অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সোমবার বস্টন ম্যারাথন পথের একেবারে সমাপ্তি পর্যায়ে বিস্ফোরণ হলো। তিনজন নিহত এবং ১৫০জনের মত আহত হয়েছে।৮ বছরের এক শিশু প্রান হারিয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বিস্ফোরণের কয়েকঘন্টা পর সাংবাদিক সম্মেলনে গভর্ণর ডেভাল প্যাট্রিক জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরো এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এবং স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্র পর্যায়ে অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ব নেতৃবর্গ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে, দুঃখ প্রকাশ করছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সম্পর্কেই আজকের গোল টেবিল আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন , রোকেয়া হায়দার ও আনিস আহমেদ ।
সোমবার দুপুরে যখন বস্টন ম্যারাথন পথের শেষ লাইনে এগিয়ে আসছেন দৌড়বিদরা ঠিক সেই মুহুর্তে বিস্ফোরণ। আবার কাঁপিয়ে তুললো আমেরিকা। চারিদিকে এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি। রক্তাক্ত পথ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া ভগ্নস্তূপ। পুলিশ ও উদ্ধারকর্মী, দমকল বাহিনী, সাংবাদিকদের ভীড় জমলো। দূর্ঘটনা স্থল ঘেরাও করা হলো ।
কয়েকঘন্টা পরে পরিস্থিতি কিছুটা খতিয়ে দেখে ম্যাসাচুসেটসের গভর্ণর প্যাট্রিক জানালেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরো তদন্তের ভার নিয়েছে। অবশ্যই স্থানীয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার গোটা পরিস্থিতি তদারক করছে, সাহায্য সহযোগিতা করছে।
আর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ দ্রুত এগিযে যায় যা বিরোচিত পদক্ষেপ ছিল। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আমরা এখনও জানিনা যে কারা এবং কি কারণে এই কাজ করেছে। আমরা সকল তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত্ কারও চট্ করে কোন ধারণা করা উচিত নয়। তবে কারও কেউ যেন ভুল না করে, আমরা অবশ্যই সবকিছুই খুঁজে বার করবো। এবং কে বা কারা, কেন এই কাজ করেছে তা অনুসন্ধান করে বার করবো। যে এর জন্য দায়ী, যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিচার করা হবে”।
আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদুত ডঃ আবদুল মোমেনের সঙ্গে। তিনি দীর্ঘদিন বস্টনে বসবাস করেছেন। তিনি জানালেন, তিনি বস্টনে তার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অন্যান্য পরিচিত জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বললেন যে এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মন্তুদ এবং ঘৃণ্য ।
এই ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির , গভর্ণমেন্ট এন্ড পলিটিক্স বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন যে ৯/১১ ‘র পর এটি সব চেয়ে বড় ধরণের আক্রমণের ঘটনা , যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে । যদিও হতাহতের সংখ্যা কম তবুও এই বিস্ফোরণের স্থান ও সময় বিবেচনা করলে বোঝা যায় যে যারা এই বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে তারা চেয়েছিল এ থেকে বড় রকমের ক্ষতি হউক। সন্ত্রাসীরা ছোট বা বড় যে গোষ্ঠিরই সদস্য হউক না কেন তাদের উদ্দেশ্য যে কেবল ভীতি সৃষ্টি নয়, সত্যিকারের ক্ষতি সাধন।
এর আগে আটলান্টা অলিম্পিকে ও বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ১৯৯৬ সালে । সে বিস্ফোরণে দু জন প্রাণ হারান। বস্টন ম্যারাথণের এরই দূর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বস্তুত লন্ডনের আসন্ন ম্যারাথনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

XS
SM
MD
LG