অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মুখোমুখি বিতর্কে তাঁদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন


দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মুখোমুখি বিতর্কে তাঁদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত প্রার্থী ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিস বুধবার রাতে ইউটাহের সল্ট লেক সিটিতে বিতর্কে মুখোমুখি হন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত প্রার্থী ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিস বুধবার রাতে ইউটাহের সল্ট লেক সিটিতে বিতর্কে মুখোমুখি হন।

দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মুখোমুখি বিতর্ক
please wait

No media source currently available

0:00 0:02:44 0:00


দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মুখোমুখি বিতর্কে তাঁদের পরিকল্পনা ও কর্মসূচী তুলে ধরেন। বিতর্ক শুরু হয় করোনা মহামারি নিয়ে।

কমলা হ্যারিস বলেন করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মাইক পেন্স বলেন ট্রাম্প প্রশাসন সফলভাবে করোনা বিস্তার রোধ করেছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কভিড-১৯ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে।

বিতর্কে কমলা হ্যারিস বলেন, "আমেরিকার জনগণ দেশের ইতিহাসে কোন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দেখেছে।"

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, ট্রাম্প প্রশাসনের কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে সফল প্রয়াসের পক্ষ সমর্থন করে বলেন, তিনি দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেখানে ২১০,০০০ জনের ও বেশী আমেরিকান নিহত হয়েছেন তা হয়তো আরও বেশি হতে পারতো।

তিনি বলেন প্রথম থেকেই ট্রাম্প এই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীন থেকে ভ্রমণ সীমিত করেছেন, যা জানুয়ারির শেষের দিকে তার বিস্তারের গতি কমিয়ে দেয়।

মাইক পেন্স বলেন, "এবং আমেরিকার জনগণের জানা উচিত, জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন থেকে সকল ভ্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।"

মাইক পেন্স বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কভিড পরীক্ষার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। দ্রুত টীকার জন্য প্রয়াস চালাচ্ছেন। এবং শীঘ্রই টিকা আসবে।

কমলা হ্যারিস টীকা উন্নয়নের জন্য ট্রাম্পের সময়সূচী নিয়ে প্রশ্ন করেন। বলেন,

"যদি ডাক্তাররা আমাদের বলেন আমাদের সেই টিকা নেওয়া উচিত, তাহলে আমিই প্রথম লাইনে দাঁড়িয়ে এটা নেব। কিন্তু যদি ডনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বলেন এটা নেওয়া উচিত, আমি নেবনা”।

মাইক পেন্স বলেন, "মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করুন। বাস্তবতা হচ্ছে এই বছর শেষ হওয়ার আগেই টীকা আসবে।

করোনা মহামারী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে বিপদের মুখে ফেলেছে অনেকে এই ধারনা পোষণ করলেও কমলা হ্যারিস বলেন যে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আগেই সমস্যা শুরু হয়।

কমলা বলেন, "চীনের সাথে তথাকথিত বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে আমেরিকা ৩০০,০০০ উৎপাদন কর্মসংস্থান হারিয়েছে।"

কমলার বক্তব্য খণ্ডন করে পেন্স বলেন, তা সঠিক নয়,

"চীনের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে কি আমরা হেরে গেছি? জো বাইডেন কখনো এ নিয়ে লড়াই করেনি। জো বাইডেন গত কয়েক দশক ধরে কমিউনিস্ট চীনের জন্য একজন নেতা”।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গের মৃত্যুতে ফাঁকা হওয়া সুপ্রিম কোর্টের আসন পূরণ করতে রক্ষণশীল বিচারক এমি কোনি ব্যারেটের মনোনয়ন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হন দুই প্রার্থী।

বিতর্কের প্রথম দিকে দুজনের মধ্যে কিছুটা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলেও সামগ্রিকভাবে ২৯শে সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের চেয়ে অনেক বেশী শান্ত পরিবেশ ছিল।

সল্ট লেক সিটির ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের চার সপ্তাহেরও কম সময় অনুষ্ঠিত বিতর্কে কমলা হ্যারিস বলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়ে বিতর্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ৫৫ বছর বয়সী হ্যারিস জ্যামাইকান পিতা এবং ভারতীয় মায়ের কন্যা।

৬১ বছর বয়স্ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ইন্ডিয়ানার প্রাক্তন গভর্নর।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি, আইন শৃঙ্খলা, অভিবাসন, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ, বর্ণ বৈষম্য ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে দেড় ঘণ্টার বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে।

এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশ্লেষক আন্দ্রা গিলেস্পি, বলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের কাজ হচ্ছে তাঁদের রানিংমেটদের ভুল এড়ানো।

"আমি মনে করি তারা তাতে সফল হয়েছেন। এখন, ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স ভিন্ন অবস্থানে আছেন, কারণ তিনি ক্ষমতাসীন প্রশাসনের অংশ, এবং তাই তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং সাফল্যের জন্য উত্তর দিতে হবে”।

আরেক বিশ্লেষক র‍্যান্ডলফ-ম্যাকন কলেজ অধ্যাপক রিচ মেঘার বলেন এই বিতর্ক এবারকার নির্বাচনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

"জনগণ ভাইস প্রেসিডেন্টকে ভোট দেয় না, তারা প্রেসিডেন্টকে ভোট দেয়। কিন্তু এই বছরটা আলাদা। এখন পর্যন্ত এবারের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সবচেয়ে বয়স্ক প্রার্থী। তাঁর ওপর একজন প্রার্থী যিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট, গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন’।

যদি রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মারা যান অথবা দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হন তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ইতিমধ্যে অনেক ভোটার কিছু রাজ্যে ডাকে ভোট দিয়েছেন। বাকিরা অপেক্ষা করছেন ৩রা নভেম্বর নির্বাচনের দিন পর্যন্ত।

XS
SM
MD
LG