অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এ্যাপেক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ওবামার অংশগ্রহণ নিয়ে সেলিম জাহানের বিশ্লেষণ


বেজিং এর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন, আমেরিকান পন্য রপ্তানী বৃদ্ধি এবং এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাশালী মনোভাবের প্রেক্ষিতে এশিয়ার অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সম্মেলনকে সামনে রেখে যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রবিবার চীন, মিয়ানমার এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন। এশিয়ায় যুক্তরাস্ট্রের সেনা কার্যক্রম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কারনে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন মধ্যবর্তি নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দলের হারের কারনে এশিয়ায় অংশীদারদের কাছে তাঁর করা যে কোনো প্রতিশ্রুতি নিয়ে শংশয় থাকবে। ভয়েস অব আমেরিকার হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা লুইস রামিরেজের রিপোর্টের ওপরভিত্তি করে বিশ্লেষক সেলিম জাহানের সঙ্গে কথা বলে এ নিয়ে রিপোর্ট করছেন সেলিম হোসেন:

প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য এই সফরের সময়টি সুবিধাজনক নয়। ক্রমবর্ধমান অর্থণৈতিক উন্নয়ন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সেনা সামর্থ্য বাড়ানোর কারণে চীন এম্নিতেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অলিখিত চ্যালেঞ্জ; তার ওপর গত সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের খারাপ ফলাফল প্রেসিডেন্টকে খানিকটা দুর্বল করেছে।

বেইজিং এ এশিয়ান অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদান এবং রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত নতুন প্রতিনিধি পরিষদ মোকাবেলা করবার আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বললেন এশিয়ায় তার সফরের অন্যতম প্রধান একটি উদ্দেশ্য, আমেরিকার রপ্তানী বৃদ্ধি এবং চাকুরীর সংস্থান বৃদ্ধি।

“রপ্তানী বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি এবং আমেরিকায় তৈরী পন্য বিক্রির লক্ষ্যে সারা বিশ্বে আমাদের পন্য উৎপাদনকারীদের জন্য বাজার সম্প্রসারিত করতে পারি। এশিয়ায় সফরে গিয়ে আমি এই বিষয়টি তুলে ধরবো”।

তবে চীনাদের সঙ্গে এই বিষয়নিয়ে আলোচনা অতোটা সহজ হবে না। বেইজিং এ পৌঁছার আগে মনেহচ্ছে প্রেসিডেন্টের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এক চীনা সংবাদপত্রে প্রেসিডেনকে অদক্ষ ও মামুলি আখ্যা দিয়ে খানিকটা অসম্মানজনকভাবেই বলা হয়েছে নির্বাচনে তার দলের পরাজয় এবং ক্ষমতা হ্রাস হচ্ছে মিষ্টার ওবামার ব্যার্থতার পুরস্কার।

বিশ্লেষকদের ধারণা প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য চীন হচ্ছে সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা হুমকী। গতবছর ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রেসিডেন্ট ওবামা ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মত হয়েছিলেন যে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন ধরণের চুক্তি হওয়া প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট ওবামার এক সাবেক জাতীয় উপদেষ্টা টম ডনিলন বললেন দুই নেতার এবারকার বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।

“আমার মতে এই বছরে প্রেসিডেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এটি”।

চীন সফরের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমার বা বর্মা যাবেন। সেখানে তিনি মিয়ানমারের সরকারী ও বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা অং সাং সু কি’র সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

পূর্ব এশিয়া সম্মেলনে এবং দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ান রাষ্ট্রসমূহের বৈঠকে মিষ্টার ওবামা এশিয়ায় যুক্তরাস্ট্রের সেনা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলবেন, নানা প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

প্রেসিডেন্ট ওবামার সফর শেষ হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। তিনি জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে অংশ নেবেন যেখানে এশিয়ায় যুক্তরাস্ট্রের ভুমিকা নিয়ে কথা বলবেন।

XS
SM
MD
LG