অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আজ জার্মান চান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হচ্ছেন। দুই নেতা এই প্রথম সরাসরি বৈঠকে বসছেন। ধারণা করা হচ্ছে যে তাদের মধ্যেকার আলোচ্যসুচীতে নেটো, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়গুলিই প্রাধান্য পাবে।

এ বিষয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার পিটার হাইনলাইনের রিপোর্ট থেকে বিস্তারিত শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার।

আপনারা জানেন এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে জার্মান চান্সেলরের যুক্তরাষ্ট্রের আসার কথা ছিল, কিন্তু সোমবার রাত ও মঙ্গলবারের তুষার ঝড়ের কারণে তাঁর সফরসুচী পরিবর্তন করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও এ্যাঙ্গেলা মার্কেলের এই বৈঠকে আন্তঃআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের ভারসাম্য নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

নির্বাচনী অভিযানের সময় ট্রাম্প শরণার্থীদের ক্ষেত্রে উদার নীতি গ্রহণের জন্য মার্কেলের সমালোচনা করে বলেন তিনি জার্মানীকে ধ্বংস করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মার্কেলের ভক্ত ছিলাম, মনে করতাম তিনি অসাধারণ, বিরাট নেতা। কিন্তু তিনি জার্মানীর জন্য যা করেছেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’

চান্সেলার মার্কেলও ৬টি মুসলিম দেশ থেকে আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। তবে এখন বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবেলার লক্ষ্যে আন্তঃআটলান্টিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য মার্কেল কিছুটা নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করছেন।

তার বক্তব্য – ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে যে আন্তঃ-আটলান্টিক অংশীদারিত্ব রয়েছে তা কেবল আমাদের ইওরোপীয়ানদের জন্যই নয়, আমাদের সবার স্বার্থের অনুকুল হবে। আমি এই মনোভাব নিয়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবো’।

দুই নেতার মধ্যে নেটোর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরাট মতপার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, ‘আমি নেটো সমর্থন করি, তবে নেটো জোটের অনেক দেশ, অনেক দেশ যাদের আমরা রক্ষা করি, সেইসব দেশ ধনী দেশ, কিন্তু তারা তাদের যা দেওয়া প্রয়োজন সেই অর্থ দেয়না’।

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের যে বিভ্রান্তিকর ধারণা, মার্কেল তা সুস্পষ্টভাবে জানতে চান। এ ক্ষেত্রে নেটোর ভুমিকা সম্পর্কে তার মতামত বিস্তারিত জানতে চান। জনস্ হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের আন্তঃআটলান্টিক সম্পর্ক বিষয়ে স্কলার ডানিয়েল হ্যামিলটন যেমন মনে করেন – ‘নেটো এই জোটের অন্তর্ভুক্ত পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোয় বেশী সৈন্য মোতায়েন করেছে, কারণ মিত্র জোট ভ্লাদিমির পুটিনের বিষয়ে, তার কি উদ্দেশ্য, সে বিষয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন। তিনি অবৈধভাবে ইউক্রেনের কিছু অংশ দখল করেছেন এবং ইউক্রেনের অন্যান্য জায়গায় রাশিয়ার সৈন্য পাঠিয়েছেন। তাই এখন প্রশ্ন উঠছে যে, রাশিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি এবং তা নেটোর ওপর কি প্রভাব রাখবে?’

বাণিজ্য আলোচনার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানীর এই বৈঠকে একটা সমঝোতার মনোভাব গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ট্রাম্পের আলোচকেরা যেমন কেবল দ্বিপাক্ষিক লেনদেনের কথা বলছেন, অপরদিকে ইওরোপীয়ানরা জোর দিচ্ছেন যে ইইউ ২৮টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে, তাই সেটাই গুরত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। সবার কথাই বিবেচনা করতে হবে।

XS
SM
MD
LG