অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারের সংখ্যালঘূ মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র


প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বেইজিং এ এ্যাপেক সম্মেলন শেষ করে মিয়ানমার সফর করছেন। সেখানে মিয়ানমার সরকার ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট ওবামার এটি দ্বিতীয় সফর। হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা লুইস রামিরেজের রিপোর্ট:

কয়েক দশকের সেনা শাষনের পর মিয়ানমারে যে শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে শুরু করেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট বোঝা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য ও সঙ্গীতের আয়োজন থেকে। দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ান রাষ্ট্রসমূহের সম্মেলন বা আশিয়ান সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসাবে আশিয়ানের উদ্বোধন এবং যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে মিয়ানমারে স্বাগত জানানোর জন্য শহরের নব নির্মিত কনভেনশন সেন্টারে জাকজমকপূর্ন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে চমৎকার আয়োজনের জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমারের জনগন ও প্রেসিডেন্ট থিন সিনকে ধন্যবাদ জানান।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, “প্রেসিডেন্ট থিন সিন আামি আপনার আতিথেয়তার জন্য এবং চমৎকার এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আামি মনে করি এ বছর আশিয়ান সম্মেলনের আয়োজক হিসাবে দারুনভাবে এ আয়োজন করেছে মিয়ানমার। এতে এ অঞ্চলে মিয়ানমারের নেতৃত্ব বিকাশের স্পষ্ট প্রমান মিলছে”।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক বৈঠকের পর মিষ্টার ওবামা তার নিজের এজেন্ডা নিয়ে কথা বলছেন। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংস্কার। চার বছর আগে যেভাবে আশা করা হয়েছিল সেই গতিতে দেশটির রাজনৈতিক সংস্কার আসেনি বলে অনেকের ধারণা।

মিয়ানমার ম্যাগাজিনে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন ২০১২ সালে তার প্রথম সফরের পর থেকে তিনি দেখছেন অনেক ক্ষেত্রে প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজনৈতিক বন্দীদে;র মুক্তি প্রদান, এবং সংবিধানের সংস্কারের শুরু।

মিষ্টার ওবামা বলেন কিছু বিষয়ে নেতিবাচক দৃষ্টান্তও ঘটেছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন সাবেক রাজনৈতিক বন্দীদেরকে সীমিত পরিধির মধ্যে চলতে হচ্ছে, সাংবাদিকদের ওপর চলছে নির্যাতন, চলছে গ্রেফতার ও নির্যাতনের ঘটনা।

প্রেসিডেন্ট যে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে ১০ লক্ষাধিক সংখ্যালঘূ মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি; যাদের বেশীরভাগেরই মিয়ানমারের নাগরিকত্ব নেই। ২০১২ সালে রাখাইন স্টেটে বৌদ্ধদের সঙ্গে সংঘাতের পর হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান জোর করে শরনার্থী ক্যাম্পে বসবাস করানো হচ্ছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্বের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। তবুও প্রেসিডেন্ট ওবামা বিষযটিকে সরকার ও নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত অং সাং সুচি সহ বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ উভয়পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের সময়, আলোচনায় আনতে চান। শুক্রবার ইয়াংগুনে সু চি এবং ওবামার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা বিষয়ে সু চি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ওবামার ডেপুটি ন্যাশনাল এ্যাডভাইজার বেন রডস সাংবাদিকদের বলেন রোহিঙ্গা প্রশ্নের সমাধান না হ্ওয়া পর্যন্ত এখানে স্থিতিশীল গনতন্ত্রের উত্তোরণ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন আমরা জানি এটি মিয়ানমারের জন্য একটি জটিল বিষয়, কিন্তু এর সমাধান প্রয়োজন।

শুক্রবার অং সাং সু চির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা অষ্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে জি-২০ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। সেখানে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু ইউক্রেন হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

সহকারীরা বলছেন ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া সেনা ও সেনা রসদ জড়ো করছে এ সপ্তাহে, এ অভিযোগের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয়ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

জি-২০ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও।

XS
SM
MD
LG