অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের নাদিয়া শারমিন পেলেন যুক্তরাস্ট্রের সাহসী নারীর পুরস্কার


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড- আইডব্লিউওসি বা ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারীর পুরস্কার’ পেলেন একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন। শুক্রবার ওয়াশিংটনে পররাস্ট্রমন্ত্রণালয়ে উপ পররাস্ট্রমন্ত্রী হিগিনবটম নাদিয়া শারমিনসহ আরো ৯ সাহসী নারীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

যুক্তরাস্ট্রের পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে রুমভর্তি অতিথিদের সামতে এভাবেই তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে মঞ্চে আসেন বিশ্বের ১০ সাহসী নারী যাদেরকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্যে দেয়া হল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীদের সাহসিকতার জন্য এ পুরস্কার দেয়া হল।

সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসাবে বাংলাদেশের তরুণ সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন পেলেন এবার এ পুরস্কার। নাদিয়ার আগে আরেকজন বাংলাদেশি নারী এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। নাদিয়া শারমিন দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী, সাহসিকতার জন্য এ পুরস্কার পেলেন।

তুমুল করতালির মধ্যে মঞ্চে আসেন নাদিয়া এবং পুরস্কার গ্রহণ করেন। পুরস্কার প্রদান শেষে ১০ সাহসী নারীর মধ্যে বাংলাদেশের নাদিয়া শারমিনকেই শুধু বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। নাদিয়া বলেন: ‘এ পুরস্কার আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। সমাজের জন্যে বিশ্বের জন্যে এবং অবশ্যই ণারী অধিকার আন্দালন এগিয়ে নেয়া জন্যে’।

নাদিয়া নিজেকে পরিচয় করেন একজন স্বপ্নচারী হিসাবে: ‘আমি একজন স্বপ্নচারী। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। বহু বাধা অতিক্রম করেছি। বাধা পেরিয়ে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়েছি। আমার মত অন্য যারা আজ এ পুরস্কার পেলেন সমাজের জন্য তারা সকলেই তাই করেছেন’।

নারীদেরকে তিনি হতাশ না হয়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার আহবান জানান। ‘হতাশ হবেন না। কোনো কিছু শুরু করলে তা শেষ করার চেষ্টা করুন। সামনের সকল বাধা সাহসীকতার সঙ্গে মোকাবেলা করুন। ভয় পাবেন না। বৈষম্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান’।

তিনি বলেন আজ আমরা হতাশহলে আমাদের পরে যারা আসছে তারা ভেঙ্গে পড়বে, ‘আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করতে চাই যে আমরা সকল অবিচার অন্যায় ও শান্তির নষ্টকারী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবো। তাতে যদি জীবন ও যায় যাবে’।

নাদিয়া বলেন আমরাএখানে আসার আগেএকা ছিলাম। আজ একা নই। ঐক্যবদ্ধ। ‘আমরা আজ একা নই। বহু নারী আছেন আমাদের মত। আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ। ন্যায়বিচারের জন্যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে আসুন ঐক্যবদ্ধ হয়ে শন্তিময় বিশ্ব গড়ি। নতুনভাবে বিপ্লব ঘটাই'।

পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীদের অনুষ্ঠানে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার থাকার কথা ছিল। তিনি থাকতে না পারলেও তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠান।

২০১৩ সালে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চলার সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন নাদিয়া। তখন তিনি একুশে টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ৭১ টেলিভিশনে। নাদিয়ার ওপর হামলার ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলে।

XS
SM
MD
LG