অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

করোনা মহামারিতে অসহায় বিশ্বের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী


কোভিড-১৯ টিকা নেয়ার জন্যে বাংলাদেশের কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অপেক্ষা করছেন রোহিঙ্গারা। ফাইল ফটো- এএফপি

আটটি উন্নয়নশীল দেশে করা বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে বিশ্বে করোনা মহামারির কারণে বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর অবস্থা চরম খারাপ হয়েছে। বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদেরকে।

আটটি উন্নয়নশীল দেশে করা বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে বিশ্বে করোনা মহামারির কারণে বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর অবস্থা চরম খারাপ হয়েছে। বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদেরকে।

বাংলাদেশ, চাদ, জিবুতি, ইথিওপিয়া, ইরাক, কেনিয়া, উগান্ডা ও ইয়েমেনের ৯০ হাজার মানুষের ওপর করা জরিপের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জিনিভা থেকে আমাদের সহকর্মী লিসা স্লাইন তাঁর প্রতিবেদনে বলেন তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠী এবং তাদেরকে যারা আশ্রয় দিয়েছেন তারা সকলেই সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে মহামারির বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করছেন। তবে জরিপে দেখা গেছে উল্লেখজনক ভাবে জীবনের প্রতি হুমকিসহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।

জরিপে জোর করে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর ওপর সরকারি লক ডাউনের ভয়াবহ ও ব্যাপক প্রভাব তুলে ধরা হয়। মহামারির মধ্যে খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, কাজ চলে যাওয়া, আয় বন্ধ হওয়া, স্বাস্থ্য সেবার সুবিধা না থাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া এবং চলাফেরার স্বাধীনতাসহ নানা সংকট তাদেরকে প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠী বিষয়ক বিশ্ব ব্যাংক-জাতিসংঘ যৌথ ডেটা সেন্টারের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেফরি টেনার মনে করেন সংঘাত ও গ্রেফতার এড়াতে যে সকল পরিবার ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাস্তচ্যুত হয়েছেন তারা এখন নতুন করে জীবন রক্ষার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

পশ্চিম উগান্ডার বুটান্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজনকে টিকা দিচ্ছেন একজন স্বাস্থ্য কর্মী । ফাইল ফটো- এপি
পশ্চিম উগান্ডার বুটান্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজনকে টিকা দিচ্ছেন একজন স্বাস্থ্য কর্মী । ফাইল ফটো- এপি

জেফরি বলেন, “উদাহরণস্বরূপ উগান্ডায় প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন এবং চাদে প্রতি চার জনের মধ্যে তিনজন শরণার্থী বলেছেন সামগ্রিকভাবে মহামারির মধ্যে তাদের আয় অনেক কমে গেছে। ওইসব পরিবারের আয়ের দু ধরণের উত্স আছে। তাদের নিজস্ব আয় এবং সহায়তা। তাদের বেশিরভাগেরই কাজ চলে গেছে”।

তিনি বলেন, আয় কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য সেবা, বাচ্চাদের শিক্ষাসহ সর্বত্র সংকটের মধ্যে পড়া। টেনার বলেন, জরিপে অংশ নেয়া দেশগুলোতে খাদ্য সংকট একটি বড়ো সমস্যা।

“বাংলাদেশ, চাদ, জিবুতি, ইথিওপিয়া, ইরাক, কেনিয়া ও উগান্ডায় বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠী খাদ্য সংকটে পড়েছে। কেনিয়ায় শরনার্থীদের অর্ধেক বাড়িতেই প্রাপ্তবয়স্করা না খেয়ে থেকে বাচ্চাদেরকে খাওয়াচ্ছেন। ৭৫ শতাংশ শরণার্থী পরিবার তাদের প্রাত্যহিক খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করেছেন, অর্থাৎ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন”।

জরিপ প্রতিবেদনটি যারা তৈরি করেছেন তাদের মতে যে কোন দেশের জাতীয় পরিসংখ্যানে সাধারণত বাস্তচ্যুত জনগোষ্ঠীর হিসাব কমই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারা বলেন এ ধরণের তথ্য উপাত্ত যতো বেশি সংগ্রহ করা যাবে, মানবিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সংস্থাগুলো ততো বেশি তাদেরকে সহায়তার প্রয়াস বাড়াতে পারবে।

XS
SM
MD
LG