অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নাইন ইলেভেন নিয়ে ভয়েস অফ এ্যামেরিকার আজকের সম্পাদকীয়


Nine-Eleven

Nine-Eleven

পনেরো বছর আগে, দু’ হাজার এক সালের সেপ্টেম্বর মাসের এগারো তারিখে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় তিন হাজার নারী-পুরূষ-শিশু প্রাণ হারিয়েছিলো সন্ত্রাসীদের হামলায়- অসামরিক যাত্রি বিমান ছিনতাই করেছিলো সে সন্ত্রাসীরা ধংস করতে নিউ ইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার - ওয়াশিংটন ডি সি’র অদূরে প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে আঘাত হেনেছিলো তারা। আরেকখানি অসামরিক যাত্রি বিমান তারা বিধ্বস্ত করেছিলো পেনসেলভেনিয়ার একটি ক্ষেতে- যাত্রিরা যখন বুঝে গিয়েছিলেন তাদের হীন উদ্দেশের কথা – বুঝে গিয়ে যখন কিনা তাদেরকে আরেকটি লক্ষস্থল নিশানা করে হামলা চালানোর সুযোগ দিতে চান নি সে যাত্রিরা – রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা।

দুনিয়াটা বদলিয়ে গিয়েছিলো সেদিন। তিন হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণে নয়- হামলাটা হয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রে, কারণ সেটাও নয়- কারণ ছিলো এটাই যে একদল সেই সন্ত্রাসী বেধড়ক অসামরিক লক্ষস্থলের ওপর হামলা চালিয়ে যথেচ্ছ ধংস সাধনে লিপ্ত হয়েছেলো- কারণ ছিলো সেটা। সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলো যারা তাদের মধ্যে ছিলো বিভিন্ন বয়:সীমা, গোত্র- ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকজন। ঐ সন্ত্রাসীরা যাই চেয়েছিলো তার কিছুই তাদের কাছে ছিলোনা- ঐ খুনেদের কোনোরকম ক্ষতিসাধনে কিছুই করেনি তারা। তাদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছিলো এ কারণে যে রুখে দাঁড়ানোর সামর্থ – সম্ভাবনা কিছুই প্রায় ছিলোনা যাদের তাদের ওপর চড়াও হওয়াটাই সন্ত্রাসীদের চরিত্র - ওভাবেই তারা সভ্য সমাজের সকল মানুষজনের মধ্যে ত্রাস সঞ্চারিত করতে পারবে- বিরুপ ভাবান্তর সৃষ্টি করতে পারবে সেকথা ভেবে ।

আর সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাকি বিশ্বের মানব গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে –সবখানেই রূখে দাঁড়াচ্ছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- ঘৃণা-বিদ্বেষ আর দমন পিড়নের নিতি ভঙ্গির বিপরীতে সামনের পানে এগিয়ে নিয়ে চলেছে মুক্তি স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রকে।

এগারো সেপ্টেন্বর এমোনই একটা দিন যেটা কিনা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্ট্র দফতরে আামাদের সকলের মনের আকরে-তামাম এ্যামেরিকা জুড়ে সবার মনে দাগানী হয়ে রয়ে গিয়েছে- রয়ে গিয়েছে স্থায়িভাবে আকীর্ণ হয়ে। সবাই মিলে আমরা, দু’ হাজার এক সালে বধ করা হয়েছিলো যেসব নারী পুরুষ ও শিশুকে তাদের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাই – বলেছেন লিখিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

নয় এগারোর আরো একটি সন্ত্রাসী হামলায় চার বছর আগে লিবিয়ায় নিহত হন যাঁরা, আমরা তাঁদেরকেও স্মরণ করি- রাষ্ট্রদূত ক্রীস স্টীভ্যান্স শন স্মীথ,গ্লেন ডোয়ার্টী এবং টাইরণ ঊডসকে স্মরণ করি আমরা। এঁরা ছিলেন সাহসিক উৎসর্গীকৃত পেশাজিবী কর্মি – দেশের হয়ে কাজ করতেন এঁরা – অন্যেরা যাতে স্বাধীনভাবে- আত্ম মর্যাদার সঙ্গে – শান্তিতে বাস করতে পারে সে লক্ষে মদত জোগাতে – লিখেছেন ঐ বয়ানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরী।

শত্রু-মিত্র নির্বিশেষ সকলেরই বুঝে নিতে হবে সন্ত্রাসীদের ভয়ে কখনোই ভিত হবেনা যুক্তরাষ্ট্র- বলেছেন তিনি । সন্ত্রাসিরা দারুন সব নির্যাতন-যন্ত্রণার উদ্ভব ঘটাতে পারে – কিন্তু কখনোই তারা আমাদেরকে হতোদ্যম করতে পারবেনা- বা লক্ষভ্রস্টও করতে আমাদের পারবে না তারা।

এ্যামেরিকার মানুষ , তা সে দেশে- বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন সবাই আমরা একই মতবিশ্বাসে বলিয়ান যে, দূ:খ যাতনা আমাদের পরস্পরকে কাছে টেনে আনে – আমাদের মনোবলকে-আত্মবিশ্বাসকে আরো দৃপ্ত করে তোলে – আর তা শুধু এই এগারো সেপ্টেম্বরেই নয় – বছরের প্রতিটি দিনেই তা সত্য প্রতিয়মান হয়।

XS
SM
MD
LG