অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি


থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি

রোববার সাধারণ নির্বাচন চলাকালে থাইল্যান্ডে সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইয়াংলাক সিনোয়াতের ডাকা নির্বাচনের ব্যালট বিতরণে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা বাধা দিলে শনিবার সংঘর্ষ শুরু হয়। ভয়েস অফ আমেরিকার রন করবেন থাই রাজধানী ব্যাংকক থেকে রিপোর্ট করছেন। তিনি বলছেন, দেশের সুগভীর রাজনৈতিক বিভাজন এবং আরও সহিংসতার আশংকা এই ভোটের মাধ্যমে কতটা দূর হবে তা স্পষ্ট নয়।
সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা ব্যালট পেপারের বিতরণে বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই আন্দোলনকারীদের বেশিরভাগই এই নির্বাচন বর্জন করছে। গোলগুলিতে অন্তত একজন বিদেশী সাংবাদিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিরোধী দলের সক্রিয় কর্মী এবং সরকারের সমর্থকদের মধ্যে, শনিবার দিনের শেষের লড়াইয়ে, জনমনে আরো সহিংসতার আশঙ্কা বেড়েছে। সরকারের সমর্থকদের গায়ে ছিল তাদের মার্কা মারা লাল শার্ট।
সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ বাঁধে রাজধানীর কেন্দ্র থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। দুদলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেনাসদস্যদের সাহায্য নেয়।
প্রধানমন্ত্রী ইয়াংলাক সিনোয়াত রোববারের এই চটজলদি নির্বাচন ডেকেছিলেন এই আশায় যে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন বন্ধ হবে। এই আন্দোলন শুরু হয় যখন সংসদে একটি বিতর্কিত ক্ষমামঞ্জুর প্রস্তাব আইন পাশ হয় যাতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনোয়াতের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। দূর্নীতি মামলায় মিঃ থাকসিন সিনোয়াতের কারাদন্ড হয়েছে। তিনি এখন বিদেশে অবস্থান করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাসচিব, সুরানন্দ ভেজ্জাজিভা, নির্বাচনকে সমর্থন করে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, এই নির্বাচন জাতীয় রাজনৈতিক সংকট নিরসনের উপায়। তিনি আরো বলেছেন, ফেব্রুয়ারী ২ তারিখের নির্বাচন থাইল্যান্ডের গণতন্ত্রের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য, নির্বাচনই সবকিছু নয়, নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইয়াংলাক সিনোয়াত সংসদ ভেঙ্গে দিয়েছেন, নির্বাচনে এখন যেতেই হবে।
ওদিকে, সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা এর সঙ্গে একদমই একমত নন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাক্তন সাংসদ সুথেপ থাক্সোবান বলছেন, যেকোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার আগে, থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি সক্রিয়ভাবে এই নির্বাচন বর্জন করছেন।
মি; থাক্সুবান বলছেন, বিরোধী দল চায় বিশেষ করে, মিজ সিনোয়াত পদত্যাগ করুন। কারণ তাঁরা ধারণা করে, মিঃ থাকসিন সিনোয়াত বিদেশ থেকে সরকারের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছেন।
গত সপ্তাহান্তের মত সংঘর্ষ এড়াতে, সরকার ব্যাংককে আরো ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করছে। আগাম ভোটদানে ভোটারদের বাধা দেওয়া হলে, বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা বলছে, তারা জনগণকে ভোটদানে বাধা দেবে না। অবশ্য শনিবার ফুকেট প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা, যাতে পোলিং স্টেশনে ব্যালট পৌঁছুতে না পারে সেজন্যে প্রধান পুলিশ স্টেশন অবরোধ করে।
XS
SM
MD
LG