অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্বে জুড়ে ছাত্র ছাত্রীরা শারিরীক, মানসিক অথবা সাইবার বুলিং বা উত্যক্ত পরিস্থিতি শিকার


আমেরিকাসহ বিশ্বে জুড়ে স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা বুলি বা উত্যক্ত পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। এ এক বিরাট সমস্যা। শারিরীক, মানসিক অথবা সাইবার—নানা উপায়ে নানা ভাবে এরা অত্যাচারিত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক এন্টাই বুলিং ভিডিও প্রতিযোগিতা। ম্যারিল্যান্ডের শেয়ারউড হাই স্কুলের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের ভিডিও সেখানে নির্বাচিত হয়।

আনিয়া মো ড্রাকোভা সুভানু সুসির ও ডিয়ান ট্রিউ, এই তিন বন্ধু একই ক্লাসে পড়ে।

১৬ বছরের এই কিশোরীরা একটি প্রামাণ্য চিত্র তৈরী করতে শুরু করেছে যা এখনও প্রথমিক পর্যায়ে রয়েছে তার নামও ঠিক হয়নী।

আনিয়া জানালো, ‘Bullies are their own Bullies’ অথবা ‘Be Your Own Ally এ রকম একটি নাম বেছে নেব কারণ প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদের সংগেই বুলি করছি অর্থাৎ নিজেরাই নিজেকে ভর্সনা করছি যা অনেক সময় নিজেরাও বুঝতে পারি না। আর সেই বিষয়ের ওপরেই আমরা জোর দিচ্ছি। প্রথমে নিজেকে সম্মান করতে হবে -- নিজের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

এ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষেই তারা এই প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করছে। আনিয়া এর চিত্র গ্রাহক এবং এডিটার সে খুবই উতসাহি।

আনিয়া বলল, “আজকাল বুল বা মন্তানী নিরবে নিভৃতে হচ্ছে যা অন্যরা দেখতেও পায় না আর সেটাই হচ্ছে সমস্যা। মানুষকে উত্যক্ত করার নতুন নতুন সব পথ এরা এমন ভাবে বার করছে যাতে কেউ এদের চিহ্নিত করতে না পারে- এদেরকে কেউ বিচার না করতে পারে। মন্তানরা নিজেদের গা বাঁচিয়ে তাদের কাজ কিন্তু করে যাচ্ছে।

আনিয়া যখন দশম শ্রেনীতে পড়াতো তখন থেকে ইউবিউবে ভিডিও পোষ্ট করেছে। আর ঐসব ভিডিওর জন্য তাকে ভয়ও দেখানো হয়েছে। আনিয়া বলল, “ভিডিওগুলো দেখে অনেকেই আমাকে গালমন্দ করেছে, কেউবা বলেছে বোকা বোকা সব ভিডিও আবার অনেকে বলেছে তুমি খুব কুতসিত। কেন এগুলো তৈরী করছ? উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমার উতসাহ কিন্তু আরো অনেক বেড়ে গেল।”

তার এই সখ সাপে বর হয়ে হয়েছে। ‘Great American No Bull Challenge’ প্রতিযোগীতা অনুষ্টিত হয় যার উদ্দেশ্য কম বয়সীদের উত্যক্ত বা বুলিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। গত বছর স্কুল কর্তৃপক্ষ আনিয়া ও তার বন্ধুদের তৈরী ওয়ান নামের ভিডিওটি ঐ প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচন করে। ঐ ছবিতে একটি মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে যখানে সে প্রতিনিয়ত স্কুলের ছেলেমেয়ে হাতে নানা ভাবে উত্যক্ত বা নিপীড়নে শিকার হয়েছে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছ ডিয়ান।

ডিয়ান বলল, “ক্লাসের সবই মেয়েটিকে বুলি করছে। সকলেই তার বিরুদ্ধে। সে যেন এদের কেউ নয়। এই ঘটনাটিই যদি একটু অন্য রকম--- যদি সে কারও সাহায্য পেত তাহলে কিন্তু গল্পটা অন্য রকম হ’তো-- তাকে আত্মহত্যা করতে হত না।”

আর ‘One’ প্রমান্য চিত্রে এই বার্তাটি খুব স্পষ্ট ভাবে তারা তুলে ধরেছে।

সুভানু সুসির এর মতে, “পরিবর্তন আনার জন্য একজনই যথেষ্ট।” তাকে অনেকেই জানিয়েছে যে ভিডিওটি দেখে তারা কেঁদেছে। ঐ ভিডিওতে দেখানো হয়েছে যে মানুষই পরিবর্তন আনতে পারে বিশেষ করে যারা ভয় দেখাছে তাদের মাঝে।

সাভানা তার অভিজ্ঞতা থেকেই সে বিশ্বাস যে মেয়েদের মধ্যে এটা একটা বিরাট সমস্যা।

সাভানা সুসির বলল, “আমি তো দেখেছি এক মেয়ে অন্য মেয়েকেই বেশি উত্যক্ত করে। আমরা সারাক্ষণই একে ওপরের ভুল ধরছি। যেমন ওর চুলটা এমন কেন সে কেন এই পোষাক পড়লো ইত্যাদি।”

এদের শিক্ষক মেথিউ পিয়ার্সন্স বিশ্বাস করেন যে উত্যক্ত পরিস্থিতি বা কেউ ভয় দেখালে তা কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে তা আমাদের ছেলেমেয়েদের শেখাতে হবে। তিনি বলেন, “শিক্ষকরা উত্যক্ত বন্ধের ব্যাপারে তেমন কিছু করতে পারেন না। কারন ছাত্ররা ভাবে আমরা তাদের ভাষণ দিচ্ছি। এর সমস্যা সমাধানে কিশোর কিশোরীই এগিয়ে আসতে পারে । মানষিক নির্যাতন বা ভয় পেলে যে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এটাই যদি ছাত্র ছাত্রীরা দেখে তখন সেটা তাদের মনে গভীর রেখা পাত করবে --- বিষয়টি নিয়ে তারা চিন্তা ভাবনা করবে এবং একে অপরের প্রতি সমবেদনা এবং সম্মান দেখাতে শিখবে।”

আনিয়া স্যাভানা এবং ডিয়ান এই তিন বন্ধু মনে করে তাদের এই ভিডিও দে্খার পর অনেকের মধ্যেই পরিবর্তন আসবে এবং প্রতিযোগিতায়ও তারাই জিতবে।

XS
SM
MD
LG