অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

লণ্ডনে মহাসমারোহে ২০১২ সালের অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক শেষ হয়েছে: মূল্যায়ন

  • রোকেয়া হায়দার

লণ্ডনে মহাসমারোহে ২০১২ সালের অলিম্পিক, এবং প্যারালিম্পিক দুটি প্রযোযগিতাই শেষ হয়েছে। কিন্তু তার রেশ যেন মিলিয়ে যায়নি। এখন অলিম্পিক পরবর্তী খতিয়ান চলছে। ভবিষ্যতের উন্নয়নেরও চিন্তা ভাবনা শুরু হয়ে গেছে। দর্শক-ভক্ত যারা ঘরে ফিরেছেন, তাদের মনেও বিশেষ মূহুর্তগুলোর ছবি ভেসে উঠছে।
এই নিয়েই কিছু কথা, শুনবো আমরা রোকেয়া হায়দারের কাছে।
যুব সংবাদ
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট জ্যাক রোগ্যাঁ আর প্যারালিম্পিকের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রেসিডেন্ট স্যার ফিলিপ ক্রেভেন দুজনারই মন্তব্য – ‘লণ্ডনে অলিম্পিক – প্যারালিম্পিকের এ ছিল সেরা প্রতিযোগিতা’। জনতার বিপুল হর্ষধ্বনির মাঝে অলিম্পিকের শত শত খেলোয়াড় বিশেষভাবে সাজানো ২১টি যানে লণ্ডনের কেন্দ্রস্থল দিয়ে এগিয়ে গেলেন। দর্শক ভক্তরা চিত্কার করে তাদের অপূর্ব অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ‘প্যারালিম্পিক শেষ হওয়ার পরের দিনই তো আর সবাই ঘরে ফিরে যায়নি। টেলিভিশনে খেলা দেখা আর বাস্তবে চোখে দেখার অনেক পার্থক্য’। সে কথাই সবার মুখে মুখে ‘আর যারা প্রায় ১ মাস ধরে এই বিরাট উত্সবের প্রস্তুতিতে কাজ করেছেন তাদের দুঃখ সব কোলাহল শেষ হয়ে গেল’।
‘এই যে দেখতে পাচ্ছেন যেন সেই - বেলা যে ফুরায় আঁধার ঘনায়, পাখীরা ফিরে যায় নীড়ে’।
তবে অনেকেই গর্বিত। তারা মনে করেন এখানে যে আয়োজন সফল হয়েছে তারা তাতেই খুশী ৪ ‘অপূর্ব হয়েছে সব কিছু’।
আর প্রতিবন্দ্বী প্রতিযোগিরা যে কেবল চমত্কার পারফর্মেন্স দেখিয়েছে তাই নয়, নতুন নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় তারা চমক জাগিয়েছে। দুই প্রকৌশলী ডেভিড শেফিল্ড আর শন সিওয়েল বিশেষ ধরণের হুইল চেয়ার তৈরী করছেন। শন সিওয়েল ১৩ বছর আগে এক মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় দারুণভাবে জখম হন। তার পা আর ব্যবহার করতে পারেন না। আগামীতে খেলাধুলা করতে পারবেন সেটাই আশা করেন। নতুন হুইল চেয়ার সম্পর্কে ডেভিড জানালেন ‘আমাদেরকে এই চেয়ার তৈরীর কথা বলা হয়, এই চেয়ার যেভাবে ইচ্ছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা যাবে। কেবল শনই নয়, যে কোন খেলোয়াড়ের জন্য তা কাজে লাগবে’।
শন ২০০৮ সালে বেজিংএ যাওয়ার জন্য তৈরী ছিলেন কিন্তু অসুস্থতার কারণে হয়ে ওঠেনি ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিওতে যাওয়ার আশা করেন। এই নতুন হুইল চেয়ার তাকে মাঠে নামতে সাহায্য করবে। শন বলেন, ‘আমি মনে করি এই চেয়ার অনেক সাহায্য করবে। আমি এখন শটপাটে অনেক দূর পর্যন্ত নিক্ষেপ করতে পারি। তবে এখন যে ফ্রেম আছে সেটা আমার জন্য ঠিক নয়, আশা করি নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা অনেক ভালভাবে খেলতে পারবো’।
দিনে দিনে প্রযুক্তিগত উন্নতি অনেক প্রতিবন্দ্বী খেলোয়াড়ের স্বপ্নসাধ পূর্ণ করবে সেই আশাই করি।
XS
SM
MD
LG