অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হৃদরোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাক সাথে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) অথবা দুরারোগ্য ক্যান্সার,উচ্চ রক্তচাপ – যে কটা রোগের নাম বললাম তার সবগুলোর ঝুঁকি থেকেই আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে ।
কখনও ভেবে দেখেছেন কি, আপনার দান করা মাত্র ৩৩০মিলি রক্ত অর্থাৎ এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে ।

‘রক্ত আমাদের সংযুক্ত করে’ প্রতিপাদ্যে ১৪ জুন বাংলাদেশে পালিত হল বিশ্ব রক্তদাতা দিবস । দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারী ও বেসরকারী নানা সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে । কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক সুরাইয়া রহমান,বলছিলেন প্রতিবছর ৬ লক্ষ ব্যাগ চাহিদার বিপরীতে ৬০ ভাগ রোগীর আত্মীয়-স্বজন ব্যবস্থা করেন,৩০ ভাগ সংগৃহীত হয় স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছ থেকে আর বাকি ১০ ভাগ আসে পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে । এই ১০ ভাগই বেশী ঝুঁকিপূর্ন বলে বিবেচিত হয় ।

বর্তমানে প্রায় ৭০-৭৫% প্রসূতি মায়ের সন্তান জন্ম দেয়ার সময় রক্তের প্রয়োজন হয় । এছাড়াও দূর্ঘটনা,রোগীর অস্ত্রোপচার সহ নানা কারণে বিশুদ্ধ রক্তের চাহিদা সবসময়ই থাকে । স্বেচ্ছা রক্তদাতার সংখ্যা গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকগুন । কিন্ত তারপরেও ৬০ হাজার ব্যাগ রক্ত ঘাটতি থেকে যায় প্রতি বছর ।
রক্তদানে ভয়,কুসংস্কার আর অবহেলাকেই দায়ী করলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. অধ্যাপক মনির । রক্ত কারা দিতে পারবেন এবং কতদিন পর পর রক্ত দিতে পারবেন সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, প্রাপ্ত বয়ষ্ক সুস্থ্য একজন মানুষ প্রতি চারমাস অন্তর এক ব্যাগ করে রক্ত দান করতে সক্ষম । এতে শরীরের কোন ক্ষতি হয় না বরং নতুন রক্ত কণিকা জন্ম নেয় এবং শরীর রোগমুক্ত থাকে ।

স্বাভাবিক রক্তচাপ এবং সর্বনিম্ন ৪৫ কেজি ওজনের ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী একজন মানুষ প্রতি চার মাস পর পর রক্ত দান করতে পারেন । ৫০ কেজি ওজনের একজন পুরুষের শরীরে ১৩০০ মিলি লিটার এবং একজন মহিলার শরীরে ৮০০ মিলি লিটার রক্ত থাকে । এক ইউনিট বা এক ব্যাগ রক্তে থাকে মাত্র ৩৫০ থেকে ৪৫০ মিলি লিটার রক্ত ।
রক্তদান শুধু মাত্র রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা না,একজন মুমূর্ষ মানুষের পাশে দাঁড়ানো । সাথে সাথে ধর্মীয় দিক থেকেও পবিত্র কাজ । কিন্তু সবসময় খেয়াল রাখতে হবে রক্তদানে এবং গ্রহনে যেন সঠিকভাবে তা পরীক্ষা করে নেয়া হয় ।

শরীফ উল হক,
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার ।
সহযোগিতায় – ইউএসএআইডি এবং ভয়েস সব আমেরিকা ।

XS
SM
MD
LG