অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

টাইফুন হাইয়ানের আঘাত ফিলিপিন্স - ভিয়েতনামে


মহা প্রলয়ংকরি রাক্ষূসে টাইফুন হাইয়ানের প্রচন্ড আঘাতের পর ফিলিপাইন্স উপকূলের মানুষ ধুঁকছে এখনো । দানব সদৃস ঐ সামুদ্রিক ঘুর্ণী অপেক্ষাকৃত কিছু কমজোর হয়ে আজ ছোবল হেনেছে ভিয়েতনামের বুকে – তবে ঐ যে কমজোর হয়ে পড়েছে তার ছোবল , আর তাতেই স্বস্তির শ্বাস ফেলেছে ভিয়েতনামের মানুষ । কমজোর হবার পরেও হাইয়ান ১ শ’ ১৮ – ১ শ’ ৩৩ কিলোমিটার গতিবেগে আছড়িয়ে পড়ে আজ সোমবার ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলবর্তী উপকূলভাগে । খবরাখবরে জানা গিয়েছে হাইয়ানের আঘাতে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গিয়েছে – গাছপালা ভুলুণ্ঠিত হয়েছে – বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে । ঝড়ের আঘাতের পর এখনো অব্দি হতাহত সম্পর্কে তাত্ক্ষনিকভাবে সঠিক কিছু জানা যায় নি । তবে কর্মকর্তাদের সূত্রে বলা হচ্ছে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে – জনা দশ লোকের প্রাণ হানি হয়ে থাকতে পারে ।
ভিয়েতনাম রেড ক্রসের পরিচালক মাইকেল আনিয়ার – ঝড় আসার আগে থেকেই সরকার যেসব প্রস্তুতিমুলক ব্যবস্থাদি নিয়েছিলেন তার জন্যে ভিয়েতনাম সরকারকে সাধুবাদ জানান ।
সরকার চমত্কার কাজ করেছেন , সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে সময়মতো -ঝড়ের মনিটরিংও হয়েছে যথাযথভাবে ।
হাইয়ান ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলবর্তী প্রদেশগুলোর দিকে যাবে বলে প্রথমে মনে করা হয়েছিলো এবং সেকথা ভেবে শনিবার ৫ লক্ষ লোককে স্থানান্তরিত করা হয় । এঁরা মূলত: কুয়াং নাম প্রদেশের মানুষজন ।
এর আগে টাইফুন হাইয়ান আছড়িয়ে পড়েছিলো ফিলিপিন্সের লেইতে এবং সুমান দ্বীপ দু’টির ওপর শুক্রবার । স্থানিয়ভাবে ইয়োলান্দা নামে পরিচিত এ সামুদ্রিক ঝড় তার সামনে যাই পড়েছে একেবারে লন্ডভন্ড করে,পয়মাল করেছে সব কিছু – অকল্পনীয ধংসযজ্ঞ সামলাতে এগিয়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সহ নানান সংস্থার লোকজন । যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর C 130 পরিবহন বিমান,মেরীন সেনাসহ এগিয়ে গিয়েছে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে । জাতিসংঘের মানবিক বিষয়াবলি দফতরের সমন্বয়ক ওরলা ফেগান বললেন – তাকলোবান এলাকাই পর্যুদস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি – ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনুমানিক ৯০ লক্ষ মানুষ ।
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার কর্মিরা
মানিলার ভিলামোর বিমান ঘাঁটি থেকে C 130 পরিবহন বিমান রওনা হয়েছে ত্রাণ সামগ্র্রী নিয়ে লেইতে প্রদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাকলোবান অভিমুখে । বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত নেলিদা পালকোনিতে বলেন – ঐ পরিবহন বিমানে চড়ে তাকলোবান যাওয়া তাঁর হবে কিনা সেটা জানেন না তিনি – বিমানে যায়গা হবে কিনা বোঝা যাচ্ছে না , তবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় আবেদন জানাতে আকুতির কোনো কমতি ছিলো না কণ্ঠে তাঁর –
বললেন – খাদ্যের প্রয়োজন – যে যাই পারে দিক – ওষুধ,পানি – দরকার এখন সব কিছুরই ।philippines typhoon
XS
SM
MD
LG