অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্যরা ছড়িয়ে আছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে। অনেকক্ষেত্রেই তাদের সমস্যা সুস্বাদু খাবারের অভাব। এপির একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিজ্ঞানীরা সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। বিস্তারিত শুনুন শতরূপা বড়ুয়ার কাছে।

যুদ্ধের ময়দানে, সেনাদের খাবার দাবারের সমস্যা একটা বড় সমস্যা। যুদ্ধক্ষেত্রের যে জায়গাগুলোতে কোন রন্ধনশালা স্থাপনের সু্যোগ নেই সেখানে, ১৯৮১ সাল থেকে, ক্যান বা টিনজাত খাবার দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে, সেনারা ভিন্ন ধরনের খাবার দাবী করে আসছিল।

এবার, বোধহয়, সেই অসুবিধা কিছুটা লাঘব হবে। ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের সামরিক গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন বিশেষ এক ধরনের পিতজা তৈরি করতে। এই পিতজার বৈশিষ্ট্য হলো, এই পিতজা ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। আপনি এই পিতজা যদি প্যাকেজকৃত অবস্থায় শেলফে রেখে দেওয়া যায় তাহলে তা অনেকদিন ভালো থাকবে।
ঐ সামরিক গবেষণাগারের খাদ্য বিজ্ঞানী মিশেল রিচার্ডসন বললেন, এমনকি তিন বছর পরেও এই পিতজা থাকবে খাওয়ার উপযোগী। তাদের এই রেসিপি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ২ বছর।
সময়ের সাথে সাথে টমেটো সস এবং চিজ থেকে বের হওয়া পানি রুটির ভেতর চলে যাচ্ছিল। এবং পিতজা হয়ে যাচ্ছিল নরম এবং খাওয়ার অনুপযোগী। এবং এর ফলে সেখানে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হচ্ছিল।

অবশেষে কয়েক বছর পর গবেষকরা বের করতে পেরেছেন কিভাবে রুটিকে শুকনো রাখা যায়। তাঁরা ব্যবহার করেছেন হিউমেকট্যান্টস, চিনি, লবণ বা সিরাপ এই কাজটি করতে পারে, যা পানির সঙ্গে মিশে যায় এবং রুটিকে শুকনো রাখে।
অবশ্য ৮০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় তিন বছর পিতজাকে খাওয়ার উপযোগী রাখার জন্যে সেই উপকরণ যথেষ্ট ছিল না। তখন বিজ্ঞানীরা, টমেটো সস, চিজ এবং রুটির যে অম্লতা তা নিয়ন্ত্রণ করলেন। যাতে, সেখানে অক্সিজেন থাকতে না পারে এবং ব্যাক্টেরিয়া জন্ম না নেয়। এছাড়াও তারা প্যাকেজে লোহার ফাইলিং সংযোজন করলেন যাতে বাইরে থেকে অক্সিজেন প্যাকেটের ভেতর ঢুকতে না পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই পিতজার স্বাদ কেমন?

সেনাবাহিনীর সদস্যদের এখনও এই পিতজা খাওয়ার সুযোগ হয়নি। অবশ্য গবেষণাগারের একজন বিজ্ঞানী জিল বেইটস বললেন, এই পিতজা খেতে আর দশটা পিতজার মতই। যে ধরনের পিতজা আমরা বাড়িতে বানাই বা দোকান থেকে কিনে আনি তার সঙ্গে এর তফাত নেই বললেই চলে। শুধু একটাই সমস্যা এই পিতজা গরম গরম পরিবেশন করা বা খাওয়া যাবে না।
XS
SM
MD
LG