অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনিভায় আয়োজিত ‘সিরিয়া শান্তি’ আলোচনা প্রসঙ্গ-


জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক দূত স্তাফান দ্য মিস্তুরা আজ জেনিভায়,নতুন প্রস্থের এক শান্তি আলোচনার সূচনা করেছেন এ হূঁশিয়ারির মধ্যে দিয়ে যে, এ পর্যন্ত যে যুদ্ধ হয়েছে তার চেয়েও ঘোর ধূন্দুমার যুদ্ধে ফিরে যাওয়া ভিন্ন এ নিস্পত্তি আলোচনার বিকল্প আর কিছুই নেই।

আলোচনা শুরুর আগে সিরিয়া সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দ্য মিস্তুরা বলেন-সিরিয়ার জনগনকেই নিজেদের ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে হবে – এবং একাজে জাতিসংঘকে মদত জোগাতে হবে অবশ্যই।

তিনি বলেন- স্থির হয়েছে যে, প্রত্যেক পক্ষের সঙ্গে দিন দশ করে অ-প্রত্যক্ষ আলোচনা হবে এবং তার পর বিরতি দিয়ে পরবর্তী প্রস্থের কথাবার্তা শুরু করা হবে এপ্রিলের গোড়ার দিকে এবং পরবর্তীতে হবে আরেক প্রস্থের আলোচনা। দূত দ্য মিস্তুরা বলেন-এতে করে শান্তির একটা পরিস্কার পথচিত্র মিলবে।আর সেটাই সকলে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করছেন।

তিনি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান এবং গত সপ্তাহ দুয়েক যাবত যেমনটি চলছে সেভাবেই মানবিক ত্রাণ সহায়তা সরবরাহের পথ প্রশ্বস্ত রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন।

তবে, লড়াই বন্ধের জন্যে পক্ষগুলো কি কি মানতে রাজি রয়েছে তা নিয়েও বড়ো মাপে জিজ্ঞাসা দেখা দিচ্ছে, যে লড়াই কিনা, আড়াই লক্ষেরও বেশি প্রাণ হরনের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে – যার দরুন লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালেদ মূয়াল্লাম ইতিমধ্যেই হূঁশিয়ারী দিয়ে বলেই রেখেছেন- সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভবিষ্যত নিয়ে কোনো কথাবার্তা হবেনা। অথচ, বিরোধী পক্ষ এবং সিরিয়ার বাইরে অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ- বলেছে- শান্তি পেতে চাইলে আসাদকে গদী ছাড়তে হবে অবশ্যই।

দ্য মিস্তুরা বলেন প্রকাশ্যে কথাবার্তা,মন্তব্য-বক্তব্য যাই শোনা যাচ্ছে তাতে বোঝাই যায় দু’ তরফের কথায়-বয়ানে ফারাক বিস্তর।

জাতিসংঘের দূত, গত বছর ভিয়েনায় বিশ্ব শক্তিবর্গ ও আঞ্চলিক গোষ্ঠী মিলে যে একটা রফায় উপনীত হয়েছিলো, নিস্পত্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সেটাকেই ব্যবহার করছেন।ঐ রফা-সনদে রয়েছে অস্ত্র সম্বরণের আহ্বান এবং নতুন একটি সংবিধান ও জাতিসংঘের পর্য্যবেক্ষনে,খবর্দারীতে নির্বাচন অনুষ্ঠান বিষয়ে কাজ করার লক্ষে সিরিয়াবাসিদের সম্মতি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী বলেছেন-সহিংসতা বন্ধের রফা বলবতের পর থেকেই মারদাঙ্গা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। তবে, সিরিয়া সরকার স্পষ্টত:ই শান্তি আলোচনা ভন্ডুল করবার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি – বলেন,এককভাবে আসাদের বাহিনীই এর জন্যে দায়ি সবচেয়ে বেশি। বিদ্রোহি গ্রুপগুলোকেও রফা লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন- হানাহানি কমায় জাতিসংঘ ও শরিক পক্ষগুলোর জন্যে সরকার ও বিরোধী দলের বাহিনীর দ্বারা অবরূদ্ধ এক লক্ষ পনেরো হাজার অসামরিক সিরিয় নাগরীকের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

তবে কেরি বলছেন- ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন নিয়ে দূশ্চিন্তাগ্রস্ত তিনি এখনো।

জাতিসংঘের উদ্যোগে জেনিভায় আয়োজিত ‘সিরিয়া শান্তি’ আলোচনা প্রসঙ্গে- শুনলেন ভয়েস অফ এ্যামেরিকার রিপোর্ট—পড়েছেন সরকার কবীরুদ্দীন।

XS
SM
MD
LG