অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তুরস্ক কতৃপক্ষ, তুরস্কের সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র যামানের কার্যালয়ে চড়াও অভিযান চালিয়েছে


তুরস্ক কতৃপক্ষ, ইস্তাম্বুলে তুরস্কের সর্বাধিক পঠিত প্রচারিত সংবাদপত্র যামানের কার্যালয়ে চড়াও অভিযান চালিয়েছে- বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করে এমনি সংবাদ মাধ্যম বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে পরিচালিত অবদমন তৎপরতার অংশ বলেই যেটাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।শুক্রবার ঐ যমান পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে জমায়েত প্রতিবাদীদের সমাবেশের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে- জলকামান দিয়ে হামলা চালায়- পত্রিকার কর্মিদেরকে খেদিয়ে সে যায়গায় আদালত নিয়োজিত ট্রাস্টিদেরকে বসানোর লক্ষে চড়াও অভিযানে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়ে পুলিশ।

প্রধান সম্পাদক আব্দুল হামিত বিলিচী,কার্যালয়ের ওপর পুলিশ চড়াও হবার আগে পত্রিকার কর্মিদের উদ্দেশ করে ভাষন দেন- বলেন,শুক্রবারের এ দিনটা গণতন্ত্রের জন্যে মসিলিপ্ত একটা দিন।

বিরোধী পক্ষ সমর্থক সাংবাদিকবৃন্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাসন জীবন যাপনকারি বিরোধী পক্ষের সমর্থক মূসলিম ধর্মগুরু ফেতুল্লা গুলেনের বিরুদ্ধে সরকার পরিচালিত আক্রোশ অভিযানেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে এই পুলিশী অভিযানকে।

পত্রিকা কার্যালয়ের বাইরে জমায়েত বিক্ষোভকারিরা চীৎকার করে ধ্বনী দেন- অবাধ সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা যাবেনা। তারা তুরস্কের ঝান্ডা দুলিয়ে দুলিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে।

পত্রিকাটির শুক্রবারের ইংরেজি ভাষার সংষ্করণ Today’s Zaman লিখেছে- সংবাদ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এখন আমরা সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন- সবচেয়ে বিষাদক্লিষ্ট একটা অধ্যায়ের ভেতর দিয়ে পার হচ্ছি- অথচ এই সংবাদ স্বাধীনতাই হ’লো গণতন্ত্র ও আইনী শাসনের বড়ো একটা মানদন্ড।পত্রিকা লিখেছে- মননশীল ব্যক্তিবর্গ-ব্যবসায়ী সম্প্রদায়- উজ্বলাভায় উদ্ভাসিত জনপ্রিয় মানুষজন – সূশীল সমাজ সক্কলের মুখ বন্ধ করা হচ্ছে- কন্ঠরোধ করা হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম ও ব্যক্তি পর্যায়ে সাংবাদিকদের।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্ণালিস্টস শুক্রবারের ঐ পুলিশী অভিযানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ঐ অধিকার গোষ্ঠীর প্রধান কর্তাব্যক্তি জৌল সাইমান বলেছেন- তুরস্ক কতৃপক্ষের উচিত সংবাদ স্বাধীনতার স্বার্থ রক্ষায় তাদের সাংবিধানিক দায় দায়িত্ব পূরণ করা-আগ্রাসী তৎপরতা চালিয়ে বিরোধী পক্ষ সমর্থক সংবাদ মাধ্যমকে দাবিয়ে রাখা নয়।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্ণালিস্টস CPJ-র দেয়া তথ্যে জানা যায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জেলবন্দী রাখার দেশগুলোর একটি হলো তুরস্ক। গুপ্তচরবৃত্তি-ষড়যন্ত্র- বা সরকারের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনার অভিযোগে দোষি সাব্যস্ত করার মতো করে ব্যাপক বিস্তৃতভাবে আইনের ব্যাখ্যা রচনায় সরকারী কর্তাব্যক্তিদের সূযোগ গ্রহন করতে দেখা যায় সেখানে।

এই গেলো সপ্তাহেই তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত জুমহুরিয়াত পত্রিকার দু’ই সম্পাদককে মুক্তি দিয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বেশ কয়েক মাস জেটে আটকিয়ে রাখা হয়েছিলো তাঁদের। আদালতের রায়ে বলা হয় বিচারের আগেই তাঁদের জেলে আটকিয়ে রাখা সংবিধান বিগর্হিত কাজ। অভিযোগের দায়ে বিচারের মুখোমুখি ঐ দু’ই সম্পাদককে হতে হবে অশ্যই।

ভৌগলিক দিক দিয়ে পূব-পশ্চিমের মাঝখানে অবস্থান তুরস্কের এবং নেটোর সদস্য দেশ হিসেবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ- সিরিয়া, ইরাক এবং আফগানিস্তান থেকে শরনার্থীদের পশ্চিম মুখে ধাবিত হওয়ার মতো বিষয়াদিতে নেটোর সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ন মিত্র দেশ তুরস্ক। তুরস্ক সরকারের বিরুপ সমালোচক যারা তারা বলছে গুরুত্বপূর্ন মিত্র হওয়ায় আঙ্কারার মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে উচ্চবাচ্য করা থেকে পশ্চিমা দেশগুলোকে তা বিরত: রাখছে। ভয়েস অফ এ্যামেরিকার রিপোর্ট পড়ছেন সরকার কবীরূদ্দীন:


XS
SM
MD
LG