অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে – পৃথিবীতে সংঘর্ষ – দূর্যোগের মধ্যে মানবিক সহায়তা মানুষকে যথেষ্ট সাহায্য করে। আজ বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত রিপোর্টে এ কথা বলে হয়েছে।
জেনিভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর কার্যালয় থেকে ভয়েস অফ আমেরিকার লিসা শ্লাইনের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার
যুদ্ধবিগ্রহ, বন্যা-খরা-ঘূর্ণীঝড় মানুষের নিত্য জীবনধারা একেবারে যেন ভেঙ্গে গূঁড়িযে দেয়। অনেক ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। আর তখনই প্রয়োজন হয় মানসিক সহায়তার। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হয় যে, জরুরী পরিস্থিতিতে সেই মানসিক সাহায্যটাই কেউ তেমন পায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্য ও মাদকের অপব্যবহার বিভাগের কর্মকর্তা মার্ক ভন ওমারেন উল্লেখ করেন যে, বহু মানুষ বিপর্যয়কারী পরিস্থিতির শিকার হয়, এবং তাদের দীর্ঘকালের সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণেই তাদের অনেক দিন ধরে চিকিত্সা সাহায্যের প্রয়োজন। তিনি বলেন জরুরী পরিস্থিতির ফলে আবার ভালভাবে চিন্তা ভাবনা করে সুষ্ঠু একটা চিকিত্সা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও সুযোগ আসে, বিশেষ করে মানসিক চিকিত্সার দিকেও মনোযোগ দিতে হয়। তিনি বলেন বিকাশমুখী দেশগুলোতে যে ধরণের সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে - মার্ক ভন ওমারেন বললেন, ‘ওই ধরণের ব্যবস্থা যাদের প্রয়োজন, তাদের সবার জন্যই সরবরাহ করা উচিত, এবং যাদের ধরুন আগে থেকেই কোন মানসিক সমস্যা আছে তাদের জন্যও থাকা উচিত। এটা খুবই জরুরী বিষয়। কারণ বিশ্বে অনেক জায়গাতেই মানসিক চিকিত্সার কোন ব্যবস্থা নেই। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোন দেশে, সমাজে যখন এই ধরণের গুরুতর পরিস্থিতি দেখা দেয়, তখন সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য, সমাজের উন্নতির জন্য, মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হয়’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১১০ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে জরুরী কোন পরিস্থিতি দেখা দিলে বা তারপর কিভাবে মানসিক সহায়তা প্রদান সম্ভব তা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১০টি দেশের কথা রয়েছে যেখানে জরুরী পরিস্থিতির মাঝে এই ধরণের একটা সুযোগের সদ্ব্যবহার করা হয়। এমনি একটি দেশ হচ্ছে শ্রীলংকা। ২০০৪ সালের প্রলয়ংকারী সুনামির পর, সরকার নতুন এক জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম গড়ে তোলেন।
আরেকটি দেশ ইরাক। ডঃ ভন ওমারেন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে দিনটিতে এই মানবিক দিবসের রিপোর্ট করছে, আজ থেকে ১০ বছর আগে বাগদাদে জাতিসংঘ সদর দফতরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ২২জন নিহত হয়। যাদের মধ্যে ছিলেন ইরাকে জাতিসংঘের প্রতিনিধি সারগিও ভিয়েরা দ্য মেলো। তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের পর থেকে ইরাক মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট এগিয়েছে। ইরাকে ডাক্তারদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানসিক রোগের চিকিত্সার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। যা আগে কেবল বড় বড় শহরেই সম্ভব ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভাল’।
অন্যান্য কয়েকটি দেশেও এই ধরণের উন্নতি দেখা যায়, যেমন আফগানিস্তান, বুরুণ্ডি, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ্ প্রদেশ, জর্ডান, কসোভো, সোমালিয়া, তিমোর, পশ্চিম তট ও গাজা ভূখণ্ড।world humanitarian day
XS
SM
MD
LG