অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সারা বিশ্বের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: এ্যামনেস্টি ইউ এস এর কর্মকর্তা টি কুমার

  • রোকেয়া হায়দার

মালায়শিয়ায় ইন্দোনেশিয় শ্রমিক

মালায়শিয়ায় ইন্দোনেশিয় শ্রমিক

প্রতি বছরের মত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এ্যামনেস্টি ইনব্টারন্যাশনালের মত মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিশ্ব পরিস্থিতি মূল্যায়ণ করে থাকে। ওয়াশিংটনে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউ এস এর, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত এডভোকেসি পরিচালক টি কুমার, ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে, দক্ষিণ এশিয়া তথা গোটা বিশ্বে বিভিন্ন দেশের সরকার ও কর্তৃপক্ষ কি ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন, এই পরিস্থতি তিনি কি ভাবে দেখছেন, এ সব প্রশ্নের জবাব দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কোন দেশে একজনও অত্যাচারের শিকার হয় তা হলে সেই ঘটনাও আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করি’ ।

দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে তিনি বললেন ‘দক্ষিণ এশিয়ায় – বিভিন্ন দেশে, অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত রয়েছে । সরকার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে এবং দেশের নাগরিকদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হন, এবং প্রায়ই তারা নিজেরাই অধিকার লঙ্ঘন করেন । দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন ধরণের অত্যাচারের ঘটনা দেখা যায় । যেমন উদ্বাস্তুরা যে দেশে গিয়ে আশ্রয় নেয় সেখানেও তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে না, তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়’ ।

ওইসব দেশে আইন রক্ষাকারী সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালনে অক্ষম । যদিও দেশগুলোর সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে । শাসকগোষ্ঠি তাদের সমর্থক – রাজনীতিক, সবাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে থাকে । এ প্রসঙ্গে টি কুমারের বক্তব্য -

‘বিচার বিভাগ ও পুলিশের কাজে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে – দেশের জনগনকে জোরালোভাবে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবী জানাতে হবে – সোচ্চার হতে হবে । বিচার বিভাগ ও পুলিশী ব্যবস্থা স্বতন্ত্র, নিরপেক্ষ হওয়া উচিত । তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত বা অন্য কোন দেশের নাগরিক যারা বিদেশে রয়েছেন তারাও বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখতে পারে । এবং সেই দেশগুলোর সংবাদ মাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে । সার্বিকভাবে বলতে চাই যে কোন সরকারেরই বিরূপ কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয় ।

আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে বিভিন্ন স্তরে, ভিন্ন ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে । এক হচ্ছে তালেবান । তারা তাদের নিয়ন্ত্রণের অধীনে মানুষজনের অধিকার লঙ্ঘন করছে । তাদের অধীনে মহিলারা অসুবিধার সম্মুখীন হয় । শিক্ষা ক্ষেত্রে, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও ব্যবস্থা ক্ষেত্রে । তালেবানরা বিচার বহির্ভূত - যথেচ্ছা হত্যাকাণ্ড চালায় । আমরা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যে সৈন্যরা রয়েছে, তারা যে অত্যাচার চালাচ্ছে, সে বিষয়েও উদ্বিগ্ন । তারা লোকজনকে ধরপাকড় করছে, তাদের বিচারের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ছেড়ে দিচ্ছে’ ।

বার্মার সরকার নির্বাচনের পর এন এল ডি নেতা অং সান সু চি কে মুক্তি দিয়েছে । এ্যামনেস্টির প্রতিক্রিয়া কি জানতে চাইলে টি কুমার বলেন , ‘আমরা তার মুক্তিকে স্বাগত জানাই । কিন্তু বার্মায় এখনও ২ হাজার ২শোরও বেশি রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন – আমরা এখন অপেক্ষায় রয়েছি যে তাদেরকেও মুক্তি দেওয়া হবে । বার্মায় অন্য জাতিগোষ্ঠির লোকজন যারা থাইল্যাণ্ড - বাংলাদেশ সীমান্তে রয়েছে তাদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়, আমরা তারও অবসান দেখতে চাই’ ।

পাকিস্তানে ধর্মীয় অবনমাননার অভিযোগে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠি যেমন শিয়াদের ওপর সুন্নীদের হামলার বিষয়ে তার মতামত কি ? তিনি বলেন, এ্যামনেস্টি কখনোই ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ সমর্থন করে না । এবং তা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে । তিনি আরও বলেন, চীনের রাজনৈতিক বন্দীকে আজ অসলোয় নোবেল শান্তি পরুস্কার দেওয়া হলো । এ হচ্ছে মানবাধিকারের বিজয় ।

সবশেষে আজকের মানবাধিকার দিবসে এ্যামনেস্টির লক্ষ্য সম্পর্কে টি কুমার বললেন,

‘সারা বিশ্বের মানুষকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, অত্যাচার নিপীড়নের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে । নিজের দেশ ও বিদেশে সব জায়গাতেই তাদের সদা সজাগ থাকা প্রয়োজন’।

XS
SM
MD
LG