অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিজ্ঞানের কথা: থমকে থাকা বয়স, কিছু নতুন তথ্য

  • আনিস আহমেদ

বিজ্ঞানের কথা: থমকে থাকা বয়স, কিছু নতুন তথ্য

বিজ্ঞানের কথা: থমকে থাকা বয়স, কিছু নতুন তথ্য

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে বয়সের কারণে স্বাভাবিক ভাবে প্রানী দেহে যে ক্ষয় দেখা দেয় , তাতে একটা বড় রকমের পরিবর্তন আনতে তাঁরা সমর্থ হয়েছেন , ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে । লক্ষ্য করা গেছে যে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে তাঁরা দেখেছেন তাদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানো যায় এবং মস্তিস্কে নতুন কোষ ও গড়ে ওঠে।

কবি যখন বলেন বার্ধক্যের কালো বারান্দার কথা , তখন দৃষ্টিটা থাকে জীবনের বিপরীতে , মৃত্যুমুখী। আর মরণরে তুঁহু মম শ্যামসম বলে যতই না কেন আমরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই , মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে এই বাস্তবতাটাও সত্য। আচ্ছা , সত্যিই যদি এমনটি হতো যে আমাদের জীবনের চাকা উল্টো দিকে ঘুরতো , আমরা সবাই যেন আবার জীবনমুখি হয়ে উঠতাম , তা হলে কী মজাই না হতো। সেদিকেই বোধ করি যাবার জন্যে এই প্রথম বোস্টনের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের Dana-Farber Cancer Institute এর বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ইঁদুরের বয়সের গতিকে পাল্টে দিয়েছেন, ঠিক উল্টো দিকে। বৃদ্ধ হতে সহায়ক ক্ষতিকর একটি জিনকে মুচড়ে বার্ধক্যের দিকের এই যাত্রাকে তারা প্রতিহত করেছেন।

এই জিনই টিলোমিয়ারস নামের ডিএন এ , ক্রোমোজমের ইঙ্গিতে কাঠামো তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

টেলিমিয়ার্স হচ্ছে অনেকটা প্লাস্টিকের খোপের মতো একটা জিনিষ যেটা জুতোর ফিতের শেষে ব্যবহার করা হয় যাতে করে সেটা ক্ষয়ে না পড়ে। ক্রোমোজোমের ক্ষেত্রে , টেলিমিয়ার্সও রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং বিকিরণের মাধ্যমে যে পারিবেশিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে তা থেকে ডিএনএ ‘র তন্তুকে রক্ষা করা যায়।

তবে প্রতিবার কোষ যখন বিভক্ত হয়, তখন টেলিমিয়ার্স ছোট হয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বয়স বাড়তে থাকে।

ইঁদুর নিয়ে গবেষণায় , প্রধান গবেষক Mariela Jaskelioff বলছেন যে গবেষকরা টেলিমোরেজ জিন বন্ধ করে দেন এবং লক্ষ্য করেন যে ইদুররা দ্রুত বয়স জনিত সমস্যার সম্মুখীন হয়।

কিন্তু বিজ্ঞানিরা যখন জিনগুলো সচল করেন , তখন , যেমনটি জাস্কিলিওফ বলছেন , যে তখন ঐ ইদুরের ক্ষয় বন্ধ হয়ে গিয়ে বরঞ্চ ইদুরের বয়স কমার দিকে যায়। তিনি বলেন , “ তাদের প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসলো । আমরা অন্ত্রের বাইরের দিকে এবং মস্তিস্কে এর একটা বড় রকমের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করেছি। এটা তেমন ভাবে প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা আসলে অসময়ে ইদুরের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে , এদের মস্তিস্কের আকার কমতে দেখেছি। এবং তখন আমরা টেলিমোরেজ আবার সক্রিয় করে এ পদ্ধতিকে পাল্টাতে পেরেছি”।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে এই ইঁদুরগুলির বয়স ছিল ৮০/ ৯০ বছরের মানুষের সমানুপাতিক। গবেষকরা টেলিমোরেজ সক্রিয় করে তাদেরকে মধ্যবয়সী ইঁদুরে পরিণত করেছে ।

এ রকম উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল সত্বেও জিনের এই হেরফের মানুষের জন্যে চিরযৌবন আনার ক্ষেত্রে একটা ভুমিকা রাখতে পারে সেটা কোন গোপন কথা নয়। তবে তিনি বলেন যে এতে স্বাভাবিক কোষের পাশাপাশি ক্যান্সারের কোষ ও বিস্তৃতি লাভ করতে পারে । আর ভয়টা সেখানেই।

তবে Jaskelioff বলছেন যে অল্প সময়ের জন্যে এই টিলোমিরেস জিনকে মানুষের দেহেও নাড়া দেয়া যেতে পারে , যাতে হয়ত , বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা শুরু হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই ইদুরের বয়স হ্রাস করার বিষয়ে , নেচার মেডিসিন জার্নালে নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

XS
SM
MD
LG