অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকারে নেপালে শেষ হল সার্ক সম্মেলন


দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার আহবানের মধ্য দিয়ে নেপালে সার্ক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন ঐসব দেশের নেতৃবৃন্দ। তবে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের বৈরীতা এই সম্মেলন সফল করতে কোন প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের মনে। নয়া দিল্লি থেকে আঞ্জানা পাচরিচার রিপোর্ট অবলম্বনে এ নিয়ে আলোচনা করছেন শেগুফতা নাসরিন কুইন ও সেলিম হোসেন।

সাউথ এশিয়ান এ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিয়নাল কোঅপরেশন, সার্ক বা দক্ষিন এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা’র এবারকার কাঠমন্ডুতে বুধবার শুরু হওয়া সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৮টি দেশের নেতৃবৃন্দের যে অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে তা হচ্ছে; ঐক্যবদ্ধভাবে দারিদ্র ও সন্ত্রাস মোকাবেলা করা।

কাঠমান্ডুতে সার্কের অষ্টাদশ সম্মেলন বুধবার শুরু হয়েছিল জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক রেল সহযোগিতা এবং পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চলাচল চুক্তির আশা নিয়ে। আর তার আংশিক সফলতা নিয়েই শেষ হয় সম্মেলন।

এবারের সার্ক সম্মেলনে ভাষণদানকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রো মোদী বলেছেন দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় আরো নিবিড় হওয়া প্রয়োজন।

মোদী বলেছেন “ভারতের জন্য এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ৫টি ভিত্তির ওপর- বানিজ্য, বিনিয়োগ, সকল ক্ষেত্রে অংশদিারিত্ব ও সহযোগিতা এবং বাধাহীনভাবে মানুষে মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি। আমার কাছে এটি সময়ের আহবান”।

তিনি অঙ্গীকার করেন সীমান্ত সুবিধা বৃদ্ধি করে, বানিজ্য ভিসা সহজীকরণ করতে যা যা প্রয়োজন তার সবকিছু নিশ্চত করবে ভারত। ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির কোন লক্ষণ না থাকায় সমালোচকরা দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

সার্কের মূল কর্মসূচীর পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী পার্শ্ববৈঠকে অন্যান্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন, শুধুমাত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছাড়া।

আর পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী নাওয়াজ শরীফের ‘বিশ্বাস’ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ’কে অনেক সসালোচক তীর্যকভাবে দেখছেন।

নাওয়াজ শরীফ বলেন, “এই অঞ্চলের জন্য আমার লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধ-মুক্ত দক্ষিণ এশিয়া গঠন যেখানে একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ না করে আমরা একত্রে যুদ্ধ করবো দারিদ্র, অশিক্ষা রোগ, অপুষ্টি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে। আমাদের তরুণদের মেধা’কে বিনিয়োগের মাধ্যমে তা করা সম্ভব। আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের একের অন্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে”।

আর বিশ্বাস স্থাপনের দায়িত্ব একপক্ষ অপর পক্ষকে চাপাচ্ছে। পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী বলছেন ভারত পাকিস্তান আলোচনার বিষয়ে এখন সব দায় দায়িত্ব ভারতের। নয়াদিল্লি কতৃপক্ষ বলছে তারা শুধুমাত্র অর্থপূর্ন আলোচনায় বিশ্বাসী।

আগস্টে দিল্লির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে দু’পক্ষের সম্পর্কে চিড় ধরে। এক দশকে কাশ্মীর সীমান্তে ঘটা সহিংসতা, সে সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটায়।

সার্কের মাধ্যমে যে ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের খুব একটা উন্নতি হবে তা মনে হচ্ছে না। এদিকে চীনকে সার্কের পর্যবেক্ষক থেকে আরো উন্নত করার, পাকিস্তানের পরামর্শকে বাতিল করে দিয়েছে ভারত।

তবে সার্কের সমাপনী অধিবেশনে দুই নেতা হাত মেলানোর সময় টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছিল, তারা অন্তত ৩০ সেকেন্ড পরস্পরের হাত ধরে রাখেন। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন অনেকেই।

এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ স্বাগতিক নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আব্দুল গাইয়ুমও মঞ্চে ছিলেন।

ভারতের মুম্বাইয়ে বোমা হামলার ৬ষ্ঠ বার্ষিকী; যাতে ১৬৬জন নিহত হয়েছিল, কাকতালিয়ভাবে সেই দিনেই অনুষ্ঠিত হয় সার্ক সম্মেলন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রো মোদী নেপালে বক্তব্যদানকালে সেই বোমা হামলার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, “আজ ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ের সেই ভয়াবহ বোমা হামলার কথা স্মরণ করি, স্মরণ করি সেই হামলায় নিহত ও আহতদের অবর্ননীয় কষ্টের কথা। তাদের সম্মান জানাতে চলুন আজ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে অঙ্গীকারাবদ্ধ হই”।

কাশ্মীর নিয়ে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছাড়াও, পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গীরা বিভিন্ন সময়ে ভারতে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটায়, নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ এবং ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করাসহ নানা কারনে দু’দেশের সম্পর্ক ভাল নয়। এবারের সার্ক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে নরেন্দ্রো মোদী ও নাওয়াজ শরীফের হাত মেলানো ও কুশল বিনিময়ের দৃশ্য অনেকের মনে আশা যুগিয়েছে।

পরবর্তী সার্ক শীর্ষ সম্মেলন, ২০১৬ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

XS
SM
MD
LG