অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা তার ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিশ্লেষকরা কথা বলেছেন। অনেকেই এই নেতার বিষয়ে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেষ্ট বা স্বার্থের দ্বন্দ্বের প্রশ্ন তুলেছেন। ডনাল্ড ট্রাম্প নিজে টুইট করে বলেছেন তিনি তার ব্যবসা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার কি পরিকল্পনা করছেন তা এ মাসের শেষের দিকে পরিস্কার করে বলবেন। ব্যবসা নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ কি সে সম্পর্কে ভয়েস অব আমেরিকাকর কাছে পাঠানো ব্যাখ্যা নিয়ে এই প্রতিবেদন।

বেশিরভাগ আমেরিকান মনে করেন নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মতো কোনো ব্যাক্তি এর আগে প্রেসিডেন্ট হননি। তাঁর সম্পদ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন তাঁর সম্পদের পরিমান কি তা সে একাই জানে।

সম্পদ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “কেউ জানেনা আমার কতো সম্পদ রয়েছে”।

তবে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পূরণ করা আর্থিক বিবরণীর ১০৪ পৃষ্ঠার ফর্মে সম্পদের মোটামুটি একটা ধারণা রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রার্থীদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে এই ফর্ম পূরণ করতে হয়। তবে আইনের সামান্য ফাঁকের কারনে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সম্পদের বিবরণীর নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে না। আর ট্যাক্স রিটার্ন বা আয়কর ছাড়া; যা তিনি প্রকাশ করেন নি; সেই বিবরণী খুবই সাধারন ধারনের।

সাবেক ফেডারেল ইলেকশন কমিশন কাউন্সেল কেন গ্রস এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা পরিস্কার করে বোঝতে পারছি না আসলে এতে কি রয়েছে”।

ট্রাম্পের ব্যাবসা রয়েছে যেমন ডমিনিকান রিপাবলিকে, তেমনি রয়েছে ভারতে, ইন্দোনেশায়সহ বিশ্বের অসংখ্য দেশে। সফল এই রিয়েল এষ্টেট ব্যাবসায়ী ব্যাবসা সম্প্রসারণ করেছেন ইচ্ছামতো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ায় কারনে ওই বিশাল বানিজ্য নিয়ে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে; যেমনটি বললেন কেন গ্রস।

“এইসব বড় বড় ভবন নির্মানে তিনি হয়তো পারমিট, পারমিশন অর্থাৎ লাইসেন্স এবং অনুমতি নিতেন। আর এখন তিনি জড়িয়ে পড়লের সরকারী প্রশাসনিক জটিলতায়”।

কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেষ্ট বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলবার অঙ্গীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে কিভাবে, তা এখনো পরিস্কার নয়। ট্রাম্প প্রতিষ্ঠান থেকে ভয়েস অব আমেরিকাকে পাঠানো সম্পদের বিবরণীতে বলা হচ্ছে:

“ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব কিভাবে হস্তান্তর করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। ডনাল্ড জুনিয়র, ইভাংকা ও এরিক ট্রাম্পের নেতৃত্বে একদল দক্ষ নির্বাহীর কাছে তা হস্তান্তর করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানের বিবেচনার শীর্ষে রয়েছে এ বিষয়টি তবে আইন কানুনের আওতায় যতটুকু পড়ে তাই করা হবে”।

টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন ১৫ই ডিসেম্বর তিনি ও তাঁর সন্তানেরা বিস্তারিত এই পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। পুরোপুরি ব্যাবসা থেকে কিভাবে তিনি সরে যাবেন তা জানানো হবে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেমস থার্বার বলেন, “আমি যদি এথিকস বিশেজ্ঞ হতাম তবে আমি অন্য একজন সিইও রাখতাম এবং পরিবারের সদস্য বাদ দিয়ে নতুন একটি বোর্ড গঠন করতে বলতাম, দেশে বিদেশে ট্রাম্পের ব্যবসা চালানোর জন্য”।

ট্রাম্পের আর্থিক বিবরনীতে দেখা যাচ্ছে আজারবাইজানে ৩৩ তলা বাকু হোটেল বাবদ ২৮ লক্ষ ডলার খরচ হয় গত দুই বছরে যা এখনো চালু হয়নি।

ট্রাম্প কন্যা ইভাংকা ওই হোটোলের নির্মান কাজ ব্যাবস্থাপনা করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে ছবি পাঠিয়েছেন। তবে আজারবাইজান পরিবহনমন্ত্রীর জামাতা; ওই হোটেলের মালিক।

জেমস থার্বার বলেন, “আজারবাইজানের নতারা যে কোনোভাবেই হোক দুর্নীতি পরায়ন। আপনি যদি দুর্নীতিবাজ দেশের সঙ্গে ব্যাবসা করেন তাতে আপনি নিজেও হয়তো যুক্ত হয়ে যেতে পারেন”।

ট্রাম্প প্রতিষ্ঠান বলে আসছে তারা চীনে ৩০টি হোটেল নির্মান করবে। ম্যানহাটনে ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানের বড় বিনিয়োগ রয়েছে চীনা সরকবারের ব্যাংক ‘ব্যাংক অব চায়নার’।

চীনা বিষয়ক কিসইঞ্জার ইনস্টিটিউটের পরিচালক রবার্ট ড্যালি এ বিষয়ে বলেন, “এটি এমন একটি দেশ যার সামর্থ রয়েছে যুকত্তরাষ্ট্রৈর যে কোনো বিষয়ের প্রতিদ্বন্দ্বীতার চেষ্টা করার”

বিশ্লেষকরা বলছেন চীনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা ট্রাম্প কিভাবে করবেন? ব্যাবসায়ী নাকি প্রেসিডেন্ট পরিচয়ে? বিশেষজ্ঞ স্কট এ্যামির বক্তব্য:

“আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হোক না কেনো, তা বানিজ্য চুক্তি হোক বা পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেই হোক; তা অত্যন্ত ভেবে চিন্তে করা দরকার”।

চীন সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্ট, “আমি কিভাবে চীনকে অপছন্দ করি। তারা আমাকে প্রচুর লাভ দেয়”।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুয়ায়ী সরকারের দায়িত্বে থাকা কেউ বিদেশী সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নিতে পারে না। আর এই প্রথমবার কোনো একজন ব্যাবসায়ীর বসবাস হতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজে। তাঁর সামনে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। অনেকে বলছেন নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাবসায়িক অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হয়তো মঙ্গল বয়ে আনবে।

XS
SM
MD
LG