অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আসাদ সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে সন্দেহ নেই: হোয়াইট হাউজ


সন্দেহ করা হচ্ছে গত সপ্তাহে সিরিয়া সরকার সাধারন জনগনের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আর তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ তদন্ত দল সিরিয়া থেকে আলমত সংগ্রহ করছে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্ব শক্তিগুলো সিরিয়া সরকারের সন্দেহভাজন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান চালানোর ব্যপারে আন্তর্জাতিক সমঝোতায় আসার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিরিয়া ও বিশ্বশক্তি’র অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে এখন শুনুন ভয়েস অব আমেরিকার ওয়াশিংটন ষ্টুডিও থেকে সরাসরি আলোচনা। এতে অংশ নেন রোকেয়া হায়দার ও সেলিম হোসেন:

সিরিয়ার বাথ পার্টি সমর্থিত বাশার আল আসাদ সরকারের প্রতি জনগনের অনাস্থার অভিযোগ তুলে সরকার বিরোধীরা প্রতিবাদ শুরু করেন ১৫ই মার্চ ২০১১ সালে যা একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যপী।

কয়েকমাস আগে ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঘটে তিউনিসিয়ায় একই প্রকার আন্দোলন যা মাত্র একমাসে বেন আলী সরকারের পতন ঘটায়।

একই সময়ে ২৫ জানুয়ারী ঘটে ঐতিহাসিক মিশর বিপ্লব। হোসনী মোবারক সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশে ঘটে জনতার বিপ্লব। এক সময় পতন ঘটে মোবারকেরও।

মাত্র একমাস পর দক্ষিন আফ্রিকান দেশ লিবিয়ায় শুরু হয় গাদ্দাফী বিরোধী বিক্ষোভ। একই কায়দায় পতন ঘটে তারও। এরই এক মাসের মাথায় শুরু হয় সিরিয়া আন্দোলন।

বুদ্ধিজীবিরা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতে একের পর এক ঘটে যাওয়া বিপ্লব’কে ইতিবাচক উল্লেখ করে ঐ অঞ্চলে গণতন্ত্রায়নের এই সূচনাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘আরব বসন্ত’ হিসাবে। যদিও এই বসন্তের আগমন কোন শান্তিপূর্ন সঙ্গীতের সুর লহরীতে নয়, এসেছে আধুনিক সমরাস্ত্র, রাইফেল, কামান আর শত সহস্র বিস্ফোরকের শব্দে, লক্ষ তাজা প্রাণের বিনিময়ে।

দুই বছর আগে বাশার আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অনাস্থা, প্রতিবাদ বিক্ষোভ আকারে চলে আসছিলো। তিউনিসিয়া, মিশর ও লিবিয়ার ন্যায় দ্রুত পতন ঘটেনি বাশার আল আসাদের। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সাধারন মানুষ হত্যা না করার আহবান জানানো হয় বহুবার। কিছুই কানে তোলেন নি আসাদ সরকার।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার’কে মেনে নিতে পারেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়ার পরাশুক্তিসমূহ সিরিয়া সরকারকে সতর্ক করেছে।

যদিও সিরিয়া বলছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, জাতিসংঘ তদন্ত দল সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। যদি প্রমান মেলে তাহলে সম্মিলিতভাবে সেনা অভিযানে নামবে আন্তর্জাতিক মহল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেছেন সিরিয়া সরকারের সন্দেহভাজন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানে বৃটিশ আইন প্রণেতাদের বিরোধীতা স্বত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মহলের সাথে যোগাযোগ করে চলছে।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন যার মাধ্যমে একসাথে কাজ করা সম্ভব হয়”। সিরিয়ায় সেনা অভিযানে বৃটেনের অংশগ্রহণে দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ বিরোধীতা করার একদিন পর শুক্রবার ম্যানিলায় চাক হেগেল এ কথা বলেন।

সিরিয়ায় সেনা অভিযানের পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার লক্ষ্যে কাজ করে চলছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী সিরিয়া বিষয়ে ভাষণ দেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তার উপদেষ্টাদের বৈঠকের পর সিরিয়া বিষয়ক কিছু প্রমানাদি সম্বলিত একটি প্রতিবেদন সাধারন মানুষের জনার জন্য প্রকাশ করা হবে শীঘ্রই।

সংসদের নিম্নকক্ষ থেকে নেতিবাচক ভোটের কারনে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এতে একটু বাধার সম্মুখীন হলেন, তবে তিনি সাংসদদেরকে বলেছেন সেখানে সেনা অভিযান চালানো হবে যুদ্ধাপরাধের কারনে, সিরিয়া সরকারকে হঠানোর লক্ষ্যে নয়।

বৃটিশ সংসদের ‘না ভোটে’র ব্যপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাক হেগেল বলেন, “প্রথমে প্রত্যেক জাতীর সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব তার নিজের। এবং যে কোনো জাতীর ক্ষেত্রে আমরা তা সম্মান করি। অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রের ন্যায় এ ব্যপারে আমরা বৃটেনের সঙ্গে আলোচনা করছি। এবং আলোচনা চলছে মূলত সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্মিলিত জবাব নিয়ে”।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা হোয়াইট হাউজ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সেনা অভিযানের যৌক্তিকতা ভালভাবে যাচাই বাছাই করে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কংগ্রেস সদস্যদেরকে সিরিয়া বিষয়ে অবহিত করতে গিয়ে বলেন গত সপ্তাহে যে সিরিয়া সরকার দেশের সাধারন মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সিরিয়া বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ধারনা করা হচ্ছে সেনা অভিযানই হতে পারে সিরিয়া বিষয়ক চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

সিরিয়ান কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে, জাতিসংঘ তদন্ত দলের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, সেখানে সেনা অভিযান না চালানোর জন্য বিশ্ব শক্তিগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।

বৃহস্পুতিবার জাতিসংঘ মুখপাত্র ফারহান হক বলেন তদন্ত দলটি শনিবার নাগাদ সিরিয়া থেকে ফিরে আসবে। তিনি বলেন কিছু তদন্ত কর্মকর্তা নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে তাদের তদন্ত ফলাফল নিয়ে ব্রিফিং দেবেন এবং অন্যান্যরা সিরিয়া থেকে নিয়ে আসা আলামত পরীক্ষার জন্য ইউরোপ যাবেন।

এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন যুক্তরাষ্ট্র এবং অপরাপর পশ্চিমা শক্তি, গত সপ্তাহে সাধারন সিরিয়ানদের ওপর যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছে, তা সমাধানের জন্য কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর একটা সুযোগ প্রয়োজন।

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, রাশিয়া, চীন এবং ফ্রান্স সিরিয়া বিষয়ে বৃটেনের সেনা অভিযান প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। সেখানে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা সাংবাদিকদেরকে বলা হয়নি।

ইরান সিরিয়ার বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের ব্যপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে এমন কিছু হলে ইসরাইলের ওপর আঘাত আসবে।

জার্মানী সিরিয়ায় সেনা অভিযানের বিরোধী করেনি। তবে এতে অংশ না নেয়ার ঘোষনা দিয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী ষ্টিফেন হারপার বলেছেন সিরিয়া বিষয়ে ওয়াশিংটনের যে কোন সিদ্ধান্তের সাথে একমত রয়েছেন তারা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দে বলেছেন মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারকারীর শাস্তি প্রদানে তার সরকার প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযানের সঙ্গে তারা থাকবেন কি না সে ব্যপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

টোকিও থেকে জাপানের মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেছেন জাপানের সকল মন্ত্রী একমত যে আসাদ সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তা সহ্য করা হবে না। জাপান সকল প্রকার সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।
XS
SM
MD
LG