অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ব্রিটেনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে একটি আলোচনাচক্র


ব্রিটেনের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনসার্ভেটিভ পার্টি বা রক্ষণশীল দল বিজয়ী হয়েছে । ব্রিটেনের এই নির্বাচন নিয়ে এখন একটি গোল টেবিল আলোচনায় যোগ দিয়েছেন ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার ও লন্ডন থেকে সাংবাদিক ও সংবাদ বিশ্লেষক কামাল আহমেদ।
এই আলোচনা চক্রটি সঞ্চালন করছেন আনিস আহমেদ। ৬৫০ আসন বিশিষ্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই নির্বাচনে ৩৩০ টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতাসীন কনসার্ভেটিভ পার্টি আবার ও সরকার গঠন করছে, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নের্তৃত্বে। নির্বাচনে জয়লাভের পর মি ক্যামেরনের বলেন যে গত পাঁচ বছরে তার সরকার যে সব কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে ছিল এই ভোটগ্রহণ এবং তার সরকার শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্যে যে ভীত নির্মাণ করেছেন , এটা ছিল সে ব্যাপারেও জনমত । অন্যদিকে নির্বাচনে লেবার পার্টি পেয়েছে ২৩২ টি আসন এবং পরাজয় মেনে নিয়ে লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন যে এখন সময় এসছে এই নের্তৃত্ব অন্য কারও গ্রহণের আমি তাই এখনই পদত্যাগ করছি এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে খোলা মেলা বিতর্ক হওয়ার সময় এসছে।

কনসার্ভেটিভ পাটির আবারও ক্ষতায় ফিরে আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াস। ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছতার মাধ্যমে দলটি এক ধরণের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
একটা জিনিষ এখানে লক্ষ্য করার মতো যে নির্বাচনী পুর্বাভাষের সঙ্গে বাস্তবের ফলাফল মিললো না ।পুর্বাভাষে বলা হয়েছিল যে ব্রিটেনের এই নির্বাচনে এবার সম্ভবত কোনদলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেনা। সম্ভবত একটা ঝুলন্ত পার্লামন্ট গঠিত হবে , এবং হয়ত আবারও নির্বাচন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব রকমের পুর্ভাভাষকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলে রক্ষণশীল দল তার স্থান আগের চেয়ে আরও নিষ্কন্টক করল। এ দিকে এই নির্বাচনে স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি বিপুল সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টির ভরা ডুবির জন্যে এই SNP ‘র জয়লাভটাই বড় কারণ কারণ ঐ আসনগুলোতে আগে জয়লাভ করতো লেবার পার্টি। তবে, এস এন পি’র এই জয়লাভটা খোদ ব্রিটেনের জন্যে এবং বিশেষত রক্ষনশীল দলের জন্যে মারাত্মক
ঝুঁকি বয়ে নিয়ে এসছে।

লেবার পার্টি বা শ্রমিক দলের এই পরাজয় সত্বেও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তিন জন মহিলা এবার লেবার পার্টি থেকে এম পি নির্বাচিত হয়েছেন। রুশানারা আলী , টিউলিপ সিদ্দিক এবং রূপা হক। শ্রমিক দলের জন্যে এ রকম একটা প্রতিকুল পরিস্থিতিতে এই তিনজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নারীর বিজয় নিঃসন্দেহেই প্রশংসনীয় বলে আলোচকরা মনে করেন্
রক্ষনশীল দলের আবার ও সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্র নীতিতে বেশ খানিকটা প্রভাব পড়বে বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদে থাকা না থাকা সম্পর্কে ২০১৭ সালে ব্রিটেনে জনমত যাচাই করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড পরিস্কার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরও সহজ ভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসায় রক্ষণশীল দল তার মেনিফেস্টো আরও পূণাঙ্গ ভাবে বাস্তবায়িত করবে।

XS
SM
MD
LG