অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জমে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা


জমে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারী ক্লিনটনের কাছে ভোটারদের প্রত্যাশা ভিন্ন রকম। একজনের কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা, অপরজনের কাছে নিরাপত্তা ও স্থিতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রতি পূরণ, যা তারা দুজনেই দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে জিম মেলোনের রিপোর্ট শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন।

প্রার্থীতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দুই দলের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আটঘাট বেধে নেমে পড়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। ডেমোক্রেট হিলারী গত দুইদিন সভা করেছেন পেনসেলভেনিয়া এবং ওহাইওতে। পেনসেলভেনিয়ায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে ভোটার সমর্থনের দিক দিকে এগিয়ে রয়েছেন হিলারী। ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থা কমছে তার কথাবার্তা ও আচরণের কারনেই।

“কোনো সন্দেহ নেই যে ডনাল্ড ট্রাম্প মেজাজের দিক থেকে যোগ্য নন; যার কারনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং কমান্ডার ইন চিফ হবার ক্ষেত্রেও অযোগ্য”।

জরিপে দেখা যায় তিন তিনজনের একজন আমেরিকান মনে করেন প্রেসিডেন্ট হবার মতো যোগ্যতা ও মেজাজ রয়েছে ট্রাম্পের। আর প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মনে করেন হিলারীর সে যোগ্যতা রয়েছে।

তবে একই জরিপে বলা হচ্ছে ক্লিনটনের প্রতিও অনেক ভোটারের বিশ্বাস নেই। এর প্রাথমিক কারন হচ্ছে তিনি পররাস্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় তার ইমেইল ব্যাবহার নিয়ে বিতর্ক পরিস্কার না করা।

ট্রাম্প ওহাইতে এক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক বক্তব্যে ক্লিনটনের সমালোচনা করেন।

“হিলারীর বিচার বুদ্ধির অভাবের ঘটনার একটার পর একটা প্রমান মিলেছে। বার্নি স্যান্ডার্স যেমনটি বলেছেন, আমাদের দেশের নেতৃত্ব দেয়ার মতো তার মেজাজ, স্থিতিশীলতা এবং নৈতিক চরিত্র কোনোটিই নেই”।

পরিবর্তনের কথা বলে ট্রাম্প ভোটারদের কাছে কিছু সমর্থন পেতে পারেন। দুই তৃতীয়াংশের মতে দেশ এখন ভুল পথে এগুচ্ছে। তবে জরিপে দুই প্রার্থীর ব্যাপারেই নেতিবাচক মনোভাব উঠে এসেছ বলে জানালেন জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালোপের কর্মকর্তা ফ্র্যাংক নিউপোর্ট:

“আমেরিকানদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ মানুষ ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। হিলারী ক্লিনটন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা রয়েছে ৫৫-৫৬ শতাংশ আমেরিকানের। ফলে হিলারীর অজনপ্রিয়তা অতো বেশী নয়”।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের মেজাজ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে মানুষের মধ্যে। তার বক্তৃতার শব্দ ব্যাবহার, বাচনভঙ্গী, মন্তব্য ও আক্রমনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

অনেক রিপাবলিকান সমর্থক মনে করেন ট্রাম্পের কথাবার্তায় আরো সংযত হওয়া দরকার এবং ক্লিনটনের দিকে নজর দেয়া উচিৎ; যেমনটি বললেন রিপাবলিকান বিশ্লেষক স্কট ফাউকনার।

“এখন তার পরিবর্তিত হওয়া দরকার। এর মানে এই নয় যে প্রতিপক্ষকে আক্রমন না করা। এর মানে আমেরিকানদের প্রতি তার বক্তব্যের পরিসর আরো বাড়ানো”।

ট্রাম্প তার প্রচারণা শিবিরে আবারো পরিবর্তন এনেছেন। তিনি তার প্রচারণার কৌশলে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই তা করেছেন। রক্ষনশীল নিউজ ওয়েবসাইট Breitbart এর সিনিয়র নির্বাহী ষ্টিফেন ব্যাননকে তার প্রচারনা দলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং কেলিয়ান কনওয়েকে ক্যাম্পেইন ম্যানেজার হিসাবে পদোন্নতি দিয়েছেন।

ওদিকে ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে বুধবার এক সমাবেশে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারী ক্লিনটন বলেছেন ট্রাম্পের প্রচারনা শিবিরের পরিবর্তনেতো আর প্রার্থীর কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনিতো নিজে একই ব্যাক্তিই থেকে গেলেন।

“আমি পরবর্তন করতে চাই না। সবাই বলে, ‘কবে পরিবর্তন আসবে’। আমি পরবর্তিত হতে চাই না। আমি চাই অন্যেরা হোক।“

ক্লিনটনের সমর্থন বাড়ছেই। সাম্প্রতিক জাতীয় জরিপগুলোতে ক্লিনটনের প্রতি সমর্থন বেড়েই চলছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্সীয়াল বিতর্কের পূর্ব পর্যন্ত এই ধারা অব্যহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

XS
SM
MD
LG