রবিবার, মে 19, 2013 স্থানীয় সময় 15.45

খবর

যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক: প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশ্লেষক লিউট্যান্টেট জেনারেল তালাত মাসুদের সাক্ষাত্কার

প্রতিবেদনের আকার - +
আনিস আহমেদ

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় পাকিস্তানে আল ক্বায়দার দ্বিতীয় অবস্থানের নেতা আবু ইয়াহিয়া আল লিবির   মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটার সাম্প্রতিক এই মন্তব্য যে পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র তার ড্রোন হামলা অব্যহত রাখবে কারণ  যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্যে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার প্রয়োজন রয়েছে, এ  রকম মন্তব্যের আলোকে আমি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশ্লেষক,  চিন্তক গোষ্ঠি পাগওয়াসের  সদস্য এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লিউট্যান্টেট জেনারেল তালাত মাসুদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার সর্বসাম্প্রতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে বললে, তিনি বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক এখন গুরুতর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভবত এই সম্পর্ক এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

গত কয়েক দশকের মধ্যে এত খারাপ এবং এত জটিল সম্পর্ক হয়নি দু দেশের মধ্যে। তিনি অবশ্য বলেন যে এর পেছনে নানান কারণ রয়েছে এবং উপর্যুপরি কিছু ঘটনা ও ঘটেছে। মার্কিন নাগরিক রেমন্ড ডেভিসের ঘটনা , ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার জন্যে অ্যাবটাবাদে  যুক্তরাষ্ট্রের এক তরফা অভিযান এবং দূর্ভাগ্যজনক সেই ঘটনা যেখানে ২৪ জন পাকিস্তানি প্রাণ হারায় এর সব কিছুই বিরাজমান উত্তেজনায় যুক্ত হয়েছে। তবে এই সব ঘটনার পাশাপাশি নীতিগত ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্র এবং  পাকিস্তানের মধ্যে মতভেদ রয়েছে । দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকা বলে আসছে যে পাকিস্তান যেন উত্র ওয়াজিরিস্তানে অবস্থিত হাক্কানি গোষ্ঠির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক কিন্তু পাকিস্তান এই মূহুর্তে সেখানে কোন রকম সামরিক অভিযান এড়ানোর চেষ্টা করছে। তা ছাড়া নেটোর সরবরাহ লাইন ও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে , পাকিস্তানের দাবি মতো যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা প্রার্থনা করতে ও অপরাগ। কাজেই নীতি এবং ঘটনা পরম্পরা দুটোই  এ দু দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সম্প্রতি ভারত সফরের সময়ে , ভারতকে আফগানিস্তানে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বলেছেন । কিন্তু আফগানিস্তানে ভারতের ভূমিকাকে পাকিস্তান বরাবরই সন্দেহের চোখে দেখেছে। এই বিষয়গুলোর নিস্পত্তি হবে কি ভাবে ?

তিনি বলেন যে পাকিস্তান এটা ভাল ভাবেই জানে যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতকে আফগাস্তিানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করছে এবং ভারত নিজেও এ ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী কারণ ভারত মনে করে যে এর ফলে কেবল আফগানিস্তানেই নয় গোটা মধ্য এশিয়াতেই সে তার প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। আর যেহেতু পাকিস্তান আর ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ভাল থাকেনি সেহেতু পাকিস্তান আফগানিস্তানে ভারতের ভূমিকা সম্পর্ক সংশয়ী হয়ে পড়ে। ও দিকে আফগানরা অন্তত আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার ও পাকিস্তানের প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন নয় । সুতরাং পাকিস্তান মনে করে যে সে দু দিক থেকেই শত্রু পরিবেষ্টিত।

কিন্তু প্যানেটা যখন  আফগানিস্তানে ভারতকে সক্রিয় হবার আহ্বান জানান , তখন তিনি মূলত ভারতকে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন  পুননির্মাণেই মূখ্য ভূমিকা গ্রহণ করতে বলেন , তাই নয় কি ? এ প্রশ্নের জবাবে লিউট্যান্টেট জেনারেল তালাত মাসুদ বলেন হ্যাঁ সে কথা সত্যি। ভারত এরই মধ্যে আফগানিস্তানে বড় রকমের বিনিয়োগ করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এর ভূমিকা রয়েছে। আর সে দিক দিয়ে আফগানরা বেশ খুশি। তবে এ সত্বেও পাকিস্তানের জন্যে সমস্যা হচ্ছে যে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে এক ধরণের সন্দেহ রয়ে গেছে। তবে দ্বিপাক্ষিক ভাবে এই দুটি দেশের সম্পর্ক উন্নত হলে , আফগানিস্তান সমস্যাকে দুটি  দেশ  এখনকার চেয়ে ভ্ন্নি ভাবে দেখবে।

আর লিওন প্যানেটাও বলেছেন সে কথাই। তিনি ভারতকেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বক্তব্যে পাকিস্তান কি খানিকাটা আশ্বস্ত হতে পেরেছে?

তিনি বলেন যে এই পরামর্শটা অত্যন্ত ভাল। আসলে যুক্তরাষ্ট্র , ভারতের নীতি কৌশলগত সহযোগি আবার সব রকমের সমস্যা সত্বেও পাকিস্তানের ও মিত্র এবং এই দুটি দেশ তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণেই পরস্পরকে ভাল ভাবে বুঝবে , আফগানিস্তান সহ সব ব্যাপারে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

এই ফোরাম বন্ধ হয়ে গেছে
মন্তব্য
     
এই ফোরামে কোন মন্তব্য নেই । আপনিই প্রথম কিছু মন্তব্য করুন

Hello America

Loading
১২.০০.০০ / -.--.--
চিত্র গ্যালারী

VOA 60 Bangla

Loading
১২.০০.০০ / -.--.--