অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নারীকন্ঠ: ভারতে প্রতিবাদ বিক্ষোভে মহিলাদের ভূমিকা


Protest in Delhi 1

শাগুফতা নাসরিন কুইন

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি শাগুফতা নাসরিন কুইন শুরু করছি আজকের নারী কন্ঠ।

আজ নারী কন্ঠে যে বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করব তা হচ্ছে ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভে মহিলাদের ভূমিকা।

please wait

No media source currently available

0:00 0:06:42 0:00

ভারতে বিতর্কিত একটি নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে, তাতে হাজার হাজার ছাত্রী এবং রক্ষণশীল মুসলিম মহিলা অংশ নিচ্ছে। সমালোচকরা বলেন ওই নতুন আইন মুসলিম বিরোধী। যে রক্ষণশীল মুসলিম মহিলারা খুব কম প্রকাশ্যে বার হন তারাও ওই বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন।

নতুন আইনে, মুসলমান ছাড়া, ৬টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকজন যারা নিগৃহিত হওয়ার কারণে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়েছে তারা দ্রুত নাগরিকত্ব পাবেন। ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। ভয়েস অফ আমেরিকার সংবাদদাতা আঞ্জানা পাসরিচা অনেক মহিলার সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান কেন তারা প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

নতুন দিল্লীতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী দাবী করছেন যে ভারত সরকার ওই নতুন আইন যা প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আগত নিগৃহীত সংখ্যালঘু লোকজনকে নাগরিকত্ব দেবে এবং তাতে ধর্মকে একটা মানদন্ড হিসেবে ব্যবহার করছে তা খারিজ করে দিক। ওই প্রতিবাদকারীদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ফজিয়া। তিনি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ফজিয়া বলেন, "ভারত মুসলমানদের ছাড়া সব ধর্মের লোকজনকে গ্রহণ করবে। এতে সরকার অসমতা সৃষ্টি করছে। সরকার দেশের মৌলিক কাঠামোর ক্ষতি করছে।”

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অনেক মহিলা “স্বাধীনতা” ধ্বনি তুলছিলো। তাদের মুখ ঢাকা ছিল। তারা তাদের নাম প্রকাশ করছেন না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বয়সী – অল্প বয়সী গৃহিণীরা, মা’রা। সাধারণত এরকম দেখা যায়না। ভারতে মুসলমানরা কখনও প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয়না। তাছাড়া অধিকাংশ মুসলিম মহিলা জনসমক্ষে তেমন বার হননা।

এখন জনগন আশংকা করছে যে এই নতুন আইন মুসলমানদের দ্বিতীয় ক্লাস নাগরিকে পর্যবসিত করবে। এই আশংকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে মহিলাদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই যাচ্ছে। ওদিকে ভারত সরকার ওই আইন সমর্থন করে বলছে এই পদক্ষেপ সংবেদনশীল।

কিন্তু সরকার, প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমন করার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে ক্রোধ আর অস্থিতিশীলতা আরও বড়ছে। সম্প্রতি পুলিশ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে তখন যারা আহত হয়, তাদের মধ্যে একজনের মা হচ্ছেন রাবিয়া।

রাবিয়া বললেন, “আমরা যারা এ ধরনের পোশাক পরি খুব কমই আমরা বাড়ি থেকে বার হই। কিন্তু পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সে কারণেই আমি এখানে উপস্থিত। যতদিন না তারা এই বিল খারিজ করবে আমি প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেবো।”

বিক্ষোভকারীরা আরও দাবী জানাচ্ছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার যেন -- নাগরিক পঞ্জী বার করার পরিকল্পনা বাতিল করে।

নাগরিক পঞ্জীতে সব ভারতীয়কে প্রমান দেখাতে হবে যে তারা নাগরিক। সরকার যে আশ্বাস দিচ্ছে যে ভারতীয় মুসলমানরা তাদের নাগরিকত্ব হারাবে না – ওই আশ্বাস মুসলমানদের আশংকা দূর করতে পারছে না যে নতুন আইনের অধীনে তারা বাদ পড়লে, তারা এক স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে পড়বে।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী হচ্ছেন জাকিরা রুহী। তিনি বললেন, " প্রথমত কেন, কেন আমাদেরকে আমাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে? আমাদের পূর্বপুরুষরা এই দেশের জন্য লড়াই করেছে।”

বহু অমুসলিম যারা আশংকা করে যে এই আইন ভারতের ঐতিহ্যবাহী একাধিকত্ব সমাজের ক্ষতি করছে তারাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রতিবাদ বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী সুমেধা পোদ্দার। তিনি বললেন, “আমি হিন্দু। এই বিলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি কারণ দেশের অন্যান্য নাগরিকরা ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জামিয়াতে এক বছর –দেড় বছর ধরে আমার অনেক মুসিলম বন্ধু হয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে আমার টিফিন শেয়ার করেছি। ঈদের সময় আমি তাদের বাড়িতে গেছি। আমি তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠান উদযাপন করেছি।."

দেখা যাক এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ কতদিন অব্যাহত থাকে। মুসলিম ও মোদীর সমালোচকদের মধ্যে একটা আশংকা দানা বেঁধে উঠেছে যে মোদীর সরকার হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

XS
SM
MD
LG