অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রেসিডেন্ট ওবামার একদিনের আফগানিস্তান সফরের বিশ্লেষণ

  • ভিওএ

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার হঠাত্ করেই এক সংক্ষিপ্ত সফরে আফগানিস্তান যান। উইকিলিক্সের মাধ্যমে যখন আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটা অবিশ্বাসের কথা প্রকাশ হচ্ছে এবং সে দেশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান সম্পর্কে এক রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, ঠিক তারই মাঝে প্রেসিডেন্ট এই সফরে গেলেন।

মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে মিঃ ওবামা ঘোষণা করেছিলেন যে – তিনি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় নির্মূল করার জন্য, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ করবেন।

শুক্রবারের সফরে তিনি বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে সেই নতুন সেনাদলকে বলেন – তিনি আস্থাশীল যে তারা সফল হবেন।
‘আমরা বলেছিলাম যে – আমরা তালেবানদের গতি ভেঙ্গে দেবো এবং আপনারা সেটাই করছেন । আপনারা আগ্রাসী অভিযানে যাচ্ছেন, প্রতিরক্ষামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শ্রান্ত হয়ে তাদের নেতাদের এখন নিশানা করছেন, তাদের শক্তিশালী ঘাঁটিতে থেকে হটিয়ে দিচ্ছেন। আজ আমরা গর্ব বোধ করতে পারি যে এখন খুব কম অঞ্চলই তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং অধিক সংখ্যক আফগান একটা আশার ভবিষ্যত গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছেন’।

তবে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও যাতায়াতের অসুবিধার কারনে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারযাইএর সঙ্গে পরিকল্পিত সফর বাতিল করতে হয় । এই সফর বাতিলে হতাশ হয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রুকিংস ইন্সটিটিউটের মাইকেল ও’হ্যানলন। তিনি বলেন
‘আমি মনে করি যে, আমি প্রেসিডেন্টকে যা বলতাম সেটা হলো – আফগানিস্তানে একটি রাত কাটান । বাগরাম বিমান ঘাঁটি খুবই নিরাপদ । সেখানে তার রাত্রিযাপনে কোন উদ্বেগের কারণ ছিল না এবং তারপর সকালে যদি আবহাওয়া ভাল হতো তিনি হেলিকপ্টারে করে কাবুলে গিয়ে প্রেসিডেন্ট কারযাইর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন। আর তারপর দেশে ফিরে আসতেন।

তবে দুই নেতা অবশ্য টেলিফোনে কথাবার্তা বলেছেন। এ হচ্ছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে মিঃ ওবামার দ্বিতীয়বারের আফগানিস্তান সফর। এবং আফগানিস্তানে যখন সৈন্য সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে,ঠিক তার আগেই তিনি এই সফরে গেলেন।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটিজিক এ্যাণ্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক টেরেসিটা শেফার মনে করেন যে উইকিলিক্সের কারণে যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটাই ছিল এই সফরের মুল কারণ। তার বক্তব্য ‘আমি কেবল এটাই ধরে নিতে পারি যে,এই সফরের সঙ্গে নীতিমালা পর্যালোচনার চাইতে, উইকিলিক্সেরই সম্পর্ক রয়েছে বেশি। তিনি কিছু আমেরিকানের সঙ্গে, মিঃ কারযাইএর সম্পর্কে যে চিড় ধরেছে, তা পরিবর্তনের জন্য স্বয়ং সেখানে উপস্থিত হন’।

মিঃ ওবামা জুলাই মাস থেকে সৈন্য প্রত্যাহর শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । তবে তিনি বলেন যে, সেখানকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করা হবে ।

XS
SM
MD
LG