অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মালি ও প্যারিসের হত্যাকারীদের নির্মুল করায় সহায়তার প্রত্যয় প্রেসিডেন্ট ওবামার


মালির রাজধানীর একটি হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন নিহত হবার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হত্যাকারীদের নির্মুল করার প্রয়াসে সহায়তা করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন। মালয়েশিয়ায় এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন শুক্রবার বামাকোর সন্ত্রাসী ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রয়াসকে আরো শক্তিশালী করবে। ঐ বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আরো বেশি সিরিয়ান শরনার্থী নেয়া যায় কিনা সে বিষয়েও কথা বলেন। ভয়েস অব আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদদাতাদের রিপোর্ট থেকে তথ্য নিয়ে জানাচ্ছেন সেলিম হোসেন।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে Association of Southeast Asian Nations (ASEAN) এর বার্ষিক সম্মেলনে প্যারিস ও বাসমাকোয় হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন; “প্যারিসে আমরা যে বর্বর হামলা দেখলাম এমন ঘৃন্য হামলা অন্যান্য স্থানে ঘটতে দেখছি; এটি আরেকবার মনে করিয়ে দিলো যে সন্ত্রাসের নির্মম হুমকী বিশ্বের বহু দেশকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে”।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন; “সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গঠন করে, গনতন্ত্র শক্তশালি করার প্রয়াসে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা মালির জনগনের পাশে থাকবে। যারা আমাদের নাগরিকদেরকে টার্গট করে, তাদের বিরুদ্ধে নির্দয়ভাবে লড়বে্ যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ; আমরা সন্ত্রাসের জাল উপড়ে ফেলে এর মুলোৎপাটন করবো। ঐ হত্যাকারীদেরকে আমরা নিরাপদে থাকতে দেবো না”।

শুক্রবারের ঘটনায় নিহতদের সম্মানে মালির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুওবাকার কেইতা Ibrahim Boubacar Keita তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেণ; “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শোকগ্রস্থ জাতির প্রতি মালির সরকারের পক্ষে আমি শোক প্রকাশ করছি। মালির নারী পুরুষ সকলেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় কষ্ট ভারাক্রান্ত এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষ শোকে মুহ্যমান”।

র‍্যাডিসন হোটোলে সন্ত্রাসীরা শতাধিক মানুষকে জিম্মি করার পর সরকারী বাহিনীর আক্রমনের ঘটনা শুরুর পর কয়েক ডজন জিম্মিকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৫ জন নিহত হন।

পশ্চিম আফ্রিকান জঙ্গড়ী গোষ্ঠী – al-Qaida in the Islamic Maghreb (AQIM) and its affiliate El Mourabitoune ঐ হামলার দায় স্বীকার করে।

মালির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান ইসলামিক ষ্টেট নিরোধ অভিযানে ফ্রান্স কিভাবে সহায়তা করতে পারে সে ব্যৌপারের আলোচনা করতে ওলান্দ শিঘ্রই ওয়াশিংটন সফর করবেন।

হোয়াইট হাউজ ডেপুটি সিকিউরিটি এ্যাডভাইজার বেন রডস বলেন প্যরিস হামলার পরই সকর্ত হবার জন্য জরুরী পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল।

এদিকে (ASEAN) এর সম্মেলনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা, সিরিয়া থেকে সংঘাত ও দারিদ্রের কারনে শরনার্থী হয়ে মালয়েশিয়ায় আসা কিছু শিশুর সঙ্গে কথা বলেছেন। শোনা যাক একজন শিশুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামার কথোপোকথান:

“প্রেসিডেন্ট বলছেন- বড় হয়ে তুম কি হতে চাও? শিশুটি বলছে- আমি প্রকৌশলী হবো। বারাক ওবামা-প্রকৌশলী? আমি বলছি- তুমি একজন দক্ষ ভালো প্রকোশলী হবে”।

কুয়ালালামপুরে সিরিয়ান শিশু শরনার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রে তোমাদের অনেক বন্ধু রয়েছে। এই সফরের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আরো যে ১০ হাজার শরনার্থী আনার পরিকল্পনা ছিল, তাতে যারা বাঁধা দিচ্ছেন তাদের কাছে আরো একবার বিষয়টি তুল ধরার সুযোগ হবে।

“যেসব মানুষকে আমরা ভুলে গিয়েছি, যারা শরনার্থী অথবা যারা বৈষম্যের শিকার, কিংবা যারা নির্যাতনের শিকার, বা যারা সহিংসতায় পর্যদুস্ত অথবা যাদেরকে অল্প বয়সে পরিবার থেকে আলাদা করা হয়েছে, তাদের আমরা সহায়তা করতে চাই। আর এটিই আমেরিকান নেতৃত্ব, যার উজ্জল আলো আমরা জ্বালিয়ে রেখেছি ক্যাপিটল হিলে- শুধুমাত্র যে ভয় ভীতির কারনে তা নয়”।

প্যারিস হামলায় জড়িতদের একজন সিরিয়ান শরনার্থী ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই এখন মনে করেন সিরিয়ান জঙ্গীদের কেউ হয়ত শরনার্থীর বেশে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।

প্যারিস হামলার পর ইরাকী ও সিরিয়ান নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া কড়া করার বিষয়ে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের ২৮৯-১৩৭ ভোটের একটি বিল পাশ হয়। শরনার্থী বিষয়ক বিলটি সেনেটে পাশ হবে কি না সে ব্যৌপারে অনিশ্চয়তা রয়েছে; তেব প্রেসিডেন্ট ওবামা ইতিমধ্যেই বলেছেন দরকার হলে তিনি ঐ বিলে ভিটো দেবেন।

XS
SM
MD
LG