অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫১ রানের জয়ের মধ্য দিয়ে কোলকাতার ইডেনে স্মরণীয় হয়ে থাকল লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯৯তম এবং কোলকাতায় শেষ টেস্ট ম্যাচ। পুরো ভারতবর্ষ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার শচীন ভক্ত আসেন কোলকাতায় তার শেষ টেস্ট খেলা দেখতে। স্বামীর ব্যাটিং দেখবেন বলে মুম্বাই থেকে উড়ে আসেন স্ত্রী অঞ্জলি টেন্ডুলকারও।

শচীনের শেষ ম্যাচ বলে ইডেনে ঢোকার টিকিটে ছিল টেন্ডুলকারের ছবি, সোনার মুদ্রা দিয়ে টস হলো, তাতেও টেন্ডুলকারের মুখ। মহেন্দ্র সিং ধোনি টস হেরে যাওয়ার পর ইডেনের গ্যালারিতে একটা আফসোসের সুর বাজে। ব্যাটিং নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অলআউট হয়ে যায় ২৩৪ রানে।

প্রথম দিনই ইডেন টেন্ডুলকারকে সামান্য দেখার সুযোগ পান ভক্তরা। ধোনি তাঁর হাতে বল তুলে দেওয়ার পর প্রথম ওভারেই টেন্ডুলকার ফিরিয়ে দিলেন শেন শিলিংফোর্ডকে।

তবে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারলেন না লিটল মাস্টার। টেন্ডুলকারকে ঘিরে ইডেনের পার্টি বরবাদ করে দেন শিলিংফোর্ড। তাঁর অসাধারণ এক দুসরায় বিভ্রান্ত হয়ে ব্যক্তিগত ১০ রানে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি। অথচ এই শিলিংফোর্ডকেই কী অসাধারণ দুটো শটে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলে নিজের ইনিংস শুরু করেছিলেন ‘লিটল মাস্টার’।টেন্ডুলকার যখন ফেরেন, তখন স্কোরবোর্ডে ভারতের রান ৮২।
পরের পুরো সময়টাই ছিল ছিল রোহিত শর্মার। সঙ্গে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। ২২৮ বল খেলে ১৬টি চার আর একটি ছয়ে ১২৭ রানে এখনো অপরাজিত রোহিত। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থেকে অপরাজিত অশ্বিন। ১৪৮ বল খেলে ১০টি চারে সাজানো অশ্বিনের ইনিংসটি ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটা বুঝতে ভুল করবেন—এমন ক্রিকেটপ্রেমী বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। ১৯৯তম টেস্টে টেন্ডুলকারকে ইনিংস ও ৫১ রানের জয় উপহার দিল ভারত।


ম্যাচ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পাওয়া উত্তরীয় আর একসময়ের সতীর্থ সৌরভ গাঙ্গুলী পাগড়ি পরিয়ে দেওয়ার পরও যেন ম্লান লিটল মাস্টারের মুখ। হয়তো ভেতরে বিদায় রাগিণী বাজছিল বলে, হয়তো ইডেনে নিজের শেষটা মনের মতো হয়নি বলেও।
দারুণ জয়ের পরেও কিসের যেন হাহাকার ছিল ইডেনের গ্যালারিতেও। ব্যাট হাতে টেন্ডুলকারকে যে আর কোনো দিন দেখা যাবে এই মাঠে।
XS
SM
MD
LG