অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাগ্রাম বিমান ঘাটিতে ২০শে ফেব্রুয়ারীর কোরান শরীফ পোড়ানোর ঘটনার পর কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি মারা যায়


যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী পত্রিকা জানায়, আমেরিকান এবং আফগান কর্মকর্তারা গত মাসে নেটো ঘাটিতে কোরান শরীফ পোড়ানোর ঘটনা তদন্ত করে দেখছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, পর পর কয়েকটি অঘটন, বাজে পরিকল্পনা এবং পদ্ধতি উপেক্ষা – এর যে কোন একটি পর্যায়ে ধর্ম গ্রন্থ পোড়ানোর প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা সম্ভব হত।

বাগ্রাম বিমান ঘাটিতে ২০শে ফেব্রুয়ারীর কোরান শরীফ পোড়ানোর ঘটনার পর সারা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি মারা যায়, আমেরিকা এবং আফগানিস্তানের সম্পর্কে সেটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা এই ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত যৌথ আফগান – আমেরিকান অনুসন্ধান দলের সংগে ঘনিষ্ঠ একজন যুক্তরাষ্ট্র কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলে, ঐ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কীত একজন আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা, একজন আমেরিকান দোভাষী সহ কমপক্ষে ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

পত্রিকা বলে, কোরান শরীফ পোড়ানোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, কিছু সামরিক কর্মকর্তা বাগ্রাম বিমান ঘাটির সন্নিকটে এক কারাগারের বন্দীদের সেখানকার লাইব্রেরীর বই গুলোতে গোপনে বার্তা আদান প্রদানের খবর পান। তাঁরা দু’জন আফগান-আমেরিকান দোভাষীকে বার্তা বহনকারী বই গুলি আলাদা করার নির্দেশ দেন। দোভাষীরা এধরনের এক হাজার ৬৫২টি পুস্তকের মধ্যে উপন্যাস, কবিতার বই ছাড়াও কয়েকটি কোরান শরীফেরও সন্ধান পান।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ঘটনার তদন্তকারী আমেরিকান এবং আফগান কর্মকর্তাদের ধারনা, আরবী ভাষায় অনভিজ্ঞ যে সব সেনা বই গুলিকে চুল্লির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো, তারা গাড়ীর পন্যের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছুই জানতোনা। একজন আফগান শ্রমিক সৈণ্যদের কোরান শরীফ পোড়ানো দেখে চিৎকার শুরু করার পর অন্যান্য আফগান শ্রমিকরা পানির বোতল দিয়ে সেগুলো নেভানোর চেষ্টা করে।

পত্রিকা বলে, আমেরিকানরা তৎক্ষনাতৎ আগুন নির্বাপিত করলেও ইতোমধ্যে চারটি কোরান শরীফ ভীষণ পুড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং অন্যান্য আমেরিকান কর্মকর্তা কোরান শরীফ পোড়ানোর ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

XS
SM
MD
LG