় ধাপে নামিয়ে দেয়ার একটি উদ্দেশ্য হতে পারে মিয়ানমার সরকার যেনো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে নজর দেয়।

XS
SM
MD
LG