অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে পরিবর্তন আসবে মনে হয় না: এলিসা আয়ার্স


যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক একদিকে যেমন নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে অপর দিকে এই সফর দক্ষিন এশিয়ার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি এয়াশিংটনে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন।

যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক ভারত সফর এবং মোদী ওবামা বৈঠকের মধ্য দিয়ে নতুন করে দক্ষিন এশিয়ায় যুক্তরাস্ট্রের কি প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে বক্তারা বলেন দু নেতার বৈঠক যতোটা আনুষ্ঠানিক ছিল ততোটা কাজের হবে বলে মনে হয় না।

“সফরটি সফল ছিল। ভারতীয়দের মধ্যে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে এই সফরের ফলাফল আসলে আশা-প্রত্যাশার মধ্যে আপতত সীমাবদ্ধ। এটি কোনো অর্জন নয়”।

বললেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাস্ট্রের সাবেক রাস্ট্রদূত রবার্ট ব্ল্যাকউইল। তিনি বলেন প্রেসিডেন্ট ওবামার ভারত সফরটি সফল এই অর্থে যে ভারতীয়দের মধ্যে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে মোদী-ওবামা বৈঠকে যে সকল ক্ষেত্র নিয়ে কথা হয়েছে তার বাস্তবায়ন কতোটা হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।

যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফর, ভারতের নতুন মোদী সরকারের কি ধরণের প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পারে সে প্রশ্নে যুক্তরাস্ট্রের দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক সাবেক উপ সহকারী পররাস্ট্রমন্ত্রী এলিসা আয়ার্স বললেন বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। ভারতের আগের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছিল নতুন মোদী সরকার সেই সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করবে এবং অর্থণৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক কর্মকান্ডকেই শক্তিশালি করবে।

“এ প্রশ্নে বলা যায় মোদী, ঠিক আগের সরকারের সময়ে দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে যে নীতি ছিল তাই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন; সম্পর্ককে মোদী আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে চেষ্টা করবেন”।

এলিসা আয়ার্স বলেন বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে চাচ্ছে ভারতের নতুন সরকার। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বিস্তৃত করার কাজে বাংলাদেশ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।

“ভারতের আগের সরকারের সাথে বাংলাদেশের করা সীমান্ত সমস্যা চুক্তি, তিস্তার পানির অংশীদারিত্বসহ সব বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে মোদী সরকার। আশা করি সীমান্ত চুক্তি পাশ হবে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে”।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাস্ট্র নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো স্টিফেন পি কোহেন বলেন, বারাক ওবামার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে বানিজ্যিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামরিক খাতসহ নানা বিষয়ে দু’দেশের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হল।

রাস্ট্রদূত ব্ল্যাকউইল বলেন ওবামার ভারত সফরে দু’দেশের মধ্যে কোনো কৌশলগত অংশীদারিত্বের চুক্তি না হলেও-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালি হয়েছে।

“পিটার বেকারের মতে যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ৪৫ মিনিট বৈঠকে চীন নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সম্ভবত সকল ইস্যুতেই ভারত-যুক্তরাস্ট্রের নীতিতে অনেক ফারাক রয়েছে। বলা যায় কোনো কৌশলগত অংশীদারিত্ব এখনো হয়নি, তবে শক্তিশালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে”।

প্রেসিডেন্ট ওবামা ওবং নরেন্দ্রো মোদীর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বানিজ্য, সন্ত্রাস প্রতিরোধ, সামরিক খাত, পারমানবিক বিষয়, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও তারা বলেন ২০১৬ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর ভারতসহ প্রতিবেশীরা আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকায় পড়বে।

“২০১৬ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাস্ট্র সেনা প্রত্যাহার করার পর কি হবে তা নিয়ে সকলেই শংকায় রয়েছে। এর প্রভাব পড়বে চরম”।

রাস্ট্রদূত ব্ল্যাকউইল বলেন, নরেন্দ্রো মোদী যতো যাই করুক তার প্রধান লক্ষ্য অর্থণৈতিক প্রবৃদ্ধি। আর তা সফল করতে মোদী তার পররাস্ট্র নীতিতে চীন রাশিয়া ইরান সকলের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক রাখবেন।

“মোদীর ভিশন হচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরীন অর্থণৈতিক প্রবৃদ্ধি। তার এজেন্ডা একটাই। এজন্য যতোটা যুক্তরাস্ট্রের সঙ্গে ঠিক ততোটাই চীনের সঙ্গেই সম্পর্ক পাতাবে ভারত। চীন যুক্তরাস্ট্র রাশিয়া ইরান সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক করার চেস্টা করবে। যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি করা হয়েছিল; এটি অবাক হবার নয় যদি আগামী বছর শি জিন পিং প্রধান অতিথি হন”।

ভারতের জাতীয়তাবাদের ভবিষ্যৎ কি এমন প্রশ্নে রাস্ট্রদূত ব্ল্যাকউইল বলেন হিন্দু রাস্ট্র বলা হলেও ভারতের ১৭০ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি মুসলমান। তাই প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় বিতর্কে জড়াতে চাচ্ছেন না।

“কিন্তু রাজনীতি করতে হলে বিজেপির হিন্দু রাস্ট্র রক্ষার চেতনা তার মানতে হবে। তাই এটা তার জন্যে সামনে রয়েছে বড়ো চ্যালেঞ্জ”।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচকদেরকে প্রশ্ন করেন।

XS
SM
MD
LG