অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা বিষয়ে স্টুডিও আলোচনায় রোকেয়া হায়দার ও আনিস আহমেদ


ওয়াশিংটনে যেমনটি আমরা জানি এবারকার এই পারমানবিক নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনটি চতুর্থ সম্মেলন । এর আগেও তিন বার এ বিষয়ে সম্মেলন হয়েছে।

বিশেষত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগে বিশ্বের পরমাণু শক্তি সম্পন্ন দেশগুলোর প্রধানরা আরও বার তিনেক মিলিত হয়েছেন , পরমাণূ শক্তির ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে যেমন সতর্ক করাতে , তেমনি এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতে করে বিশ্বের কোথাও জীবন কোন রকম হুমকির সম্মুখীন না হয়।

এবারকার এই চতুর্থ সম্মেলন , যা কীনা বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার মেয়াদে পরমাণু নিরাপত্তা বিষয়ক শেষ সম্মেলন একটা ভিন্ন গুরুত্ব রাখে, এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে । এখন যে কেবল উত্তর কোরিয়ার মতো পরমাণু শক্তি সম্পন্ন দায়িত্ব জ্ঞানহীন রাষ্ট্রগুলোর তরফ থেকে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে , তাই-ই নয় ; রাষ্ট্র বহির্ভূত কথিত ইসলামিক স্টেটের মতো গোষ্ঠিগুলোর কাছ থেকেও বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

আই এস এর মধ্যেই বেপরোয়া ভাবে ধর্ম, বর্ণ , জাতি নির্বিশেষে , তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিভিন্ন দেশে হত্যা করে চলেছে , তাদের হাতে পরমাণু অস্ত্রের মতো জীবন নাশী অস্ত্র-প্রযুক্তি পৌঁছুলে গোটা বিশ্বের জন্যে তা হবে এক ভয়াবহ পরিণতি।

এই আশঙ্কাকে নিয়ে যেমন এই সম্মেলন , তেমনি উত্তর কোরিয়ার মতো এক নায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরমাণু শক্তির প্রদর্শনীটা ইদানিং যেন একটা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । এই দেখুন না আজকের খবরেই বলা হয়েছে যে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে , উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকুল থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে পিয়ংইয়ং সরকার এ ধরণের পরীক্ষার নামে কার্যত এক ধরণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

এবারের এই সম্মেলনে আই এস এবং উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গটি প্রধান্য পাচ্ছে। এই ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপের আগেই প্রেসিডেন্ট ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার , কোরিয়ান উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার কথা বলেন। এই সম্মেলনে যোগদানরত ৫০ টি রাষ্ট্রের নেতাদের উদ্দেশ্য দেওয়া ভোজসভায় , উত্তর কোরিয়ার , পরমাণু অস্ত্র তৈরি এবং তা প্রয়োগের আশঙ্কার উপর আলোকপাত করা হয়।

কোরীয় উপদ্বীপে এই শান্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন , কেবল মাত্র দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার বিবাদ নিরসনের লক্ষেই নয় , গোটা অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যেও। জাপান , যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পরমাণু বোমার প্রথম শিকার, তারা স্বভাবতই উত্তর কোরিয়ার এই ধরণের তৎপরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

তবে একটা জিনিষ কী জানেন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলা করার কিছু কিছু উপায় রয়েছে , এবং সেগুলো দেশটির উপর প্রয়োগ ও করা হয় ;

যেমন ধরুন উত্তর কোরিয়া উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপ, যেমনটি আমরা ইরানের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করেছি। কিন্তু যেগুলো রাষ্টবিহীন সংগঠন বা Stateless Agents এদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার প্রয়োজন সব চাইতে বেশি। আই এস , কিংবা আল ক্বায়দার মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠি বিশ্বে তান্ডব সৃষ্টি করতে পারে , যদি তারা কোন পারমানবিক স্থাপনায় আক্রমণ চালায় কিংবা পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুত্রগুলো প্রয়োগ করে। সে ক্ষেত্রে Nuclear Proliferation বা পারমানবিক বিস্তার রোধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

এরই মধ্যে খবরে বলা হচ্ছে যে ২২শে মার্চ ব্রাসেলস সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই ভাই , বেলজিয়ামের পারমানবিক স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য নেয়ার এক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ও জড়িত ছিল। হোয়াইট হাউজের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সহকারী বেন রোডস তো পরিস্কার বলেছেন যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাঁচা মালের নাগাল পেতে আগ্রহী যাতে করে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারে। সে জন্যেই প্রয়োজন পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী রাষ্ট্রগুলোর দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকার । প্রথমত , নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে রাখা আর দ্বিতীয়ত এই অস্ত্র যাতে দায়িত্ব জ্ঞানহীন কোন ব্যক্তি , সংগঠন বা রাষ্ট্রের হাতে না পড়ে , তার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা।


XS
SM
MD
LG