অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিরিয়ান শরনার্থীদের মানবিক সহায়তার জন্যে ১০০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি


যুদ্ধ বিধ্ধস্থ সিরিয়া থেকে প্রানভয়ে পালিয়ে যাওয়া সিরিয়ান শরনার্থীদের মানবিক সহায়তা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার জন্যে ১০০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি করেছেন লন্ডনে এক বৈঠকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে দেশটির বিদ্রোহী অধ্যুষিত আলেপ্পো শহরে চলছে তুমুল লড়াই। লন্ডন থেকে এ বিষয়ে হেনরী রিজওয়েলের পাঠানো রিপোর্ট শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন ও সাবরিনা চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার লন্ডনে সিরিয়া ডোনারস কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি সিরিয়ান শরনার্থীদের জন্যে দ্রুত সহায়তার হাত বাড়ানোর আহবান জানান।

“আমাদের এই আধুনিক সময়েও মানুষ ঘাসপাতা খেয়ে; বুনো পশুপাখী খেয়ে বেঁচে রয়েছে। আমাদের জন্যে তা কষ্টের এবং অবিলম্বে এ অবস্থার অবসানকল্পে কাজ শুরু করা উচিৎ”।

ওইসব মানুষদেরকে সহায়তা করতে ২০১৬ সাল নাগাদ ১০০০ কোটি ডলার সংগৃহীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২০ সাল নাগাদ হবে আরো ৫০০ কোটি ডলার। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এই অর্জনের প্রশংসা করছেন।

“কোনো একক সংকটে এর আগে একদিনে এ্যাতো বড় আকারের তহবিল আর সংগৃহীত হয়নি”।

লন্ডনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরীর সঙ্গে ওই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন জনসংখ্যা শরনার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান রিচার্ড। তিনি বলেন, “লন্ডনের এই সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত এসেছে তা সিরিয়ার পূনর্গঠনে কর্মীবাহিনী তৈরীতে দারুনভাবে সহায়ক হবে। তারা সেখানে ফিরে যাবে দক্ষতা অর্জনের পর”।

তিনি বলেন এই সম্মেলনে চেষ্টা করা হচ্ছে সিরিয়ার পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাহায্যের প্রতিশ্রুতির।

“এই সম্মেলনে সিরিয়ার পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ভীত তৈরীর প্রয়াস নিয়ে কথা হয়েছে যা ভিবষ্যতে দেশটির জন্যে প্রয়োজন হবে”।

সিরিয়ার শরনার্থীদের নানাভাবে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান The Amar Foundation এর প্রধান Emma Nicholson এই প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে বললেন আমি বিশ্বাস করি নেতৃবৃন্দ তাদের কথা রাখবেন।

“গত বছর প্রতিশ্রুতির মাত্র ৩৫ শতাংশ পুরণ হয়েছিল। শরনার্থীদের জন্যে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। ওইসব অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার জন্যে অর্থ প্রয়োজন”।

সিরিয়ার প্রতিবেশীরা শরনার্থীদের জন্যে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; ইউরোপীয়ন বাজারেরর পন্য উৎপাদনে কাজ করতে।

জিনিভায় সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিদের শান্তি আলোচনা সফল না হওয়ায় লন্ডনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনেকের মনে শংকা রয়েছে।

রাশিয়া ও হেযবুল্লাহ যোদ্ধাদের সাহায্যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী আলেপ্পোয় বিদ্রোহীদের কাছে সকল ধরনের সরবরাহ বন্ধ করেছে। তুরস্ক বলেছে সেখান থেকে ৭০ হাজার শরনার্থী সীমান্তের দিকে চলে এসেছে।

মস্কো বলছে আলেপ্পো যেনো সরকারেরর নিয়ন্ত্রনে না যায় সে লক্ষ্যে তুরস্ক বিদ্রোহীদের সহায়তা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে আংকারার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

XS
SM
MD
LG