অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বস্তির স্বাস্থ্য নিয়ে ঢাকায় টাউন হল মিটিং অনুষ্ঠিত


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

গ্রামীণ বাংলাদেশ দ্রুত নগর বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে। সকলে যখন শহরমুখী হচ্ছেন, তখন শহর নিয়ে নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে কোন চিন্তা করা হচ্ছে না। অন্যদিকে শহরের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠা বস্তিগুলোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও নেই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ। এটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ‘বস্তিতে স্বাস্থ্য: বাংলাদেশের অতি দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা’শীর্ষক এক টাউন হল মিটিংয়ে গত বৃহস্পতিবার তাঁরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ইউএসএআইডি ও ভয়েস অব আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে এবং রেডিও টুডে’র সহযোগীতায় ঢাকার ব্র্যাক ইন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই মিটিংয়ে বক্তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বস্তিবাসীর জন্য বেশকিছু স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও এই সেবাগুলো নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আগামীতে নগরের জনগোষ্ঠী হয়ে উঠছে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে নগরস্বাস্থ্যও একটি মূল চ্যালেঞ্জ হবে। সেক্ষেত্রে গ্রামের মতো করে স্যানিটেশন সমস্যা সমাধান হবে না। বরং নতুন ধরণের সমাধান বের করতে হবে। সরকার এটি একা করতে পারবে না। সমাজের সবাইকে সহযোগীতা করতে হবে। তিনি গণমাধ্যমর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
ইংরেজী দৈনিক নিউ এইজ সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, পৃথিবীতে কেউ তার বাস্তুভিটা ছেড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে চায় না। আইনগত, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রাপ্য নাগরিক সুবিধাগুলো পেলে কেউই চেনা পরিজন-পরিবেশ ছেড়ে শহরের দিকে ছুটবে না।
মিটিংয়ে বস্তির স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কথা বলেন রাজধানীর বিভিন্ন বস্তির প্রতিনিধিরাও। এদেরই একজন ফাতেমা আক্তার। তিনি বলেন, “বস্তিতে এমনিতেই কষ্টে থাকি। এর উপর খাবার পানি পাই না। পানির অভাবে নানা রোগ তো হচ্ছে। ফুটানো পানি খেতে পারলে আমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকতো। আর বস্তিতে অনেক কাচরার (আবর্জনা) মধ্যে আমরা থাকি”।
মিটিং শেষে বস্তির স্বাস্থ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপি কর্মশালায় অংশ নেয়া বাংলাদেশের ২৭ জন সাংবাদিকের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং নুরুল কবীর।
দুদিনের কর্মশালা শেষে অনুষ্ঠিত টাউন হল মিটিং প্রসঙ্গে ভয়েস অফ আমেরিকা’র ব্রডকাস্টার সরকার কবির উদ্দিন বলেন, “যিনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ও যিনি নিচ্ছেন-দুয়ে’র মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের প্রক্রিয়া থাকাটা জরুরি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, গত দু’দিনের কর্মশালায় যা যা করেছি ও আজকের টাউন হল মিটিংয়ের মধ্যে যেভাবে বস্তিবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করেছি তাতে এই কর্মসূচী সফল হয়েছে”।
সরকার কবির উদ্দিনের সঞ্চালনায়, অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউএসএআইডি বাংলাদেশের ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর পল সেবাটিন, ইউএসএআইডি’র কর্মকর্তা ড. শারমিনা সুলতানা ও ড. সুকুমার সরকার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী প্রমুখ।

XS
SM
MD
LG