অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এবার অলিম্পিক সমাচার।

অলিম্পিক কেবল খেলার প্রতিযোগিতা নয়, পাশাপাশি আছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা, শিল্প কলার প্রদর্শনী এবং নানা দেশের মানুষের মহামিলন মেলা এই সেরা ক্রীড়া উত্সব।
কবে গ্রীসের যুদ্ধ থামিয়ে রাজা-রাজড়ারা কিছু বিশ্রামের জন্য আদি অলিম্পিক শুরু করেছিলেন অলিম্পিয়া নগরীতে, তারপর সেই ধারা হারিয়ে যায়। আবার ১৮শো শতকে ফ্রান্সের এক সমাজসেবী, ক্রীড়া উত্সাহী পিয়ের কুবেরতিনের উত্সাহ আগ্রহের ফলশ্রুতিতে শুরু হলো ১৮৯৬ সালে আধুনিক অলিম্পিক সেই এথেন্স থেকে। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

লণ্ডন অলিম্পিকে আগের মত ডাকটিকিটের প্রদর্শনী চলছে। এবারে লণ্ডনের বিশাল লাইব্রেরী ঘরে বসেছে ডাকটিকিটের মেলা। সেখানে ডাক টিকিটই নয় বড় বড় পোস্টার সাজানো রয়েছে – সেই ১৯০৮ আর ১৯৪৮ সালের অলিম্পিকের পোস্টার। প্রদর্শনীর ব্যবস্থাপক বব উইলকক জানালেন সেখানে একটি পোস্টার্ খুবই ইন্টারেস্টিং। ১৯০৮ সালের লণ্ডন অলিম্পিকের পোস্টার। লাইব্রেরীর ডিজিটল ডাটাবেসে সব তথ্য তুলে রাখা হযেছে। পর্যটকরা সেই লাইব্রেরীতে গিয়ে কম্প্যুটার স্ক্রীন স্পর্শ করে যে কোন বছরের অলিম্পিকের খবরাখবর জানতে পারবেন। এটাই হচ্ছে কিউরেটারের জন্য সবকিছু সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখার সার্থকতা। বব উইলকক বলেন – ‘সবার জন্যই এখানে কিছু না কিছু আছে। এটা হচ্ছে আপনার নিজের অলিম্পিকের স্মৃতিকে ধরে রাখার এক ব্যবস্থা। আপনি যে গেমসে ছিলেন সেই কথাটি অন্যকে বলতে পারার এক সুযোগ’।
এই ধরণের প্রদর্শনী দেখে হারজিতের প্রতিযোগিতার কোলাহল থেকে আবার কিছুটা বিরতি পাওয়া যায়।
আরেকটি ভিন্ন প্রসঙ্গে – চিকিত্সক-গবেষকরা গেবষণগ করে দেখছেন, যে সব খেলোয়াড়রা অসাধারণ ফলাফল করে, বা অনেকে পারিবারিক ধারায় কোন প্রতিযোগিতায় ভাল করে, তার কারণটা কি? দৈহিক বা জ্বীনগত কারণে তা ঘটে কি না। মিনেসোটা রাজ্যের ডাক্তার মাইকেল জয়নার ও মাইকেল বস্টউইক এ বিষয়ে বহু গবেষণা করে দেখেছেন যে তাদের কথায় ‘অনেক সেরা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, তাদের মধ্যে এমন কিছু গুনাগুন আছে যা তাদেরকে অন্যদের চাইতে পৃথক করে রাখে, তাদের দক্ষতা অনেক উঁচূমানের’। যেমন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পসের কথাই ধরুন, তার দৈহিক গড়ন তাকে সাফল্যে অনেক সাহায্য করেছে। আবার জিমন্যাস্টিকসের বেলায়, দৈহিক গড়ন, ওজন কত, সেইসঙ্গে কতটা শক্তিশালী তার মধ্যে একটা সামঞ্জস্য থাকতে হবে। আর শারীরিক যোগ্যতার সঙ্গে মানসিক অবস্থার যোগসূত্র রয়েছে ডাক্তার মাইকেল বস্টউইক বলেন, ‘আপনার জয় করার ইচ্ছাশক্তি চাই। জয়ের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। আর সেই জয়ের মনোভাবটা প্রয়োজন’।

ডাক্তার জয়নার বলেন, সফল নামী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে তাদের দৈহিক গড়ন, শারীরিক শক্তি সেটাই নয়, তারা কিভাবে নিজেদের গলে তুলছে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। তিনি বললেন, ‘আমি বলবো এ হচ্ছে গড়ে তোলার বিষয়। তারা অসাধারণ প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ পেয়েছে। তারা বিশ্রাম করতে শিখেছে এবং সেইসঙ্গে প্রকৃত সময়ে তারদের লক্ষ্য স্থির করা শিখেছে’।
চিকিত্সকদের মতে, খেলায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য দৈহিক গড়ন ও দক্ষতার চাইতে মানসিক শক্তিরই গুরুত্ব বেশী। তবে চ্যাম্পিয়ান আর সাধারণ খেলোয়াড়দের মধ্যে পার্থক্যটা হচ্ছে চ্যাম্পিয়ানদের দক্ষ প্রশিক্ষণ আর সাফল্য অর্জনের মানসিক ক্ষমতা।
XS
SM
MD
LG