অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন আগামীকাল। নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা। সেইসঙ্গে মহিলাদের অংশগ্রহণও লক্ষ্যণীয়। মহিলারা এবার নির্বাচনে পুর্ণ অংশ নিতে দৃঢ় সংকল্প।
এ সম্পর্কে ইসলামাবাদ থেকে সংবাদদাতা শ্যারন বেনের প্রতিবেদন থেকে আপনাদের শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার ও শাগুফতা নাসরীন কুইন।
পাকিস্তানে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন এসে গেল। যেমন বলা হচ্ছে পাকিস্তানের ইতিহাসে এ ছিল সবচাইতে রক্তক্ষয়ী নির্বাচনী অভিযানের সময়। মানুষজন নিহত হয়েছে, প্রার্থীদের অপহরণ করা হয়েছে, তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, তবে হানাহানি সত্ত্বেও কোয়েটার মত জায়গায় ভোটাররা ভোট দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নির্বাচনের পূর্বাভাষে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তান মুসলীম লীগ নাওয়াজ দলের ৬৪ বছর বয়স্ক প্রার্থী নাওয়াজ শরীফ সবাচইতে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লার ইচ্ছায়, আপনাদের ভবিষ্যত যখন পরিবর্তন হবে তখন জাতির ভবিষ্যত পরির্তন হবে। যুব সমাজ আপনারাই আগামী দিনের নেতা। পাকিস্তানের সবুজ পতাকা আপনাদের হাতে, তা কখনোই নত হতে দেবেন না’।
ওদিকে তার খুব কাছাকাছি রয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা রাজনীতিক ইমরান খান। যুবসমাজে তার সমর্থন রয়েছে। যারা বিগত সরকারের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে অতিষ্ঠ তারা ইমরানের প্রতি ব্যাপক সমর্থন জানাচ্ছে। ইমরানের বক্তব্য – ‘আল্লাহ আমাকে দেশ সেবার এই সুযোগ দিয়েছেন। এখন আপনাদের জীবন পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। ১১ তারিখে কেবল দেশের কথা মনে রাখবেন। আপনারা যদি আপনাদের এবং আপনাদের সন্তানের ভবিষ্যত পরিবর্তন করতে চান তা হলে সংগ্রাম করতে হবে। আপনাদেরই নতুন পাকিস্তান গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে’।
আর এবারের নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের নিয়ে তো বেশ একটা উদ্বেগ রয়েছে।
হ্যাঁ, তা আছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ধরণের কথাই বলা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলের যেমন পাকিস্তান মুসলীম লীগের প্রার্থী রোকাইয়া হাশমি তিনি পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের।
তিনি বলেন পাকিস্তানে শিয়াদের বিরুদ্ধে অনেক কিছু ঘটছে।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন থেকেই আমাকে হুমকী দেওয়া হচ্ছে। আমার গতিবিধি এখন সীমিত আমি মোটামুটি ছদ্মবেশেই চলাফেরা করছি। আমার পোশাক পরবর্তন করেছি। গাড়ীর চালক, গাড়ী সবই পরিবর্তন করছি’।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট হামলা ও হুমকীর কারণে হুমায়রা ইয়াসমিনের মত মহিলা ভোটাররা ভোটে কেন্দ্রে যেতে কিছুটা ভয় পাচ্ছেন। হুমায়রা বলেন, ‘এখনকার এই পরিস্থিতিতে মহিলারা অবাধে চলাফেরা করতে পারে না। তাদের জন্য ভোট দেওয়া খুবই কঠিন হবে। কারণ আমরা ঘর থেকে বেরোলে কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, আমরা কি করবো? খুবই ঝুঁকি রয়েছে বলা যায় জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। জীবনের থেকে বড় তো আর কিছু নয়’।
একটি বেসরকারী সংস্থা এন জি ওর সদস্য ফারা নাজ বললেন, মেয়েরা যে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে যাবে, কিভাবে ভোট দিতে হয় অনেকে সেটাই তো জানে না। ‘এইসব মহিলারা তাদের সংসারে পুরুষদের ওপর নির্ভর করেন তাদেরকে কখনো ভোট কিভাবে দিতে হয় তা কিছুই শেখানো হয়না। তাদের এখন স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়া উচিত’।
কোয়েটা শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কানযা শাকিল নিরাপত্তাহীনতা আর বেকারত্বের বিষয়ে এক্কেবারে অতিষ্ঠ। এবার রেডিও টেলিভিশনের প্রার্থীদের বিজ্ঞাপন মন দিয়ে দেখেছেন। তাই এবার তিনি অবশ্যই দেবেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে যে বর্ষিয়ান নেতারা দেশ পরিচালনা করছেন তাদের আর আমি চাই না। আমি একটা পরিবর্তন চাই। নতুন নেতা আসবেন, পুরানো যারা তারা নিজেদের তুলে ধরতেই ব্যস্ত। আমি তাদের পছন্দ করি না’।
আর ধারণা করা হচ্ছে যে ভোটার সংখ্যা তেমন বেশী হবে না। মহিলা যারা ভোট দেবেন, দেশের পরবর্তী সরকারের ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
XS
SM
MD
LG