অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থার হিসাব মতে যুদ্ধ সংঘাত নির্যাতন এড়াতে ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৬ কোটি মানুষ শরনার্থী হয়েছে সারা বিশ্বে। অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় যুক্তরাস্ট্রে আসছে অনেক শরনার্থী। আর শরনার্থী পুনর্বাসনের মোক্ষম স্থান হয়ে উঠেছে টেক্সাস; বিশেষ করে জনবহুল শহর হিউস্টন। বিশ্ব শরনার্থী দিবস উপলক্ষ্যে হিউস্টনের এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে গ্রেগ ফ্লাকুসের রিপোর্ট এবং জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জোডি কাপুয়ার রিপোর্ট থেকে শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন।

UNHCR বলেছে ঘরবাড়ী ছাড়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে সারা বিশ্বে। জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থার মুখপাত্র বাবার বাহলোচ এতে উদ্বেগপ্রকাশ করেন।

“বর্তমান বিশ্বের এই অবস্থা আমাদের রুঢ় বাস্তবতা। ২০১৪ সালে প্রায় ৬ কোটি মানুষকে জোর করে শরনার্থী করা হয়েছে। তাদেরকে কোথাও না কোথাও আশ্রয় খুজতে হচ্ছে।

২০১৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৮৩ লক্ষ বেশী। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৪২হাজার মানুষকে ঘর ছাড়তে হচ্ছে। UNHCR এর ওয়ার্ল্ড এ্যাট ওয়ার শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সিরিয়ানর আরব রিপাবলিক থেকে শরনার্থী হচ্ছেন সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষ। এছাড়া আফগানিস্তান, ইউক্রেন, ইয়েমেন, ইরাক, দক্ষিন সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, বুরুন্ডিসহ আরো কিছু দেশ থেকে ঘরবাড়ী ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শরনাথী হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।

ওদিকে, সবকিছু ছেড়ে হিউস্টনে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্নে আসা শরনার্থীদের জন্যে নাচ গান খেলা আর মুখরোচক খাওয়ায়- জমে ওঠে বিশ্ব শরনার্থী দিবসের অনুষ্ঠান ছিল দারুণ উপভোগ্য।

ইউনিভার্সিটি অব সেইন্ট থমাসের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ক্যাথলিক চ্যারিটিজ রেফিউজি প্রোগ্রামের কর্মকর্তা সানিহা লাখপাতি জানালেন:

“সবকিছু পেছনে ফেলে এসেছেন এরা এবং এখানে এখন তারা নতুন জীবন নতুন ঘর গড়ার চেষ্টায় রয়েছেন এবং এই হিউস্টনে দেশের অন্য যে কোনো রাজ্য বা শহরের তুলনায় বেশী শরনার্থী রয়েছে। অনেক হিউস্টনবাসী তা জানেন না। এই হলো বছরে একটা সুযোগ যার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে হতে পারি”।

তবে কি কারনে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে তা বলতে চান না বেশীরভাগ শরনার্থীই। যেমনটি ঘটেছে সুদানের দারফুরে গণহত্যা থেকে রেহায় পেতে পালিয়ে আসা এই নারীর বেলায়।

সানিহা বললেন, “শরনার্থীরা তাদের জীবনের গল্প বলতে চায় না। তারা তা মনে করতে চায় না। এখানে নতুন করে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। কারন তাদের অনেকেই ইংরেজী জানে না। ওদের মধ্যে প্রকৌশলী চিকিৎসক রয়েছেন যারা শ্রমিক হিসাবে কাজ করছে জীবন শুরু করার লক্ষ্যে”।

একটি বিষয় সহায়ক তা হচ্ছে হিউস্টনের জনসংখ্যার বৈচিত্র। জাইন আলাহতার YMCA এর শরনার্থী কর্মসূচীতে কাজ করেন। আরবীসহ বেশ কয়েকটি ভাষা জানা তার।

“আমিএকটি বহু সাংস্কৃতিক বহু ভাষার পরিবেশে বড় হয়েছি। ফলেএখন আমি শরনার্থীদেরকে সহায়তা করতে পারছি আর এই কাজ আমি ভালবাসি”।

ফুটবল এমন একটি খেলা যা বিভিন্ন দেশের শরনার্থীদের সবার কাছেই পরিচিত খেলা। বিশ্ব শরনার্থী দিবসে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ফুটবল খেলার আয়োজন।

সুদানীদের দলের নাম ছিল সুদানীজ টাইগার। কিউবা আলজেরিয়া ইরাক হন্ডুরাস এসব দেশের শরনার্থীদের নিয়ে গঠিত হয় আরেকটি দল। দলে নারী ফুটবলারও ছিল। যেমর হন্ডুরাসের রোহমি যনি ইন্টারফেইথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা।

“আমি মজা করার জন্যে এসেছি আর এসেছি ওদের সঙ্হেগ পরিচিত হদেত”।

শরনার্থী দিবসের অনুষ্ঠানে তারা একে অন্যের সহায়তায় এগিয়ে আসেন এবং নতুন দেশে নতুন জীবন শুরুর প্রত্যয় নেন নতুনভাবে।

XS
SM
MD
LG