অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশেষ ধরণের ঘাস , উষ্ণায়ন রক্ষায় সহায়ক


বিশেষ ধরণের ঘাস , উষ্ণায়ন রক্ষায় সহায়ক

বিশেষ ধরণের ঘাস , উষ্ণায়ন রক্ষায় সহায়ক

কলম্বিয়ার একটি আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে ব্রাকিয়ারিয়া নামের যে এক ধরণের ঘাস , গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্যে ব্যবহার করা হয় , তা ঐ ক্ষেত্রে গ্রীন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসে যেমন তেমনি বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদিত সারের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে। যুক্তরাষ্ট্রে , যেমন ধরুন , গ্রীণ হাউজ গ্যাস নিঃসরণের ৬% ‘র উৎস হচ্ছে কৃষি ও গবাদিপশুর ক্ষেত্র।

গবাদি পশু এবং কৃষিক্ষেত্রকে এই গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের একটি প্রধান উৎস বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আসলে এই সব পশু ঠিক এ জন্যে দায়ি নয়।

তাদেরকে ব্রাকিয়ারিয়া নামের ঘাস এবং এক ধরণের পরীক্ষামূলক মিশ্র খাবার খাওয়ানো হয়েছে এবং এটি বিশ্ব উষ্ণায়নে কৃষির ভুমিকাকে নাটকীয় ভাবে হ্রাস করতে পারে। গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কাজ করেন রাইমুন্ডু ক্রুজ :

তিনি বলছেন যে এই ধারণের ঘাস খাওয়ালে গবাদি পশু খুব দ্রতই হৃষ্ট-পুষ্ট হয়ে ওঠে কারণ এই ঘাসের মধ্যে প্রোটিন আছে , এবং তা গবাদি পশুর জন্যে হজম করাও সহজ।

এই ব্রাকিয়ারিয়া ঘাস যে সব গরুকে খাওয়ানো হয় , তাদের মলমূত্রে মিথেইন জাতীয় গ্রীন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ থাকে অনেক কম। ক্রুজ আরো বলছেন যে ৬ থেকে ৮ বছর ধরে জমিতে পালাক্রমে ব্রাকিয়ারিয়া ও আনারসের চাষ করে , তিনি , প্রতি হেক্টার এলাকায় গরু পালনের সংখ্যা তিনগুণ বাড়িয়েছেন এবং সেই সঙ্গে বানিজ্যিক সারের ব্যবহার ও বন্ধ করেছেন।

এই ব্রাকিয়ারিয়া ঘাস সাধারণত । উষ্ণমন্ডলীয় এলাকার চারণভুমিতে পাওয়া যায় । সম্প্রতি কলাম্বিয়ার বিজ্ঞানিরা এবং তাদের সহযোগি জাপানি বিজ্ঞানিরা।

এটি আবিস্কার করতে সমর্থ হয়েছেন যে গবাদি পশুর জন্যে এই ধরণের ঘাস হজম করতে সহজ যেমন তেমনি তা গবাদি পশুর পুষ্টির জন্যেও ভাল। তবে শুধু এই টুকুন না ব্রাকিয়ারিয়া জমির মান উন্নিত করে এবং গবাদি পশু এবং রাসায়নিক সারের কারণে যে গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন হয় , তা ও কমিয়ে আনে। কলম্বিয়ার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রপিকাল এগ্রিকালচার এ বর্তমানে গবেষণা করছেন , ইন্দু পুলাপাতি রাও । তিনি বলেন এই সব ঘাষের যে গভীর গ্রথিত শেকড় রয়েছে , সেখান থেকে এক বিশেষ ধরণের রাসায়নিক যৌগ এবং অর্গ্যানিক যোগ নিঃসরিত হয় । এটিকে বলা হয় ব্রাকিয়াল্যাকটোন।

আর এই রাসায়নিক পদার্থটিই এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু করে যার ফলে ভুমিতে নাইট্রোজেনের গ্রীন হাউজ গ্যাসে রূপান্তরিত হবার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। অথচ বিশ্বব্যাপী বানিজ্যিক ভিত্তিতে যে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় , সেখানে নাইট্রোজেনকেই পুষ্টির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞানিরা এই ব্রাকিয়ারিয়া ঘাসের জিনোম গবেষণার পাশপাশি , এ ঘাসকে আফ্রিকা ও এশিয়ার উষ্ণমন্ডলীয় এলাকায় ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছেন।

সংশ্লষ্ট

XS
SM
MD
LG