অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সেনা অভিযান ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক হবে: পুতিন


সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ে মস্কোর পরিকল্পনা নিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভ্রভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী যখন আলোচনার জন্য প্রস্তুত ঠিক তখন সিরিয়ায় সেনা অভিযান পরিচালনার খারাপ দিক কি হতে পারে সে ব্যপারে সতর্ক করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে ভয়েস অব আমেরিকার রিপোর্ট নিয়ে ষ্টুডিও থেকে সরাসরি পর্যালোচনা করেন রোকেয়া হায়দার এবং সেলিম হোসেন:

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সিরিয়ায় একপেশে সেনা অভিযান পরিচালনা না করে জাতিসংঘের মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে, নিউইয়র্ক টাইমসের একটি মতামত নিবন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযান সিরিয়ায় সংঘাত বাড়াবে এবং নতুন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড উস্কে দেবে; যা ইরানের পারমানবিক কর্মসূচী এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ভ্লাদিমির পুতিন আরো বলেছেন সিরিয়ায় যেনো বিদেশী সেনা অভিযান পরিচালিত হয় সে লক্ষ্যে বহির্বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিরোধী পক্ষের যোদ্ধারা সেখানে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে তার যথেষ্ঠ যৌক্তিকতা রয়েছে।

অবশ্য, গতমাসে দামেষ্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং অপরাপর পশ্চিমা নেতৃবৃন্দ সিরিয়ার সরকারী বাহিনীকে দায়ী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে সিরিয়ার সাধারন মানুষের ওপর সরকারী বাহিনীর বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারে চৌদ্দ’শ মানুষ নিহত হয়েছে।

মিষ্টার ওবামা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযানের হুমকীর কারনেই আসাদ সরকার রাশিয়ার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র জাতিসংঘের কাছে সমর্পন করা ও তা ধ্বংস করার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আজ বিকালেই বসছেন জন কেরী এবং সেরগেই লাভ্রভ।

কেরীর সফর সঙ্গীরা বলেছেন এই আলোচনায় রাশিয়ার প্রস্তাবের বাস্তবতা বেরিয়ে আসবে। এবং যুক্তরাষ্ট্র চায় যত দ্রুত সম্ভব সিরিয়া তার রাসায়নিক অস্ত্র ভান্ডার সমর্পন করুক। তারা বলেন ঐসব অস্ত্র নিরাপদ করা সম্ভব, তবে তা কঠিন এবং জটিল।

পররাষ্ট্র দফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন এখানে আসার পূর্বে জন কেরী এবং সেরগেই লাভ্রভ টেলিফোনে কথা বলেছেন। তারা সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র চিহ্নিত করন, পরীক্ষণ এবং শেষমেষ তা ধ্বংস করা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলাপ করেন।

সিরিয়া সংকট নিরসণে মিস্টার ওবামা রাশিয়ার কুটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন কোনো কারনে কুটনীতি পরাস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

রিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং তার মিত্র রাশিয়ার মতলব নিয়ে বেশ সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্র। আর তা ষ্পষ্ট বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র জেন সাকির (Jen Psaki) মন্তব্যে:

“সাকি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের রয়েছে দীর্ঘ এবং নানা ঘটনাবহুল ইতিহাস। ফলে আবারো আমরা তাতে জড়াবো না। আমরা এই আলোচনায় যাচ্ছি চোখ কান খোলা রেখে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী দুদিন আগে যখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি পরিস্কার করে বলেছেন যে এ নিয়ে আমরা কোন খেলায় জড়াতে চাইনা”।

আজ জন কেরী জাতিসংঘে আরব লীগের শান্তি দূত লাখদার ব্রাহিমির (Lakhdar Brahimi) সঙ্গেও বৈঠক করবেন।


এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধিরা, রাশিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সমঝোতা হলে তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রস্তাব পাশ করার লক্ষ্যে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাশিয়া ইতিমধ্যেই বলেছে সিরিয়ায় যে কোন ধরনের সেনা অভিযান তারা ঠেকাবে।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা সিরিয়া বিষয়ে কুটনৈতিক সমাধানের ব্যপারে বেশ আশাবাদী। সেটা বোঝা যায় জাতিসংঘ মুখপাত্র ফারহান হকের কথা থেকে:

“সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার প্রতিরোধ এবং ধ্বংসের ব্যপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমঝোতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন মহাসচিব বান কি মুন, যাতে এর মাধ্যমে একটি চুক্তি হয় এবং নিরাপত্তা পরিষদ তা ধ্বংস করতে পারে”।

এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহী পক্ষ ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’র প্রধান সালিম ইদ্রিস অনলাইনে পোষ্ট করা এক ভিডিও বার্তায় রাশিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন শুধুমাত্র রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করলেই হবে না; যারা তা ব্যবহার করেছেন তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

মিষ্টার ওবামা বলেছেন সিরিয়া সরকারের ওপর চাপ রাখার লক্ষ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে এবং রাসায়নিক অস্ত্র সমর্পনের চুক্তি চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা সেখানে থাকবে। জন কেরী বলেছেন এ বিষয়ক চুক্তি হওয়া কঠিন হবে।

মধ্যপ্রাচ্য এবং জাতিয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এরি র‌্যাটনার Ari Ratner বলেছেন, সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য সমঝোতার প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করতে হবে।

“তিনি বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হতে সিরিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আলৈাচনা হওয়া দরকার। তবে গত দুই সপ্তাহে যে যুদ্ধ যুদ্ধ সাজ পড়েছে, তা কুটনৈতিক সমাধানে একটা বাধা হয়ে দাড়াবে। আর যদি শেষমেষ কুটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে শেষবারের ন্যায় আবারো একইভাবে চেষ্টা চালাতে হবে”।

র‌্যটনার বলেন সিরিয়ায় বিদ্রোহী বাহিনী কুটনৈতিক প্রচেষ্টার চেয়ে সেনা অভিযান চাইবে এটিই স্বাভাবিক। এখন বিশ্ববাসী অপেক্ষা করে আছে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার ফলাফল দেখার জন্য।
XS
SM
MD
LG