অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদ আন্দোলন


থাইল্যান্ডের রাজধানী শহর ব্যাঙ্ককে হাজার হাজার প্রতিবাদ বিক্ষোভকারীর ভিড়ে রাস্তার সংযোগস্থলগুলোয় , ব্রিজে – অলিগলিতে প্রচন্ড যানজট সৃষ্টি হয় । দোসরা ফেব্রূয়ারীর নির্বাচনের আগে সরকারকে গদীছাড়া করার লক্ষ্যে সরকারী বিরোধীরা সেখানে বিক্ষোভ করে । তথাকথিত ঐ ব্যাঙ্কক অবরোধের প্রথম দিনটিতে বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলনকে প্রলম্বিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কাজেও ব্যাপৃত থেকেছেন ।
ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে বানিজ্য কেন্দ্রে – ঝান্ডা দুলিয়ে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদীরা সেই রবিবার বিকেল থেকেই । জায়গায় জায়গায় মঞ্চ গড়ে তোলা হয় – সাউন্ড সিস্টেম খাড়া করা হয় গোটা শহর জুড়ে । সোমবার সকাল হতেই জনতার ভিড়ে গমগমে হয়ে ওঠে গোটা বানিজ্য এলাকা – সিটি বাজিয়ে হর্ষ ব্যক্ত করে বিক্ষোভকারীরা – শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা রাজধানী শহর । প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধিক্কার ব্যক্ত হতে শোনা যায় – তাঁদের কথায় দুর্নীতিবাজ সরকারকে হঠিয়ে – সংষ্কার সাধনের মধ্যে দিয়ে সুশাসন কায়েমের ওয়াদা ব্যক্ত করে তারা । তাঁদের মতে দুর্নীতিবার্জ সরকারকে হঠাতে এখন এই অবরোধ কর্মসূচী ব্যতিরেকে বিকল্প আর কিছু নেই । একথারই প্রতিধ্বনী ছিলো সামুত প্রকান প্রদেশের ষাভিত শ্রূীউইলাইয়ের কণ্ঠে ।
এ্যাক্ট –
বললেন – দেশের পরিচালনায় এ সরকারের বৈধ আর কোনো অধিকার নেই যে তাঁরা সমবেত হয়েছেন সে কথাটাই স্পষ্ট করে বলবার জন্যে । এবং নির্বাচনের আগেই সংষ্কার করতে হবে ।
থাইল্যান্ডের সর্ব সাম্প্রতিক এ রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হয় গত বছরের শেষের দিক থেকে – যখন কিনা প্রধানমন্ত্রী ইংলাক শিনাওয়াতের পার্টি গত এক দশককালে রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গ সংশ্লিষ্ট বহু লোকের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের প্রতি ঢালাও ক্ষমা মঞ্জুরির চেষ্টা চালাতে রাজনৈতিক ক্ষমামঞ্জুরি অনুমোদনের উদ্যোগ নেয় । অনেকের ধারণা , এতে তাঁর সহোদর সাবেক নেতা থাকসিন শিনাওয়াতকেও হয়তো শামিল করার লক্ষ্য ছিলো যাতে বিতর্কিত থাকসীন শিনাওয়াত নির্বাসন থেকে দেশে ফিরতে পারেন । দারূণ রকম অজনপ্রিয় ঐ ক্ষমা মঞ্জুরি কোনো ভাবেই গ্রহনযোগ্যতা পায়নি – ইংলাক শিনাওয়াত সরকার বিলুপ্ত করেন- আগাম নির্বাচনের ডাক দেন – কিন্তু প্রতিবাদ বিক্ষোভ থামেনি তাতে ।
বিরোধী দলগুলো দু’ই ফেব্রূয়ারির নির্বাচন বয়কট করছে – নির্বাচনের আগেই সংষ্কার চাইছে তারা । অনেকে সংশয় ব্যক্ত করছেন – বলছেন – আন্দোলন থাইল্যান্ডের গণতন্ত্রকে ব্যাহত করবে । প্রতিবাদী জিরাভাদী কানামোতো যেমন বললেন – আরেকটি নির্বাচন হলেই সব পাল্টে যাবে তা কিন্তু নয় – বদলাবে না কিছুই ।
এ্যাক্ট –
থাইল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন ভোট ক’মাস পিছিয়ে দেবার প্রস্তাব করছেন – কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি নয় । প্রতিবাদীদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গও বলছেন – ভোটের আগে আরো কিছু সময় বিলম্ব , তাঁরা তার চেয়ে চাইছেন আরো বেশি কিছু । কর্তৃপক্ষ বলছে – নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিলে তাঁদের হয়তো বাধ্য হয়েই জরূরী অবস্থার ডাক দিতে হতে পারে । থাইল্যানডের সামরিক বাহিনী সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে । গত ৮১ বছরে থাইল্যান্ডের অভ্যুত্থান হয়েছে ১৮ বার – আরেকবার যে হবেনা , হলপ করে বলা যাবে না তা ।bangkok protests
XS
SM
MD
LG