অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিরোধীদল বিহিন নির্বাচনে থাইল্যান্ডে ক্ষমতাসীন দল বিজয়ের পথে


আগামিকাল থাইল্যান্ডে যে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেটি বন্ধ করানোর চাপ সৃষ্টিতে, তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যাঙ্কেকর রাস্তায় বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমাবেশে সংঘর্ষে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে।

রাজধানীতে গত রাতে কয়েক দফা গুলি এবং অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এই বিক্ষোভের নেতা এবং সংসদের সাবেক সদস্য সুথেপ থগসুবান শনিবার শান্তিপূর্ণ ভাবে রাস্তায় অবরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন তবে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ও দেন যে লোকজনকে ভোট দিতে যেতে বাধা দেওয়া হবে না।

তবে এই প্রতিশ্রুতি সত্বেও অনেকেই আশংকা করছেন যে রোববারের ভোটাভুটিতে সহিংসতা হবে।

বিক্ষোভকারীরা এরই মধ্যে দেশের বেশ কিছু অংশে ভোট কেন্দ্রে অবরোধ সৃষ্টি করে আগাম ভোটে বাধা দিয়েছে এবং এর ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে সেখানে নির্বাচন হবে কী না।

রবিবার থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিজয়ের পথে। তবে এই এতে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে বলে মনে হয় না। ব্যাংকক থেকে এ বিষয়ে রিপোর্ট করেছেন রন করবেন। শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন:

কয়েক সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ডের রাজপথে চলমান সরকার পতনের আন্দোলন এখনো পর্যন্ত দমাতে পারেনি থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক শিনাওয়াতকে।

দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাট পার্টির পক্ষ থেকে বর্জন করা রবিবারের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ফিউ থাই পার্টি বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে আইন বিশ্লেষকরা বলছেন আগামী কয়েক সপ্তাহে সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে আদালতের দরখাস্ত, দুর্নিতির তদন্তসহ নানা বিষয়ে কতগুলো কঠিন সমস্যার মুখে পড়তে যাচ্ছে।

দক্ষিনাঞ্চলীয় প্রদেশসহ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে প্রার্থীরা নাম লেখাতেই ব্যর্থ হন। অপরদিকে ব্যংককে সরকার বিরোধী প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন স্থানে আগাম ভোটে বাধা সৃষ্টি করেন।

থাইল্রান্ডের ল’য়্যার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট দেজ-উদম ক্রাইরিত বিশ্বাস করেন নির্বাচন বাতিলের যে হুমকী তা সঠিক এবং বাস্তব।

তিনি বলেন, “চলমান অবস্থা বিবেচনায়-নির্বাচন চালিয়ে যাওয়া ভীষণ কঠিন। সফলতার কোনো আশা নেই—এবং তারা দীর্ঘায়িতও করতে পারবে না। সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ, ভালো ও সঠিক হচ্ছে এখন দেখা যাক সরকার কি করে”।

সরকার সমর্থিত কর্মী এবং অপরাপর গোষ্ঠি যারা নির্বাচনের পক্ষে, তারা নির্বচনে অংশ নিতে সকলকে উৎসাহিত করেছে। তবে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে; বিশেষ করে গত সপ্তাহে ব্যাংককে নির্বচনের পক্ষীয় এবং বিপক্ষীয়দের মধ্যকার সংঘর্ষের পরে।

অর্থনীতির অধ্যাপক সমফব মানারাংসান বলেন, এমন হতে পারে যে, আদালত এবং দুর্নিতী দমন কমিশনের ন্যায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকার পক্ষ ত্যাগ করবে।

তিনি বলেন, “দুর্নিতী দমন কমিশন ওবং সংসদীয় আদালতের ন্যায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে সরকারকে দুর্বল করে দেয়ার মত আচরণ আসতে পারে, এবং এমন অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে যাতে এখনকার মত চলমান অচলাবস্থা নিরসনে হয়ত হঠাৎই কোনে পথ বেরিয়ে যাবে”।

শিনাওয়াত প্রশাসনকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করলে সংবিধান অনুযায়ী একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার করতে হবে-যা বিক্ষোভকারীদের অন্যতম মূল দাবী।

সম্প্রতি সরকারের ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের চালের মূল্য সহায়তা প্রকল্পে দুর্নিতি নিয়ে দুর্নিতি দমন কমিশনের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়। কারন জাতীয় চাল নীতিমালা কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্নিতি দমন কমিশনের কমিশনার ও মুখপাত্র ভিচা মাহাখান বলেন কমিশন সরকারের দুর্নিতীর বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে ৪৫টি দুর্নিতীর অভিযোগ রয়েছে যার মধ্যে তদন্তের অধীনে আছে ১২টি আর ২২টির পক্ষে আরো তথ্য জোগাড় প্রক্রিয়া চলছে। কমিশন আগের সরকারের ১২টিরও বেশী দুর্নিতীর মামলা নিয়েও কাজ করছে”।

আন্তর্জাতিক দুর্নিতী তদন্ত সংস্থ ট্রান্সপেরেন্সী ইন্টারন্যাশনাল ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডকে দুর্নিতীর তালিকায় ১৭৭টি দেশের মধ্যে ১০২তম স্থানে রাখে যা ২০১১ সালে যখন ইংলাক ক্ষমতায় আসেন সে তুলনায়ও অনেক কম।

থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর এবং থাই ইনস্টিটিউট অব ডিরেক্টরস এর প্রেসিডেন্ট ব্যান্ডিড নিজাথাওর্ন বলেন দুর্নীতিকমাতেব্যবস্থা নেয়াজরুরীহয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “চাল সংক্রান্ত এবং দুর্নিতি দমন কমিশনের অন্যান্য দুর্নিতীর মামলাই বলে দেয় দেশে শুশাষনের অভাব, বিশেষ করে সরকারের কাজকর্মে মান, নানা ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা, ইত্যাদি দেশকে সমস্যায় ফেলেছে”।

ডিসেম্বরে সরকারের অবকাঠামো খাতে খরচের ৭ হাজার কোটি ডলারের আইনগত স্পষ্টতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিরোধী দলের দায়ের করা একটি অভিযোগ গ্রহণ করে সংসদীয় আদালত। সমালোচকরা বলেছেন সেই অভিযোগ সঠিকভাবে সংসদীয় আদালতে আলোচিত হয়নি। ক্ষমতাসীন দল সংবিধান সংশোধনী নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনো রায় হয়ত প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ বাধ্য করাতে পারে, তবে রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে এই সংকট হয়ত আরো বড় সমস্যা হয়ে থাইল্যান্ডকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে।
XS
SM
MD
LG