অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রে মোদির সফর : দু দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠতা পেল


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হোয়াইট হাউজ সফরের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি , বিশ্বের এই দুটি সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ দুটির মধ্যে নিবিড় বন্ধনের কথা তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উড্রো উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুগেলম্যান বলেন যে এই দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিবর্তন অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। তিনি বলেন ওবামা প্রশাসনের সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে। ওবামা যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন তখন তিনি আফগানিস্তানের যুদ্ধের ওপরই জোর দেন বেশি। মনোযোগটা ছিল আফগানিস্তানের ওপর সব চেয়ে বেশি এবং সেই কারণে খানিকটা পাকিস্তানের দিকেও । তবে কুগেলম্যান বলছেন ওবামা প্রশাসনের এই দ্বিতীয় মেয়দে সব কিছু দ্রুত বদলে গেল। ওবামা প্রশাসন মনে করে চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার জন্য এবং বিশেষত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসী ভূমিকা মোকাবিলার জন্য ভারত সব চেয়ে উপযুক্ত শক্তিধর দেশ । কুগেলম্যান বলছেন যে ওবামা ও মোদির মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কটাও অত্যন্ত ভালো বিস্ময়কর কথা হচ্ছে মোদির রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে তিন বছর আগে পর্যন্ত মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সে সময় থেকে মোদি অনেকটা এগিয়ে এসছেন।

নরেন্দ্র মোদিকে সানন্দে স্বাগত জানানো হয় এবং তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ করেছেন , বুধবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। দুই নেতাই বলেছেন যে এ বছরের শেষ নাগাদ তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন তবে অনেকের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাঁরা ঐ চুক্তি স্বাক্ষরের কোন তারিখ ঘোষণা করেননি। দূষণমুক্ত জ্বালানির ব্যাপারে মোদির প্রতিশ্রুতির জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁকে ধন্যবাদ জানান। প্রথম দফা বৈঠকের পর তার ডান দিকে বসে ওভাল অফিসে ওবামা বলেন , আমাদের উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের বিষয় হচ্ছে , অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সুযোগ বাড়িয়ে তোলা এবং জনগণের দারিদ্র মোচন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি , বিনিয়োগ , বানিজ্য এবং জনগণের জন্য , বিশেষত আমাদের দু দেশের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি যে খানে আমরা আরও কার্যকর ভাবে সহযোগিতা করতে পারবো।

মোদি বলেন যে তাঁর দেশে আশি কোটি লোকের বয়স ৩৫ বছরের কম এবং যুক্তরাষ্ট্র জানে ভারতের মেধা সম্পর্কে । তিনি বলেন “আমরা এবং যুক্তরাষ্ট্র একত্রে এই প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারে মানুষের মঙ্গলের জন্য , উদ্ভাবনের জন্য এবং নতুন নতুন প্রগতির জন্য”।

ওবামা এবং মোদি নিরাপত্তার বিষয় এবং আন্তর্জাতিক পারমানবিক বিস্তার রোধ সম্পর্কে ও আলোচনা করেন। ব্যক্তিগত ভাবে মোদি বলেন , “ আমি সব সময়ে আমার বন্ধু ওবামা যে সহায়তা ও বন্ধুত্বের হত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার মূল্যায়ন করবে। সে কথা আমি সব সময়ে মনে রাখবো।

তবে এ সব সত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিধায়ক এ সম্পর্ক সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। এখানকার টম ল্যান্টস হিউমান রাইটস কমিশন মঙ্গলবারই ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর একটি শুনানী করেছে যেখানে ভারতের দরিদ্র জনগোষ্ঠি বিশেষত দলিতদের প্রতি আচরণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

XS
SM
MD
LG