অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্বব্যাপী গনহত্যা বন্ধের আহবানে অনুষ্ঠিত হল টেস্টিমনি অফ সিক্সটির স্মরণে অনুষ্ঠান


testimony

testimony

বিশ্বব্যাপী গনহত্যা বন্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা ও গনহত্যা প্রতিরোধের আহবানের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল টেস্টিমনি অফ সিক্সটির স্মরণে এক আলোচনা অনুষ্ঠান।

নেভার এ্যগেইন নেভার এ্যাগেইন নেভার এ্যাগেইন; এই প্রজন্মের বাংলাদেশ আমেরিকানরা বিশ্বব্যাপী গনহত্যা বন্ধের আহবান জানালেন, একাত্তুরে বাংলাদেশে গনহত্যার বিরুদ্ধে’র নেই টেস্টিমনি অফ সিক্সটির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

১৯৭১ সালে সেনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি এবং মাদার তেরেসাসহ বিশ্বের ষাটজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাকে যেভাবে লাঞ্ছিত হতে দেখেছেন, তার প্রতিবাদে তাঁরা যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেটিই Testimony of Sixty হিসেবে পরিচিত। গ্রেটার ওয়াশিংটনের সংগঠন, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্কাইভস এবার দ্বিতীয় বছরের ন্যায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পেনসেলভেনিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্লাইড শোর মাধ্যমে তুলে ধরেণ একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভয়াবহ চিত্র। পাকিস্তানীদের সঙ্গে সহায়তা করে কিভাবে কিছু বাঙ্গালী মুসলমান তখন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তারও চমৎকার বর্ননা দেন তিনি।

“ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাঙ্গালী মুসলমানরা। কারন দেশের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশই মুসলমান। একইভাবে গনহত্যায়ও সহায়তা করে হাতে গোনা কতিপয় মুসলমান। পাকিস্তানী ফতোয়া দিয়ে তারা সেনা জওয়ানদের ব্রেন ওয়াশ করেন, ধর্মের কথা বলে, কোরানের নামে”।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতায় লেখা বে কয়েকটি বইয়ের লেখক, লে কর্ণেল ( অব) সাজ্জাদ জহির, বীর প্রতীক তুলে ধরেন একাত্তুরে গণহত্যার ভয়াবহতার চিত্র।

“যুদ্ধের সময় বিভিন্ন স্থানে যে ভয়াবহ গনহত্যা চলছিল তাকে অনেকে গৃহযুদ্ধ মনে করেছে। আমি তখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে যুদ্ধ করেছি। দেখেছি বেঁচে থাকার জন্য মানুষের সেই করুন আকুতির চিত্র”।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সেটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ায় গনহত্যার শিকার এক পরিবারের জীবিত নারী সারেম নু, তুলে ধরেন কম্বোডিয়ার গণতহত্যার ভয়াবহতার কথা।

“আমার স্বামী, বাবা-, মা, আমার বোন ও তার পরিবার, এক ভাইসহ আত্মীয় স্বজন সব মিলে মোট ৭০ জন মারা যায়। তা ছিল খুব কষ্টের, হৃদয় বিদারক ঘটনা। আমি মরিনি, মরতে চাইনি। আমি মারা গেলে কম্বোডিয়ায় যে নির্মম গণহত্যা চলেছে সে কাহিনী কে বলতো?”

গনহত্যাকে না বলার জন্য বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানান তিনি।

টেস্টিমনি অব সিক্সটিজের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।

“টেস্টিমনি অব সিক্সটিজ আমাদের জন্য আশীর্বাদ। যখন আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য লড়ছিলাম, তখন ঐ টেষ্টিমনি আমাদেরকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহস যোগায়। টেস্টিমনি অব সিক্সটিজ হচ্ছে বিয়োগান্তক সেই ঘটনায় মাদার তেরেসা, সেোনেটর এডওয়ার্ড কেনোডীসহ বিশ্বের বিখ্যাত ব্যাক্তিত্বের স্বাক্ষ্য”।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, সারা বিশ্বে গনহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান সকলের প্রতি।

বাংলাদেশে জন্ম হয়নি, বেড়েও উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র, এই প্রজন্মের এমন দুই বাংলাদেশী আমেরিকান জানালেন বাংলাদেশ নিয়ে তাদের ভাবনার কথা।

একাত্তুরের গনহত্যা বিষয়ক প্রামান্য চলচ্চিত্র দিয়ে শুরু হয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বের এক পর্যায়ে ওয়াশিংটনে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা পাঠ করে টেস্টিমনির অংশবিশেষ।

XS
SM
MD
LG