অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বাধা হচ্ছে দুর্নীতি: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের প্রতিবেদন


বাংলাদেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। যদিও দেশটি নিম্ন আয়ের দেশ হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য স্থান পেয়েছে। এ সম্পর্কে ঢাকা থেকে আমাদের সংবাদদাতা মতিউর রহমান চৌধুরী জানাচ্ছেন বিস্তারিত।

বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে আছে এ দেশটি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা দুর্নীতি। আইনের শাসনের পথে আরেকটি বাধা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থা। সরকারের উন্মুক্ততার দিক থেকে অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত। বিশেষ করে মিডিয়ার ক্ষেত্রে তা তলানিতে। এক্ষেত্রে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাধীনতাও সামান্য। আইন লংঘনের দায়ে পুলিশকে শাস্তি দেয়ার ঘটনা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। এসব কথা বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) এক প্রতিবেদনে। এ বছর বিশ্বের মোট ১০২টি দেশের ওপর তারা সম্প্রতি এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের নাম দেয়া হয়েছে ‘ডব্লিউজেপি রুল অব ল ইনডেক্স ২০১৫’। এ তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে নিচের দিকে ৯৩ নম্বরে অবস্থানে। গত এক বছরে আইনের শাসনের সূচকগুলোর কি পরিবর্তন হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে এতে। প্রতিবেদনে কার্যকর আইনের শাসনের সুফল সম্পর্কে বলা হয়েছে কার্যকর আইনের শাসন দুর্নীতি কমায়, দারিদ্র্য ও রোগব্যধির লাঘব করে এবং জনগণকে অবিচার থেকে সুরক্ষা দেয়। সরকারি ক্ষমতার সংযত প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বে ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তে। দুর্নীতির অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রয়েছে ৯৮ নম্বর অবস্থানে। উন্মুক্ত সরকারের ক্ষেত্রে ৭৩ নম্বরে। মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে ৮৮ নম্বরে। আইন শৃংখলা ও নিরাপত্তার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬ নম্বরে। প্রয়োগকারী সংস্থার দিক দিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ৯৬ নম্বরে। দেওয়ানি বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম।

বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এখানে মিডিয়ার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে শতকরা মাত্র ২৮ ভাগ। রাজনৈতিক দলগুলোর মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে শতকরা ৩১ ভাগ। সুশীল সমাজের সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা আছে শতকরা ৩১ ভাগ। জনগনের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে শতকরা ৪০ ভাগ। বাংলাদেশের মানুষ সমস্যার সমাধানের জন্য ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দ্বারস্থ হবে কি না এ সম্পর্কে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে দুর্নীতি বেশ প্রবল। সেখানে কি প্রতিকার মিলবে সে বিষয়ে সচেতনতার অভাব আছে। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের বিরুদ্ধে রয়েছে পক্ষপাতিত্বের জোরালো অভিযোগ।

XS
SM
MD
LG