অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ১৯৬টি দেশের প্রতিনিধি


সেলিম হোসেন

সোমবার ৩০শে নভেম্বর প্যারিসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের ১৯৬টি দেশের প্রতিনিধি। কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গমণ বন্ধে ওই সম্মেলনে একটি চুক্তি হবে এমনটি আশা করা হচ্ছে। এ নিয়ে হেনরী রিজওয়েলের Henry Ridgwell রিপোর্ট থেকে শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন ও সাবরিনা চৌধুরী।

সমুদ্র পৃষ্ঠের ৪ হাজার ৭’শ মিটার ওপরে তিব্বতীয়ান মালভূমিকে বলা হয় পৃথিবীর ছাদ। এখানকার হিমবাহ বা তুষারগলা স্রোত থেকে এশিয়ার বহু নদীর উৎপত্তি।

এখন বরফ গলছে দ্রুত গতিতে। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই হারে বরফ গলা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ এই হিমবাহের জমাট বরফের দুই তৃতিয়াংশ শেষ হয়ে যাবে; যার ফলে চীন, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভুটানের ২০০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। গ্রীনপিস চীনের সদস্য লি ইয়ানের মতে, “তিব্বতীয় মালভূমির হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়টি জলবায়ু পরিবর্তনের পক্ষে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে একটি বড় সতর্ক সংকেত”।

প্যারিস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা এবার নতুন একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করবেন যাতে করে উষ্ণায়নের জন্যে সবচেয়ে দায়ী যে বিষয়টি, কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গমন’ তা বন্ধের ব্যাবস্থা থাকবে। এই শতাব্দীর শেষভাগ নাগাদ উষ্ণায়ন যেনো কোনোভাবেই ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে না বাড়ে; অর্থাৎ পৃথিবীর শিল্পান্নয়নের আগের পর্যায়ের যে তাপমাত্রা ছিল সে পর্যায়ে রাখার জন্য সকলের সম্মতির প্রয়াস সম্বলিত একটি চুক্তি করবেন।

জলবায়ু বিষয়ক প্রতিষ্ঠান Overseas Development Institute এর কর্মকর্তা Smita Nakhooda বললেন; “সেটি না করতে পারলে, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব আমরা প্রত্যক্ষ করা শুরু করবো। আবহাওয়ার ভযাবহ খারাপ বিষয়গুলো যেমন বন্যা, ক্ষরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতেই থাকবো”।

বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর প্রভাব ইতিমধ্যেই আমরা প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছি। ২০১৫ সাল সর্বকালের সবচেয়ে উষ্ণ আবহাওয়ার বছর হিসাবে রেকর্ড হয়েছে। বলা হচ্ছে উষ্ণায়নের কারনে ঝড়সহ নানা প্রাকৃতির দুর্যোগের মাত্রাও হচ্ছে ভয়াবহ।

২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত বিশ্ব, উন্নয়নশীল দেশসমূহে, সরকারী ও বেসরকারী খাতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কাজ করতে ১০ হাজার কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। Nakhooda বলেন কোপেনহেগন সম্মেলনের পর জলবায়ু বিতর্কের আরো নতুন নতুন ক্ষেত্র যুক্ত হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে প্যারিস সম্মেলনে বড় একটি চুক্তি হবে।

বহু দেশ এই খাতে আরো অধিক অর্থ দেয়ার কথা বলছেন, যেগুলো উৎসাহব্যাঞ্জক। পরিস্কার জ্বালানী উৎপাদনের প্রয়াস বেড়েছে; বেড়েছে বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সচেতনতাও।

দুই সপ্তাহ আগে প্যরিসে সন্ত্রাসী হামলার কারনে জলবায়ু সম্মেলনের অনেকগুলো ইভেন্ট বাতিল হলেও ফরাসী কর্তৃপক্ষ সম্মেলনটি সুষ্ঠুভাবে করার লক্ষ্যে ৮ হাজার নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছে।

ফ্রান্স সম্মেলনে কার্বন নির্গমন কমানোর চুক্তি হলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা বাঁধা থাকবে: সেসব বকিভাবে অতইক্রম করা যায় সে প্রোশ্নে বললেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান ডন বায়ার; "গত সাত বছরে কার্বন নির্গমন কমাতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি কাজ করেছে। বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশ এ লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি প্যারিস সম্মেলনে এর সফলতা আসবে”।

উন্নয়নশীল বিশ্ব যেনো টেকসই জ্বালানীর উৎস তৈরী করতে পারে সে লক্ষ্যে জর্জ মেসন বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোনা সারাফাতির পরামর্শ হচ্ছে: “গত এক দশকে সৌর বিদ্যুৎ ব্যাবহারের প্রচেষ্টা বেড়েছে যা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক বিষয়। আগের চেয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও কমেছে। এভাবে সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎ তৈরী করে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর নতুন নতুন উৎস বের করতে হবে আমাদেরকে”।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বিশ্বকে মুক্ত করার কোনো দ্রুত ও খাটো পথ নেই। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল আনতে পারে। তাই সবাই অপেক্ষা করছেন প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনের জন্যে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন বিপর্যস্ত বিশ্বের ভবিষ্যৎ রক্ষার পরিকল্পনায় প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলন কতোটা গুরুত্বপূর্ন এবং এই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে একটি হওয়ায়; সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বা প্রতিনিধিত্ব কতোটা জরুরী; এসব নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতির প্রধান এ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান:

XS
SM
MD
LG