অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ধরিত্রী দিবসে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর


সেলিম হোসেন

আজ শুক্রবার বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। দিনটি উপলক্ষ্যে, আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে গত ডিসেম্বরে প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে যে সমঝোতা হয়েছিল, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, তা চুক্তি আকারে স্বাক্ষর করছেন।

জলবায়ু চুক্তিতে জাতিসংঘের সাফল্য কামনা করে ১৮ই এপ্রিল ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ নিউইয়র্কের চ্যপেল অব দা চার্চ সেন্টারে এক প্রার্থনায় যোগ দেন। ধরিত্রির পবিত্রতা রক্ষার প্রয়াসের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যাক্ত করেন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে তারা সর্বধর্মীয় বিবৃতি দেন, জাতিসংঘ সাধারন সভার প্রেসিডেন্টের কাছে। এতে স্বাক্ষর করেন দালাই লামা, দক্ষিন আফ্রিকার সামাজিক অধিকার নেতা ডেসমন্ড টুটুসহ সারা বিশ্বের ২৫০ জন নেতা।

বিবৃতিতে তাঁরা রাষ্ট্র প্রধানদেরকে দ্রুত প্যারিসের জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা ও তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার আহবান জানান। এছাড়া ঐ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশ্বের ৫ হাজার ব্যক্তি ও ৯০টি বিভিন্ন ধরনের সংগঠন।

এই কাজে সমন্বয়কারী আন্তধর্মীয় জোট GreenFaith এর নির্বাহী পরিচালক Fletcher Harper বলেন ঐ বিবৃতিতে সকল ধরনের ধর্মীয়, অন্তর্জাগতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিফলন রয়েছে।

“ধরিত্রী হচ্ছে আমাদের জন্যে অসাধারন একটি উপহার। এটি এমন কোনো পন্য নয় যা আমরা ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারি। এটি আমাদের জন্যে এমন একটি উপহার যার রক্ষনাবেক্ষন করা এবং রক্ষা করা আমাদের জীবন রক্ষার জন্যেই প্রয়োজন”।

যে সকল ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ জলবায়ু চুক্তির প্রতি সমর্থন ব্যাক্ত করেন তার মধ্যে ছিলেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তধর্মীয় সংঘঠন United Religions Initiative যা ৯৪টি দেশের আন্তধর্মীয় সংগঠনের সমন্বয়কারী সংগঠনের বৈশ্বিক চেয়ারপার্সন Kiran Bali. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যা, ক্ষরা, ঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ, খাদ্যাভাব পূরণ, জীবাশ্ম জ্বালানীকে নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে রূপান্তর, দুষন রোধ, তাপমাত্রা বৃদ্ধ রোধসহ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সব ধরনের প্রস্তুতি দ্রুত গ্রহনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান তিনি।

“একজন ধর্ম বিশ্বাসী হিসাবে আমি আপনাদের সকলের প্রতি আহবান জানাই, যে যার বিশ্বাস থেকে, অবস্থান থেকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করে এই গ্রহটিকে, এই ধরিত্রীকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হোউন”।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বাংলাদেশের অন্তরায়গুলো কি কি এ প্রশ্নে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,

"বাংলাদেশ চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। দেশের মাটি পানি বাতাস সবই দূষিত। অবিলম্বে তা রোধ না করলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হুমকীর মুখে"।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে হঔয়া চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কি ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে বিষয়ে কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন।

"প্যারিস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নিলেও সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নেয়া যে সমঝোতা হয় তা বাস্তবায়নে তেমন প্রস্তুতি নিতে পারেনি"।

তিনি বলেন বাংলাদেশে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়াস বৃদ্ধি এবং এসব কাজে আন্তর্জতিক মহলের পক্ষ থেকে আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

XS
SM
MD
LG